ভয়ঙ্কর ছবি ও কিছু কথা

শামীমুল হক

মত-মতান্তর ২ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:০৫

রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়। একটি পাজেড়ো গাড়ি এসে থামলো। গাড়ির ভেতর থেকে দেয়া হচ্ছিল দরিদ্র মানুষকে টাকা। এক সময় মানুষের ভিড়ে দিশেহারা হয়ে উঠেন গাড়ির ভেতরে থাকা লোকজন। এ অবস্থায় রাজপথে ছুড়ে মারা হয় একশ টাকার বান্ডিল। আর সঙ্গে সঙ্গে নোটগুলো কুড়িয়ে নিতে হতদরিদ্র লোকজন লেগে যায় কাড়াকাড়িতে। এ এক ভয়ঙ্কর দৃশ্য। মঙ্গলবার দুপুরের চিত্র এটি।


ঢাকা দক্ষিন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ এমদাদুল হক তার পাজেড়ো থেকে ব্যাতিক্রমী, ভয়ঙ্কর দান দক্ষিণা করেন এভাবেই। এ চিত্র সহকর্মী দৈনিক ইত্তেফাকের ক্রাইম রিপোর্টার জামিউল আহসান শিপু'র ফেসবুক ওয়ালে ঘুরছে আজ সকাল থেকে। শিপুর এই স্ট্যাটাসে সাংবাদিক বরুন ভৌমিক নয়ন মন্তব্য করেন - এ কেমন রসিকতা? তীব্র নিন্দা জানাই। খুবই অনাকাঙ্খিত। মামুন নেসার লিখেছেন- দ্রুত তাকে কাস্টডিতে নেয়া হোক। দেরি না করে সাসপেন্ড করা হোক। জাহিদুল হকের মন্তব্য - কি বিচিত্র সেলুকাস আমার এই বাংলাদেশ। আমলারাই নির্ধারন করেছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে।

বদরুল আলম চৌধুরী'র মন্তব্য - অসম্মান করে কোনকিছু দেয়া ঠিক না। এটা স্রেফ রসিকতা। বুধবার ইংরেজি দৈনিক নিউ এইজে এ ছবি লিড হিসেবে ছাপা হয়। ছবিটি তুলেছেন ফটোগ্রাফার ইন্দ্রজিৎ ঘোষ। এখন প্রশ্ন হলো দেশ তথা বিশ্বের ক্রান্তি লগ্নে ওই কর্মকর্তা কি টাকার গরম দেখাতে এমনটা করলেন? সরকার যেখানে বলছে খাদ্যসামগ্রী বন্টন করতে, সেখানে তিনি কোন যুক্তিতে নগদ টাকা নিয়ে বেরুলেন? বোঝা গেছে তার প্রচুর টাকা আছে। তাই বলে এভাবে মানুষ জড়ো করে দিতে হবে? পরিবেশ দেখেতো মনে হয় আগে থেকেই জানান দিয়ে তিনি টাকা বন্টনে নেমেছেন। হঠাৎ করে হলেতো এত লোক জড়ো হওয়ার কথা নয়। ছবিটি দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, কোথায় গেল তার বিবেক বুদ্ধি? যেখানে দুজন লোক একসঙ্গে হওয়া উচিত নয়। সেখানে শত শত লোক জড়ো করে টাকা বিলি - এটা সরকারি আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যদি এমনটা করেন তাহলে সাধারন মানুষ তার কাছ থেকে কি শিক্ষা নেবেন? সমাজে এমনো লোক আছেন যিনি অসহায়দের তালিকা করে গোপনে লোক দিয়ে সহায়তা পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তিনি টাকা দিবেন ভালো কথা। কিন্তু এ পদ্ধতিতে কেন গেলেন? এ প্রশ্নের উত্তর কেবল তিনিই দিতে পারবেন। অন্য কেউ নয়।

