করোনা ইস্যু

সরকারের সঙ্গে আলোচনা চান যুক্তরাষ্ট্র জাপানসহ ৬ রাষ্ট্রদূত

মিজানুর রহমান

শেষের পাতা ২৪ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৬

করোনা পরিস্থিতি বিশেষত কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায় সরকারের প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত
জানতে ঢাকাস্থ ৬ জন রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জরুরি বৈঠক চেয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, জাপান, ইতালি ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কান্ট্রি রিপ্রিজেনটেটিভ যৌথভাবে ওই বৈঠক চেয়েছেন বলে জানান করোনা সেলের প্রধান অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব ডা. খলিলুর রহমান। মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে গতকাল তিনি বলেন, ৬ জন কূটনীতিক সময় চেয়েছেন, আমরা সময় দিয়েছি। ২৪ শে মার্চ (আজ) বৈঠকটি হবে। ড. খলিল বলেন, করোনা একটি বৈশ্বিক মহামারি। গোটা দেশকে রক্ষায় সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। বিদেশি কূটনীতিকদের সুরক্ষার বিষয়ে আমাদের বিশেষ নজর রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৯ জন রাষ্ট্রদূত বৈঠক চেয়েছিলেন, আমরা তাদের পুরো বিষয়টি ব্রিফ করেছি।
সরকারের উদ্যোগগুলোর বিষয়ে তারা জেনেছেন এবং বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। এখন যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও ৬জন কূটনীতিক আলাদাভাবে কথা বলতে চেয়েছেন, আমরা তাদের সঙ্গেও বসবো। তাদের জন্য আমরা ৩টি হাসপাতাল নির্দিষ্ট করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আইসিইউ ফ্যাসিলিটিজ সমৃদ্ধ একটি ফ্লোরই প্রস্তুত করা হচ্ছে। তাছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে ৮-১০টি বেড প্রস্তুত থাকবে। উত্তরার একটি হাসপাতালেও কূটনীতিকদের চিকিৎসার কথাবার্তা হচ্ছে। এখনও পুরোপুরি কনফার্মেশন পাওয়া যায়নি। তবে তৃতীয় একটি হাসপাতাল হবে উত্তরা এলাকায়, এটি প্রায় নিশ্চিত। কূটনীতিক ও তাদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা-সেবায় কোন সমস্যা হবে না জানিয়ে ডা খলিল বলেন, করোনা আক্রান্ত হলে চিকিৎসা, কিন্তু আমরা এখন অগ্রাধিকার দিচ্ছি সংক্রমণ ঠেকানোকে। এ বিষয়ে যথেষ্ট জনসচেতনতা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, ঢাকাস্থ ইউরোপীয় কূটনীতিকদের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে রোববার সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন ঢাকাস্থ ৯ ইউরোপীয় দূতকে পরিস্থিতির বিস্তারিত জানিয়ে তাদের অভয় দেয়ার চেষ্টা করেন। সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র সচিব জানান বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ ছড়ানো করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) প্রতিরোধকল্পে নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে কূটনৈতিক জোন খ্যাত গুলশান-বনানী ও বারিধারা এলাকায় করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কূটনৈতিক মিশন এবং কূটনীতিকদের বাসভবন এলাকায় বাইরের লোকজনের অবাধ যাতায়াতে বিধি-নিষেধ আরোপসহ সতর্কতামূলক বাড়তি ব্যবস্থা রয়েছে। তারপরও কোন কূটনীতিক বা তাদের পরিবারের সদস্যের  করোনা আক্রান্তের লক্ষণ স্পষ্ট হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের চিকিৎসা-সেবা নিশ্চিত করা হবে। কূটনৈতিক পরিবারের সদস্যদের জন্য বসুন্ধরা ও উত্তরা এলাকার একাধিক হাসপাতালে কিছু বেড-কেবিন এবং আইসিইউ নির্দিষ্ট করে রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে। ব্রিফিং সূত্র জানায়, সেখানে কূটনীতিকদের উদ্বেগের অন্যতম বিষয় ছিল- ইউরোপের সঙ্গে ঢাকার ফ্লাইট বন্ধের মুহুর্তে পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে ইউরোপীয় কূটনীতিক, তাদের পরিবারের সদস্য এবং নাগরিকদের ঢাকা ছাড়ার ব্যবস্থা কি? জবাবে সচিব স্পষ্ট করে বলেন, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে প্রত্যেক দেশই নিজ নিজ বিবেচনায় কিছু উদ্যোগ এবং সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বাংলাদেশ বৃটেন ছাড়া ইউরোপের সঙ্গে বাংলাদেশের বিমান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ নিয়ে  উদ্বেগের কিছু নেই। দুনিয়ার সঙ্গে ঢাকার ফ্লাইট যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বৃটেন, চীন, থাইল্যান্ড ও তাইওয়ান- ওই চারটি রুট চালু রাখা হয়েছে, বিশেষ প্রয়োজনে যাতায়াতের বিবেচনায়। কেবল ইউরোপ নয়, যে কোন অঞ্চলের কূটনীতিক, তাদের পরিবারের সদস্য এবং নাগরিকরা ওই রুট ব্যবহার করে পছন্দের গন্তব্যে যেতে পারেন। তাছাড়া তারা একসঙ্গে যেতে চাইলে এক বা একাধিক বিমান ভাড়া করতে পারেন। চাটার্ড ফ্লাইটে গ্রুপ ভিত্তিক এমন যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে সব ধরণের সহায়তা দেবে। এর আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতদের উদ্বেগ সংক্রান্ত বার্তার প্রেক্ষিতে সরকার তাদের দু’টি অপশন দিয়েছি। প্রথমত: এখনও খোলা এমন চার রুটের যে কোন রুট ব্যবহার করে আগ্রহীরা চলে যেতে পারেন। দ্বিতীয়ত: তারা চাটার্ড ফ্লাইট জোগাড় করতে পারেন। ফ্লাইট পরিচালনায় অনুমতি এবং সুবিধাদি নিশ্চিত করবে সরকার।

আপনার মতামত দিন



শেষের পাতা অন্যান্য খবর

বড় সংকটে শ্রমবাজার

২৭ মার্চ ২০২০

করোনা ভাইরাস নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে সংক্রমণ

২৭ মার্চ ২০২০

আতঙ্কের জনপদ নিউ ইয়র্ক

আরো চার বাংলাদেশির মৃত্যু

২৬ মার্চ ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত