দেখে এলাম চীন ও ভারতের কোয়ারেন্টিন

ডা. কবীর উদ্দীন

ষোলো আনা ২০ মার্চ ২০২০, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:০৯

একজন চিকিৎসক হিসেবে অন্যান্য চিকিৎসকের নিরাপত্তা নিয়ে ভাববো এটাই স্বাভাবিক। আপনারা জানেন, গত বছর ডেঙ্গু মহামারিতে বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের প্রাণহানি হয়েছে। ভয়ভীতি নিয়ে কর্মক্ষেত্রে গেলে কাজের প্রতি স্পৃহা কমে যাবে। এদেশের সবচেয়ে মেধাবী ছাত্ররা চিকিৎসক হয় আর তাদেরকেই কিনা এমন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হবে?

চিকিৎসকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রশাসন ও জনগণ সবাই সচেতন হোন। যেকোনো খারাপ পরিস্থিতিতে স্কুল-কলেজ, অফিস-আদালত বন্ধ থাকলেও হাসপাতাল বন্ধ থাকে না। বরং দুর্যোগের সময় চিকিৎসকদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের দিকে তাকিয়ে দেখুন, এরকম মহামারিতে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই তারপর চিকিৎসকদের নিয়োগ করা হয়। এমনটি দেখেছি যখন চীনের হুবেই প্রদেশে ছিলাম, যেখান থেকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি।
আমি ছিলাম হুবেই প্রদেশের শিহান নামক একটি ছোট শহরে। চমৎকার চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকার দরুণ করোনা ভাইরাস মহামারি ঠেকিয়া দিয়েছে। উহান শহরের লকডাউন করার ঘোষণা আসে ২৩শে জানুয়ারি। শিহান লকডাউন হয় পরের দিন। লকডাউনের পরের দিন নিকটবর্তী ‘তাইহে হাসপাতাল’-এ ঘুরতে গিয়ে দেখি সেখানকার চিকিৎসক, মেডিক ও নার্সরা প্রটেক্টিভ স্যুট (সাদা রংয়ের) পরে হাঁটছেন, কত দ্রুত স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে চীন! ভাবা যায়?

এরপর উহান থেকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর স্পেশাল ইভাকুয়েশন ফ্লাইটে ভারতের নয়াদিল্লিতে এসে পৌঁছালাম ২৭শে ফেব্রুয়ারি। আমাকে নিয়ে যাওয়া হলো ইন্দো-তিব্বতীয় বর্ডার পুলিশের অধীনে পরিচালিত একটি বিশেষায়িত কোয়ারেন্টিন ক্যাম্পে। সেখানে গিয়ে দেখলাম ডাক্তার বাদেও মেডিকরা প্রটেক্টিভ স্যুট ব্যবহার করছে। শুনলে আরো অবাক হবেন যে, ক্লিনারদের জন্য একই রকম স্যুট ছিল। আরো একটি ঘটনা উল্লেখ করা উচিত, ভারতীয় বিমানে এসেছিলাম সেই বিমানের পাইলট ও সকল ক্রুদের আমাদের সঙ্গে একই ভবনে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল মোট ১৪ দিন। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত তার সকল পেশার কর্মীদের নিরাপত্তার ব্যাপারে দারুণ সচেতন।

দেশে এসে আমার চিকিৎসক সহকর্মীদের কাছে থেকে জানতে পারলাম যে, করোনা মহামারি শুরুর দুই মাস পার হয়ে গেলেও এখনো ডাক্তারদের প্রটেক্টিভ স্যুট সরবরাহ করা হয়নি। আরো জেনেছি, ঢাকার বাইরেতো একদমই নেই কিছু। বিনয়ের সঙ্গে সরকারের প্রতি আমার অনুরোধ, হাসপাতালে কর্মরত সকল স্বাস্থ্যকর্মীদের চাহিদা অনুযায়ী প্রটেক্টিভ স্যুট সরবরাহ করা হোক। আর সেটা ৬৪ জেলাতেই সকল সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে। ঢাকার বাইরে কয়েকটি ল্যাব তৈরি করা হোক কয়েকদিনের মধ্যেই।

আপনার মতামত দিন

ষোলো আনা অন্যান্য খবর

স্পেন সরকারের আফসোস

২০ মার্চ ২০২০

করোনা মোকাবিলায় দক্ষিণ কোরিয়া

সচেতনতার প্রয়োজন ছিল শুরু থেকেই

২০ মার্চ ২০২০

মুমিনুল-নাজিফা

অনেক অমিলেও অনন্য (ভিডিও)

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

মানুষ কেন প্রেমে পড়ে?

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ভালোবাসা এমনও হয়!

১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০



ষোলো আনা সর্বাধিক পঠিত