দিন দিন করোনা পরিস্থিতি গভীর হচ্ছে। এর গভীরতা ইতিমধ্যে আঁচ করতে পারছেন সংশ্লিষ্টরা। আজ থেকে সেনাবাহিনী মানুষকে ঘরে থাকতে সহায়তায় কঠোর হচ্ছে। ইতালির এক ডাক্তার কাঁদছেন আর বলছেন - এই করোনা ভাইরাস কতটা ভয়ংকর, তা জানলে কেউ জানালা দিয়েও উঁকি দিতেন না। এমনিতেই প্রতিদিন মৃত্যুর সংবাদ আসছে। করোনা টেস্ট না হলেও সর্দি, কাশি, জ্বরে মানুষ মরছে। মৃত্যুর হারে ইতালির পরে বাংলাদেশ। তারপরও ভয়, আতঙ্ক কাজ করছে না অনেকের মনে। এই অনেকে দিব্যি ঘুরছে। একবার ও ভাবছে না কোনোভাবে যদি তিনি করোনায় আক্রান্ত হন তবে তার মাধ্যমে এটা ছড়িয়ে পড়তে পারে সমাজে। ডেকে আনতে পারে মৃত্যুর মিছিল। কি আতঙ্কময় পরিস্থিতি। করোনায় আক্রান্ত হলে স্ত্রী সন্তান আপনজনও সেবা করতে পারবে না। কাছে যেতে পারবে না। মারা গেলে গোপনে লাশ দাফন করতে হবে। চেহারাটুকুও দেখা যাবে না। ভয়ংকর এই দৃশ্য কল্পনা করে হলেও সবাই নিজেকে গুটিয়ে নেয়া উচিত। তাই বলছি, নিজে বাঁচুন পরিবারকে বাঁচান। সমাজকে বাঁচাতে সহায়তা করুন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Md Nurul Amin Talukd

২০২০-০৪-০২ ২৩:২০:৩৬

He should be punished

এতো টাকা কোথায় পেলেন

২০২০-০৪-০২ ১৯:৪৪:১০

টাকার হিসাব দুদক অনুসন্ধানকরে দেখতে পারেন।

হাসান বিন শফিক সোহাগ

২০২০-০৪-০২ ১৮:১৫:১৮

উনি যে পদে আছেন, উনারতো বিলি-বন্টন নিয়েই প্রায়শই কাজ করতে হয়। উনার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। জড়ো হওয়া মানুষের সংখ্যা দেখে গাড়ি থেকে নেমে, তাদের মধ্যে ৫/১০ জনের গ্রুপ করে বিতরণ করলে এই বিশৃঙখল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। উনি টাকা উড়িয়ে দেয়াতেই এই পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে। আর বৈধ টাকা কেউ এভাবে রাস্তায় উড়িয়ে মারতে পারে না। কাউকে কিছু দান করতে হলে অবশ্যই দান গ্রহীতার প্রতি সন্মান প্রদর্শন করে দেয়া উচিৎ।

Alauddin

২০২০-০৪-০২ ১৫:১১:৩৮

These are all casino money

Shagor Chowdhury

২০২০-০৪-০২ ১০:৫৬:৫৬

গরিব মানুষ গুলোকে লাইনে দার করিয়ে টাকা দিলে হয়তো ভালো হতো..

emu

২০২০-০৪-০২ ১৮:৩৭:২৯

এতো লোকের মাধ্যমে উনি নিজেও তো আক্রান্ত হতে পারেন এই ব্রেইন ও উনার নাই!! তিনি আবার এতো বড় অফিসার!!

Khokon

২০২০-০৪-০২ ০৫:২৫:০৫

Black mind and black money both of it working for that ? Someone, throughing money from the window of his car, of course, black money no doubt ? He is working for city corporation's and like others people a general service holder ? How much salary he gets ? How much he spend for his family members ? How much remains in his pockets end of months ? Of course nothing ! Then, where from comes this extra money to through from the window ? If this money was earn by his own labour cost then he never could have been through money from the window ? There is no respect of work ( money) and no respect of people and no afraid of goverment too ? If he has much black money, why not donate prime minister's fund ? Where is administration's ? Where is Dudok ? Where is their eyes ? Sorry, my goverment ? You are still alive ?

মফিজ

২০২০-০৪-০২ ০৫:১২:২৫

বাংলাদেশের সরকারি কর্মচারীরা তো একেকটা নবাবের বাচ্চা

সুবোধ

২০২০-০৪-০২ ০৫:১১:২০

ঢাকা দক্ষিণের ব্যর্থ মেয়র এই কর্মকর্তার পক্ষে সাফাই গেয়েছে!

sumon

২০২০-০৪-০২ ০৩:০৬:০৯

A) probably he is a corrupted person. Need to check through anti corruption. B) he was with other persons in the car. So he did not follow prime minister order as corona. C) he is trying to create anti government image.

মোহাম্মদ কামালহোসেন

২০২০-০৪-০২ ০২:২৩:২৯

এদের বিচার করবে কে????

