করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে দেশের সব বিমানবন্দর

কূটনৈতিক রিপোর্টার

প্রথম পাতা ৩ জুন ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৫৪

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইইউ’র অভ্যন্তরীণ এবং বহির্বিশ্বে বিমান চলাচল সংক্রান্ত নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভালে সর্বোচ্চ ক্ষমতাপ্রাপ্ত দ্য ইউরোপিয়ান এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইআসা) ২৭শে মে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা বিমানবন্দরগুলোর একটি  তালিকা করেছে। করোনাকালে বা কোভিড-১৯ বিবেচনায় এটা তাদের প্রথম রিপোর্ট বা তালিকা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে দুনিয়াজুড়ে খ্যাতি পাওয়া কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত ডাটা, তাদের মূল্যায়ন এবং সহায়তায় রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রধানতঃ ইউরোপের এয়ারপোর্টগুলোর ঝুঁকি চিহ্নিত করা রয়েছে। তবে থার্ড কান্ট্রি হিসাবে এশিয়া, আমেরিকাসহ দুনিয়ার বেশ কিছু দেশের বিমানবন্দরের নাম স্থান পেয়েছে। অতি বা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দরের তালিকায় বাংলাদেশের সব ক’টি বিমানবন্দর স্থান পেলেও দক্ষিণ এশিয়ার ৪ দেশ ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার কোনো বিমানবন্দরের নাম এতে নেই। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানী খাতে গার্মেন্টস-এর আলোচনায় পূর্ব এশিয়ার যে দু’টি দেশের নাম ঢাকায় অহরহ উচ্চারিত হয় সেই ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার কোনো বিমানবন্দরের নামও সেই ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় নেই। তবে সার্কভুক্ত পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সব বিমানবন্দর এবং বাংলাদেশের প্রতিবেশি ভারতের সর্বাধিক সংক্রমিত ৬টি রাজ্যের সবগুলো বিমানবন্দরের নাম এতে স্থান পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞ মত: ইইউ’র রিপোর্টে করোনা সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে কেবল বাংলাদেশ নয়, এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলে থাকা বিমানবন্দরগুলো যখন স্থান পেয়েছে তখন, বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়ার তাগিদ দিয়েছেন দেশিয় এভিয়েশন এক্সপার্ট এবং পেশাদার কূটনীতিকরা। তারা বলছেন, বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগে প্রধান মাধ্যম হচ্ছে এয়ারপোর্ট। সুতরাং করোনা বা কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে এয়ারপোর্টের ‘হাইজিন সেফটি’ এখন মূখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। যে কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে করোনা উত্তরকালের যোগাযোগে এটাই হবে বিবেচ্য। জাপান ক’দিন আগে ১১টি দেশের সঙ্গে বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত সেই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। এবার এলো ইউরোপের রিপোর্ট! সঙ্গে অবশ্য সেফটি নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট গাইড লাইন্সও প্রকাশ করেছে ইইউ। ইউরোপীয়ান এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি তাদের রিপোর্টে ক্যাটাগরিক্যালি বলেছে, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় দেশগুলোর অবস্থান, পরিস্থিতির উন্নতি বা অবনতির মূল্যায়ন, সায়েন্টিফিক ডাটা ইত্যাদি বিবেচনায় বিমানবন্দরে তালিকা বা রিপোর্ট নিয়মিত আপডেট করা হবে। ঢাকার বিশ্লেষকরা মনে করেন, এয়ারপোর্টের সেফটির মধ্যেই সব কিছু সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি ক্রমেই সার্বিক ‘হাইজিন সেফটি’তে রূপ নেবে। গোটা দুনিয়াজুড়েই তা হবে। সুতরাং ঢাকাকেও এর সঙ্গে তাল মিলাতে হবে এবং সে পথেই যেতে হবে।
সাভারে রানাপ্লাজা ধ্বস, তাজরীণে অগ্নিকাণ্ড কিংবা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কার্গো পরিবহনে যথাযথ স্ক্যানিং না হওয়ার অভিযোগে দুনিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে চড়া মাশুল গুনতে হয়েছে স্মরণ করে একজন বিশ্লেষক বলেন, করোনা পরবর্তী দুনিয়া আরও কঠিন এবং নিষ্ঠুর হবে। প্রতিযোগিতা হবে প্রচণ্ড। দুনিয়াকে এরইমধ্যে ‘সেফ প্রোডাকশন’, ‘রেসপনসিবল ম্যানুফেকচারিং’- এর আওয়াজ উঠতে শুরু করেছে। এটি কোথায় গিয়ে ঠেকে তা সময়ই হয়তো বলে দেবে।
এভিয়েশন এক্সপার্ট মনিটর সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলম মনে করেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশও মানিয়ে নিতে পারে। তবে তার আগে পরিস্থিতির উন্নতি দৃশ্যমান করতে হবে। একই সঙ্গে উন্নতির বিশ্বাসযোগ্য তথ্য কূটনীতিক তথা আন্তর্জাতিক সংস্থা-সংগঠনের প্রতিনিধির মাধ্যমে দুনিয়াকে জানাতে হবে। তাহলে উচ্চঝুঁকির তালিকা থেকে বাংলাদেশের বিমানবন্দরগুলোর নাম যেমন বাদ পড়বে তেমনি বিদেশিদের আস্থাও ধরে রাখা যাবে। তারা বলেন, করোনা কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, এটি দুনিয়াকে তছনছ করে দিচ্ছে। কিন্তু তারপরও আশাজাগানিয়া খবর আছে।  ইউরোপের মৃত্যুপুরি খ্যাত ইতালি, স্পেন,  ফ্রান্স এমনকি ইংল্যান্ডও লাখ লাখ কোভিড-১৯ রোগী সামলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। কারণ তারা সিস্টেমেটিক অ্যাপরোচ বা উদ্যোগ নিয়েছে। আমেরিকাও নিশ্চিতভাবে তাদের অবস্থার উন্নতি ঘটাতে সক্ষম হবে, যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং রাজ্যগুলোর গভর্ণরের অফিসের মধ্যে কোভিড ১৯ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে মতপার্থক্য বা ভিন্নমত বিদ্যমান। ওই সব দেশে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়েছে করোনা, এখনও মৃত্যু থামেনি। অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। তবুও তারা জীবনেরই জয়গান গাওয়ার চেষ্টা করছে। জীবিকা বা অর্থনীতিকে প্রায়োরিটি দেয়ার বিষয়ে তারাও দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে উন্নত রাষ্ট্রগুলো জীবনকেই সামনে রাখছে। উন্নয়নশীল বা মধ্যম আয়ের দেশগুলো এখনও দ্বিধায়, ফলে তাদের সঙ্কটটা প্রলম্বিত হওয়ায় আশঙ্কাই বেশি।
ইউরোপের যেসব বিমানবন্দর উচ্চঝুঁকিতে: ইইউ’র রিপোর্টে কভিড-১৯ সংক্রমণে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ  হিসেবে চিহ্নিত হওয়া ইউরোপের বিমানবন্দরগুলো হলো- ফ্রান্সের ইলে-ডে-ফ্রান্স, ইতালির এমিলিয়া রোমানা, লোম্বার্ডি, পিয়েমন্তে ও ভেনেতো, নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডাম শিফোল এয়ারপোর্ট, আইন্দহোফেন এয়ারপোর্ট, মাসট্রিস্ট আচেন এয়ারপোর্ট ও রটারড্যাম দ্য হেগ এয়ারপোর্ট, পোল্যান্ডের ক্যাটোভিচ এয়ারপোর্ট, পর্তুগালের ফ্রান্সিসকো সা কার্নেইরো এয়ারপোর্ট ও লিসবন পোর্তেলা এয়ারপোর্ট, স্পেনের কাস্তিলে অ্যান্ড লিওন, কাস্তিলা-লা মানচা, কাতালোনিয়া, মাদ্রিদ, সুইডেনের স্টকহোম, ব্রাজিলের আমাজোনাস, বাহিয়া, সিয়ারা, এস্পিরিতো সানতো, মারানহাও, পারনামবুকো, রিও ডি জেনিরো, সান্তা কাতারিনা ও সাও পাওলো, কানাডার অন্টারিও ও কুইবেক, মেক্সিকোর মেক্সিকো সিটি, রাশিয়ার মস্কো, মুরমানস্ক, নিজনি নভগারোদ ও সেন্ট পিটার্সবুর্গ এবং ইউক্রেনের চেরনিভিস ও কিয়েভ এয়ারপোর্ট। এছাড়া  তালিকায় স্থান পাওয়া বৃটেনের বিমানবন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে- বার্মিংহাম, ডনকাস্টার, শেফিল্ড, ইস্ট মিডল্যান্ডস, গ্যাটউইক, গ্লাসগো, হিথরো, লিডস ব্র্যাডফোর্ড, লিভারপুল জন লেনন, লন্ডন সিটি, লুটন, ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্ট, নিউক্যাসল ইন্টারন্যাশনাল ও স্ট্যানস্টেড।
এশিয়া, আমেরিকা এবং অন্যান্য: ইইউ’র তালিকায় অতিঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় মধ্যে পূর্ব এশিয়ার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের সব বিমানবন্দর স্থান পেয়েছে। মধ্য এশিয়ার ইরান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব, তুরস্ক ও আরব আমিরাতের সব বিমানবন্দরও রয়েছে।
উচ্চঝুঁকিপূর্ণ বিমানবন্দরের তালিকায় আছে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের বিমানবন্দরগুলো। যার মধ্যে আলাবামা, অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কানেটিকাট, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, ইলিনয়, ইন্ডিয়ানা, লুইজিয়ানা, মেরিল্যান্ড, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, পেনসিলভানিয়া, রোড আইল্যান্ড, টেক্সাস, ভার্জিনিয়া ও ওয়াশিংটন রয়েছে।
বিমানমন্ত্রীর আহ্বান: প্রায় দু’মাস বন্ধ থাকার পর ১লা জুন থেকে সীমিত আকারে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চালু হয়েছে। ফ্লাইট চালুর প্রস্তুতি দেখতে গত শনিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনাল পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। পরিদর্শন শেষে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, অভ্যন্তরীণ রুটে পরিচালিত ফ্লাইটগুলোর যাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বিমানবন্দরে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের ভ্রমণ করার সময় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার অনুরোধও করেন তিনি।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

ফি দিয়েও পরীক্ষার সুযোগ মিলছে না

তিন দিন ধরে ঘুরছেন ক্যানসার আক্রান্ত রোগী

৩ জুলাই ২০২০

১১৭ দিনে আক্রান্ত দেড় লাখ ছাড়ালো

৩ জুলাই ২০২০

দেশে করোনার স্রোতকে কোনো ক্রমেই ঠেকানো যাচ্ছে না। সংক্রমণ শুরুর ১১৭ দিনের মাথায় আক্রান্ত দেড় ...

দেশে আবিষ্কৃত করোনা ভ্যাকসিনের প্রাথমিক সফলতার দাবি

৩ জুলাই ২০২০

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মরণঘাতী করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি করেছে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন প্রাথমিক ...

ফি নিয়ে করোনা পরীক্ষা

দরিদ্ররা পরীক্ষার বাইরে থাকবে, সংক্রমণ বাড়বে

২ জুলাই ২০২০

১১১ বিশ্ব ব্যক্তিত্বের বিবৃতি

করোনা ভ্যাকসিনকে জনগণের সম্পত্তি ঘোষণার আহ্বান

২ জুলাই ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



হোটেলে না থেকেও বিল, খাবার যায় ক্যান্টিন থেকে

যে কৌশলে টাকা লোপাট ঢামেকে

আল-কাবাসের রিপোর্ট

পাপুলের সহযোগী কে সেই এমপি?

বুড়িগঙ্গায় লাশের সারি, স্বজনদের আহাজারি

খামখেয়ালি, না পরিকল্পিত?

সরজমিন: রায়েরবাজার কবরস্থান

দূর থেকে শেষ বিদায়