ডুবতে শুরু করেছে খুলনার উপকূল, তলিয়ে গেছে ঘর-বাড়ি

স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে

বাংলারজমিন ২০ মে ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:৩১

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে খুলনা অঞ্চলের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপকূলীয় এলাকা নিমজ্জিত হতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই কয়রা, পাইকগাছা ও দাকোপ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ঘর-বাড়ি ডুবতে বসেছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় উপকূলের লোকালয় প্লাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী এলাকার ঘর-বাড়ি পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের পাশ্ববর্তী আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

সরজমিন দেখা গেছে, সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের কালাবগী গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়ির অর্ধেকটা পানিতে তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে ‘ঝুলন্তপাড়া’ নামে পরিচিত নলিয়ান থেকে কালাবগি পযন্ত ৬, ৮, ৯ নং ওয়ার্ডের অধিকাংশ ঘর-বাড়িই পানি প্রবেশ করে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
অনেকেই আশ্রয় কেন্দ্রে না গিয়ে ঘরের আসবাব রক্ষা করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জিএম ফয়সাল ইসলাম বলেন, প্লাবিত এলাকার লোকজনকে আমরা সরিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। তবে অনেকেই আসবাবপত্র ছেড়ে যেতে রাজি হচ্ছে না। তারপরও জীবন আগে রক্ষার বিষয়টি বুঝিয়ে তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে নিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করছেন তারা।

এদিকে দাকোপ উপজেলার একটি ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ রক্ষায় এগিয়ে এসেছেন নারীরা। বুধবার সকালে পুরুষের সঙ্গে নারীরাও নিজেদের ঘর-বাড়ি-সম্পদ রক্ষায় বাঁধ ঠেকাতে কাজ করছেন এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আম্ফানের প্রভাবে খুলনা অঞ্চলের অন্যান্য নদ-নদীর মত দাকোপ উপজেলার ঝপঝপিয়ে নদীর পানিও বেড়ে গেছে। এ কারণে উপজেলার ১ নম্বর পানখালী ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া বেড়িবাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ বাঁধ রক্ষায় বুধবার সকাল থেকে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে মাটি কেটে বাঁধ মজবুত করার চেষ্টা করেন। এ অবস্থা দেখে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাজে নেমে পড়েন।

বাঁধ রক্ষার কাজে এগিয়ে আসা স্থানীয় বাসিন্দা গৃহবধূ শিল্প্রা হালদার ও নমিতা রায় বলেন, এখন দুর্যোগময় মুহূর্ত। বিপদ আসলে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হব। এ কারণে দ্রুত বাঁধ রক্ষা করা দরকার। তাই পুরুষের সঙ্গে তারাও কাজ করছেন।

স্থানীয় পানখালী ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল কাদের বলেন, ঘুর্ণিঝড়ের প্রভাবে নদীর পানির উচ্চতা কয়েকফুট বেড়ে গেছে। এতে বাঁধও ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর এ সময় কোনো শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না। সবাই নিজেদের রক্ষায় নিরাপদে যেতে ব্যস্ত। এ অবস্থায় এলাকার নারী-পুরুষরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতেই বাঁধ রক্ষায় কাজ করছেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

রিপন

২০২০-০৫-২০ ২১:২১:২৯

উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপাতে চাইলেই কি আর চাপানো যায়? ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে নয়, বেড়িবাঁধ নির্মাণে আউয়ামি লুটপাট সুদি সিনডিকেট লিকের দুর্নীতি লুটপাটের কারণেই খুলনার উপকূলীয় এলাকা আজ এখন ডুবতে শুরু করেছে। এখন শেষ মুহূর্তে এসে এলাকার নারী পুরুষ সবাই মিলে চেষ্টা করেও লাভ হচ্ছে না, বাঁধ রক্ষা করা যাচ্ছে না। হড় হড় করে বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকে পড়ছে, সবকিছু তলিয়ে যাচ্ছে। সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়। সময়ে সব্বাই মিলে আউয়ামি লুটপাট সিনডিকেট লিককে ধরে কোন কথা নয়, কষে এক পশলা রাম গণধোলা্ই লাগালেই হতো, আজকের এই ভরাডুবিটি আর ঘটতো না। ভিটেমাটি খোয়াতে হতো না। নদী সিকস্তিদের জন্যে বাংলাদেশে কোন মর্যদাপূর্ণ সুরক্ষা ঠাঁই নাই।

আপনার মতামত দিন

বাংলারজমিন অন্যান্য খবর

বগুড়ায় বজ্রপাতে দুই ব্যবসায়ী নিহত

২৭ মে ২০২০

বগুড়ার ধুনটে বজ্রপাতে হাফিজুর রহমান (৪২) ও ফজর আলী (৪১) নামের দুই ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। ...

আড়াইহাজারে সেপটিক ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণে দগ্ধ আরো একজনের মৃত্যু

২৭ মে ২০২০

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সেপটিক ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণের ঘটনায় আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম মুনছুর (৫০)। তিনি ...

নাঙ্গলকোটে ৫ জনের করোনা শনাক্ত

২৭ মে ২০২০

নাঙ্গলকোটে বুধবার ৫ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে সিরাজুল ইসলাম (৬৫) করোনা উপসর্গ ...

মনোহরগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

২৭ মে ২০২০

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে মফিজুল ইসলাম (৬৫) নামে এক বৃদ্ধ মারা গেছেন। তার বাড়ি ...

মানিকগঞ্জে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২ জনের মৃত্যু

২৭ মে ২০২০

মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ওয়ার্ডে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে ...



বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত