যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ১০৪১ বিপর্যয় ঘটতে পারে নিউ ইয়র্কে

মানবজমিন ডেস্ক

এক্সক্লুসিভ ২৭ মার্চ ২০২০, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৫

করোনা ভাইরাস মহামারির বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে লড়াই করে যাচ্ছে নিউ ইয়র্ক। একের পর এক বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। এ অবস্থায় জনস্বাস্থ্যে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনা ভাইরাসের হটস্পট বা মূল উর্বরভূমি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে নিউ ইয়র্ক। যুক্তরাষ্ট্রে যে কমপক্ষে ১০৪১ জন মানুষ মারা গেছে তার মধ্যে বেশির ভাগই এই রাজ্যের। লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। রাস্তা ফাঁকা। তবু তাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য টহল দিচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন।
জনস্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মকর্তারা আরো বেডের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন। একই অবস্থা মেডিকেল সরঞ্জামের ক্ষেত্রে। আরো ডাক্তার ও নার্স চেয়ে তারা ফোনকল করছেন। তাদের আতঙ্ক সামনের দু’চার সপ্তাহে আরো ভয়াবহ মহামারি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ। তাতে হাসপাতালগুলোতে এক ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে, যেমনটা হয়েছে ইতালি ও স্পেনে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
স্পেনের আইন প্রণেতারা দেশে জরুরি অবস্থা আরো দু’সপ্তাহ বাড়িয়ে দিতে একমত হয়েছেন। এর ফলে সরকার জাতীয় পর্যায়ে লকডাউন করার অনুমোদন পেয়েছে। ওয়াশিংটনের সিনেট সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে বুধবার রাতে ২ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উদ্ধার বিষয়ক প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। এর উদ্দেশ্য ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সহায়তা করা। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটাই অর্থনৈতিক সহায়তা বিষয়ক সবচেয়ে বড় অঙ্কের আর্থিক পরিত্রাণের অঙ্ক বা বাজেট। প্রতিনিধি পরিষদ এই বিলটি শুক্রবার পাস করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির হিসাবে বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হয়ে মৃতের সংখ্যা ২১০০০ ছাড়িয়েছে। বুধবার দিনশেষে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা ছিল কমপক্ষে ১০৪১। আক্রান্ত হয়েছে কমপক্ষে ৭০০০০ মানুষ। এর মধ্যে শুধু নিউ ইয়র্ক রাজ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার। আর এখানে মারা গেছেন কমপক্ষে ৩০০ জন। এদের বেশির ভাগই নিউ ইয়র্ক সিটির। এ অবস্থায় নিউ ইয়র্কের গভর্নর অ্যানড্রু কুমো আবারো এই ভয়াবহ প্রাণহানির ফলে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। কারণ, এই রাজ্যটি হলো আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য গেটওয়ে বা প্রবেশদ্বার। এখানে জনসংখ্যা অতি ঘনবসতিপূর্ণ। এখানে সাবওয়ে, এলিভেটর, অ্যাপার্টমেন্ট ভবন এবং অফিস শেয়ার করেন কমপক্ষে ৮৬ লাখ মানুষ। অ্যানড্রু কুমো বলেছেন, এই যে খুব কাছাকাছি থাকা এটা আমাদের জন্য ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে। তবে এটা সত্য যে, আপনার সবচেয়ে দুর্বলতা হলো আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি। এই যে আমাদের ঘনিষ্ঠতা এটাই আমাদেরকে একত্রিত করেছে। এটাই হলো নিউ ইয়র্ক।
ওদিকে সান ফ্রান্সিসকোতে বসবাস করেন প্রায় ৭০ লাখ মানুষ। তারা ১৭ই মার্চ থেকে নিজেদের ঘরে বন্দি করে ফেলেছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ৪ কোটি মানুষের সবাই তাদেরকে তিনদিন পরে প্রায় লকডাউন করে ফেলেছে। অন্যদিকে নিউ ইয়র্ক সবেমাত্র ২২শে মার্চ রোববার সন্ধ্যায় ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দেয়। এই শহরে রয়েছে ১১ লাখ স্কুলপড়ুয়া। তা ১৫ই মার্চের আগে বন্ধ হয়নি। এর পরে অন্য অনেক ডিস্ট্রিক্ট বন্ধ হয়েছে।

আপনার মতামত দিন

এক্সক্লুসিভ অন্যান্য খবর

করোনায় সাবেক ফুটবলারের মৃত্যু

৩ জুন ২০২০

নওগাঁয় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এক সময়ে দৌড় প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ের চ্যাম্পিয়ন, সাবেক ফুটবলার ও কাপড় ...

করোনায় আইনজীবী ও প্রখ্যাত আলেমের মৃত্যু

৩ জুন ২০২০

জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে চট্টগ্রামের প্রখ্যাত আলেম নুরুল ইসলাম হাশেমী মারা গেছেন। একই উপসর্গ নিয়ে ...

চাঁদপুরে উপসর্গে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন নারীর মৃত্যু

৩ জুন ২০২০

করোনার উপসর্গে চাঁদপুর সরকারি সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম ...



এক্সক্লুসিভ সর্বাধিক পঠিত