মোহাম্মদ কামালহোসেন

২০২০-০৪-০২ ০২:২৩:২৭

এদের বিচার করবে কে????

Mollah Nurul Islam

২০২০-০৪-০২ ০২:২২:০২

Please sacked him from his job immediately and give him punishment also accordingly. I Hate him.

জাকারিয়া মাহমুদ

২০২০-০৪-০২ ০২:১২:০০

নিষ্ঠুরতম রসিকতা।

Citizen

২০২০-০৪-০২ ১৫:০০:৪৩

He's a government employee in whatever position. What's the source of his such money. How much is he earns every month and how much he can save? One cannot play this way with his genuinely earned money. Who earns money genuinely must know how to spend money genuinely.

শহিদ

২০২০-০৪-০২ ১৪:৪৮:৪৪

”উন্নয়ন” মাত্র সপ্তাহ পার না হতেই ফাঁকা ঢাকায় এত ভীড়?

Belal

২০২০-০৪-০২ ১৪:৪৮:২৯

আমিও জানি এই রকম পরিস্থিতি হয়, যখন গরীবদের মাঝে কোন কিছু বিতরণ করতে কেহ যায়। আমি নিজেও এই বিপদে পরেছিলাম। এই কর্মকর্তাও একই বিপদে পরেছেন। আল্লাহ বাঁচিয়েছেন যে, তারা সুস্থ্য ভাবে ফেরৎ আসতে পেরেছেন। কারন ঐ পরিস্থিতিটা যে কি, সেটা কেহ বুঝতে চাইলে আগে নিজে গিয়ে একবার রাস্তার মাঝে যেখানে ভিক্ষুক ও দরিদ্ররা থাকে তাদের মাঝে টাকা কিংবা কোন খাদ্য দ্রব্য হঠাৎ করে দান করে দেখুন না। মজাটা হারে হারে টের পাবেন। না বুঝে কেহ মন্তব্য করবেন না।

আবুল কাসেম

২০২০-০৪-০২ ০১:২৯:১৯

তিনি দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। এ কেমন রুচি! বিবেক বিবেচনা বলতে কিছু নাই। গরীব মানুষের সঙ্গে নির্মম ঠাট্টা। অন্যদিকে সামাজিক দূরত্ব কী জিনিস তাও তিনি বুঝেননা? তিনি সরকারি কর্মকর্তা। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের প্রতিও কী তার শ্রদ্ধাবোধ থাকবেনা? মেয়ের সাহেব ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করুন।

mohammed nazmul kari

২০২০-০৪-০২ ১৪:২০:৩৬

Honorable Prime Minister Please punish this person and it will become an example for others

Yousuf Haroon

২০২০-০৪-০২ ০১:১৬:২৫

If any incident happened or someone get hurt there this person have to be accountable and he should be punished.

Zaffar Benzadid

২০২০-০৪-০২ ০১:১৩:৫৩

আইন-কানুন, নিয়ম-নীতি মেনে চলা, সবইতো সাধারন মানুষের জন্য। উনারা উপর তলায় বসে দেশ শাসন করছে। তারা আইনের অধীন?..... লজ্জার কথা।

Rasu

২০২০-০৪-০২ ১৪:১৩:৩৪

দুর্গা অসুর বধ করেন সিংহের পিঠে দাড়িয়ে। আমাদের দুর্গা যাদের উপর দাঁরাই আছেন তাদের এই হচ্ছে হালচাল। দুর্গা তাইলে এদেরকেই বকে দিলে অসুর বধ করবেন ক্যাবা করে!!!

Sharif

২০২০-০৪-০২ ০০:৫৩:৩৭

Prime Minister er utchit take dristanto mulok sasti deya.keno ato lok eksathe joro koralo.corona virus eisob nirbodh loker karone spread out hobe.

জাফর আহম্মদ

২০২০-০৪-০২ ০০:৪২:২৫

লোকটির দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি হওয়া উচিত

Md. Harun Al-Rashid

২০২০-০৪-০২ ১৩:৪০:০৫

পাজারো ওয়ালার দান বিলাস(!) অভাবী মানুষদের সংঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কিছু নয়। এরা এমন রসিকতার সাহস পায় কি করে। যে মহৎ কর্ম লোক দেখানোর জন্য করা হয় মূল বিবেচনা তা কোন ভাবেই সৎ কর্ম নয়।

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

কথার মারপ্যাঁচ

৩ আগস্ট ২০২০

সফলতার মূলমন্ত্র!

২৭ জুলাই ২০২০



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত