করোনা ও খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশ

মেরিনা দেবনাথ

অনলাইন ২০ মে ২০২০, বুধবার, ১১:৪৭

করোনাভাইরাস সংক্রমণ (কোভিড ১৯) একটি প্রাণঘাতী বৈশ্বিক মহামারি। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) রোগে পৃথিবীতে প্রায় ৪৫ লাখ লোক এবং বাংলাদেশে ২০ হাজারের অধিক লোক সংক্রমিত হয়েছে। সারা বিশ্বের প্রায় এক- তৃতীয়াংশ লোক লকডাউনের মধ্যে পড়েছে। বাংলাদেশে লকডাউন শুরু হয়েছে ২৬শে মার্চ ২০২০ থেকে এবং ৫ম দফায় লকডাউন বাড়ানো হয়েছে ৩০শে মে ২০২০ পর্যন্ত। ২ মাসের অধিক সময় ধরে লকডাউনের কবলে বাংলাদেশ। যেহেতু করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ছে এবং এটি একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট হিসেবে দাঁড়িয়েছে, সমানভাবে এটি অর্থনৈতিক সংকটেরও কারণ হবে- যার ফলে মন্দা, খাদ্যাভাব দেখা দিতে পারে। বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাসূচক ২০১৯-এ বাংলাদেশ তার অবস্থার উন্নতি করেছে। বাংলাদেশের মোট খাদ্য চাহিদার ৯৫ শতাংশের যোগানদাতা প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক পরিবার।
কৃষকদের জন্য কৃষিপণ্য ঘরে তোলার বড় মৌসুম হলো এপ্রিল ও মে মাস। দেশের চালের ৬০ শতাংশ যোগান আসে এই বোরো মৌসুম থেকে। বর্তমান সরকারের সাহসী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে বোরো মৌসুমের প্রায় সকল ধান ঘরে তুলতে সক্ষম হয়েছে। সরকার একইভাবে মৌসুমী ফল আম, জাম, কাঁঠাল ও লিচু খামারিদের সহায়তা করবে। পাশাপাশি ডেইরি ও পোল্ট্রি খাতকে রক্ষায় সরকার অতি দ্রুত সময়ে খামারিদের স্বল্পসুদে ঋণ প্রদানসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব মোতাবেক বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য গুদামে ১৩.৮৭ লাখ টন চাল ও ৩.০৮ লাখ টন গমসহ বর্তমানে প্রায় ১৬.৯৫ লাখ টন খাদ্য মজুত রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক ‘খাদ্যশস্য পরিস্থিতি’ বিষয়ক এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে এই মজুত সন্তোষজনক এবং খাদ্যশস্য ঘাটতির কোনো সম্ভাবনা নেই। পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত থাকা সত্ত্বেও সংকটকালীন এ সময়ে দেশে মজুতকৃত খাদ্য সরবরাহের পর্যাপ্ততা, সুষম বণ্টন, স্বচ্ছতা এবং সহজেই পণ্য কেনার সামর্থ্যতার বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকার দেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তাকল্পে বোরো মৌসুমে ৮ লাখ টন ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সংগ্রহের কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষ ও অর্থনীতির জন্য ১১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, যা মোট জিডিপির ৩.৫ শতাংশ। বিভিন্ন দারিদ্র্য শ্রেণি বিশেষত দিনমজুর, পরিবহন শ্রমিক, গৃহকর্মী, দোকান ও ফেরিওয়ালা, নরসুন্দর এবং হিজড়া সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত লোকদের নানা কর্মসূচির আওতায় এনে বিনামূল্যে অথবা ন্যায্যমূল্যে খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়াও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ১২.৫ বিলিয়ন টাকা (১.৪৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার সমমূল্য) বিতরণ করেছেন। দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারের প্রায় আড়াই কোটি মানুষের জন্য রেশনকার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে যেন তাদের অন্যতম মৌলিক চাহিদা খাদ্যের সমস্যায় পড়তে না হয়। পাশাপাশি সরকার আরো ৫০ লাখ দরিদ্র পরিবারের জন্য জরুরি ভিত্তিতে রেশন কার্ড প্রস্তুতের নির্দেশনা প্রদান করেছেন। এখন পর্যন্ত দেশের উৎপাদন স্থিতিশীল রয়েছে। দেশে বিভিন্ন ফসলের উৎপাদনও ভাল হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, অন্যায়ভাবে পণ্য মজুতকারীসহ সকল অনৈতিক কর্মকা-ের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন সেক্টরকে সচল রাখার জন্য নানা ধরনের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিখাতের জন্য তহবিল ঘোষণা করেছেন। আমরা আশাবাদী যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাহসিকতা, বিচক্ষণতা ও দেশ পরিচালনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এই সংকটময় মূহূর্তে জাতিকে সঠিকভাবে পরিচালিত করবে এবং দেশ এই সংকট অচিরেই কাটিয়ে উঠবে। বিশ্ব মহামারি কোভিড- ১৯ সংকট মোকাবিলায় জনগণের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে আন্তরিকতা, মানবিকতা ও বিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

লেখক: সহকারী কমিশনার

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

গণস্বাস্থ্যের কিটে পরীক্ষা

করোনায় আক্রান্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

২৫ মে ২০২০



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



গণস্বাস্থ্যের কিটে পরীক্ষা

করোনায় আক্রান্ত ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী