ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেন প্রকল্প

দ্রুত ‘প্রকল্প প্রস্তাবনা’ চায় এডিবি, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চিঠি

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে

শেষের পাতা ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০২

ফাইল ছবি
২০১৬ সালে চীনের সঙ্গে চুক্তির ২৭ প্রকল্পে অগ্রাধিকার পেয়েছিল ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনের। তখন থেকে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নিয়ে স্বপ্ন বোনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু চীন পরবর্তীতে এ প্রকল্পের অর্থায়ন থেকে সরে যায়। এতে করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের প্রকল্প নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। পরে সরকার এ প্রকল্প নিয়ে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবির সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। আসে ফলও। এডিবি প্রকল্পে অর্থায়নে সম্মত হলে নতুন করে দেশের অন্যতম বড় এ প্রকল্প নিয়ে আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে এখনো এডিবি পায়নি প্রকল্প প্রস্তাবনা।
এ কারণে গত সপ্তাহে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের এমপি ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত প্রকল্প প্রস্তাবনা চেয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে চলতি অর্থ বছরের মধ্যে প্রকল্প প্রস্তাবনা এডিবিকে প্রদান করতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে চিঠি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গতকাল সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে ডিও (পত্র) দেয়ার কথা মানবজমিনকে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন। তিনি জানিয়েছেন, কান্ট্রি ডিরেক্টরের কথার আলোকে এই পত্র দিয়েছেন। সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রণালয় দ্রুত এর ব্যবস্থা নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সড়কপথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক।

যানবাহনের চাপ, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও সেতু থাকার কারণে এই সড়কটি ক্রমেই গলার কাটা হিসেবে পরিণত হয়েছে। সেই সঙ্গে নিত্যসঙ্গী হয়েছে সড়ক দুঘর্টনা। এ কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার দাবি দীর্ঘদিনের। সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে বারবার এই দাবি তোলা হয়েছে। বিগত সংসদ নির্বাচনের আগে সিলেট-১ আসনের বর্তমান এমপি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এই প্রকল্প কথা বলা শুরু করেন। দেন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও। এর আগে এই প্রকল্পটিকে চীনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ করতে তিনি ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে চীনের অর্থায়ন থেকে বাদ পড়ার পরও তিনি এর পিছু ছাড়েননি। গত বছরের শেষ দিকে এই প্রকল্প নিয়ে এডিবির সঙ্গে আলোচনা হয়। এবং এডিবি এই প্রকল্পে অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করে। এতে করে প্রকল্পের কাজ শুরু নিয়ে আশার আলো দেখা দেয়।

বিষয়টিকে সবার নজরে আনতে মন্ত্রী মাস খানেক আগে ঢাকায় নারায়ণগঞ্জ থেকে সিলেট পর্যন্ত সড়কের পার্শ্ববর্তী এলাকার সংসদ সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেন। এবং বৈঠকে মন্ত্রী সকালের সহযোগিতা কামনা করেন। এডিবি এই প্রকল্পে দ্রুত অর্থায়ন করতে চায়। এ কারণে গত বৃহস্পতিবার এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় মনমোহন প্রকাশ দ্রুত প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রেরণ করতে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান। চলতি অর্থ বছরের মধ্যে প্রস্তাবনা পেলে আগামী অর্থ বছর থেকে কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন। এদিকে- সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে এখনো প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রস্তুত না হওয়ার কারণে বিষয়টি মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নজরে এনেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সোমবার এ সংক্রান্ত একটি চিঠি (ডিও) পররাষ্ট্রমন্ত্রী সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছেন। এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন- সম্প্রতি এডিবির বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দপ্তরে সাক্ষাৎ করে প্রকল্পটি দ্রুত প্রদানের তাগিদ দিয়েছেন। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাওয়া গেলে আগামী অর্থবছরে অর্থ ছাড় দেয়া সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন মনমোহন প্রকাশ। পরবর্তীতে এডিবি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নতুন করে কোনো শর্ত জুড়ে দিলে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীতকরণ কর্মকাণ্ডে জটিলতা দেখা দিতে পারে বলেও পত্রে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। চীন এ মহাসড়কটি বাস্তবায়নের কথা দিলেও বাস্তবায়িত না হওয়ায় এটি বর্তমানে এডিবি-তে প্রেরণ করা অতি জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এছাড়াও এ মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের সংসদ সদস্যরা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মতামতের বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। পরিস্থিতি বিবেচনায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার অনুমোদিত প্রকল্পটি চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে এডিবি’র কাছে প্রেরণের অনুরোধ জানিয়েছেন ড. মোমেন। এদিকে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আশ্বাস দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। সোমবার সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সেতুমন্ত্রী জানিয়েছেন আগামী মার্চের মধ্যে ডিপিপি প্রণয়ন কাজ শেষ হবে। এরপর কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষে পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সেখানে অনুমোদনের পর জুলাই থেকে নির্মাণকাজ শুরু করা যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা এবং এর বেশির ভাগ অর্থায়ন করবে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে- ঢাকার কাঁচপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত ২২৬ কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করা হবে। এই চার লেনের দুইপাশে আলাদা সার্ভিস লেন থাকবে। এই দুই লেনে ধীরগতির যানবাহন চলবে।

ফলে মোট ছয় লেনের সড়ক হচ্ছে এটি। মহাসড়কে সোয়া ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৭০টি সেতু নির্মাণ করা হবে। চার হাজার ৩৫৮ মিটার দীর্ঘ চারটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে ভৈরব, সিলেটের গোয়ালাবাজার, তাজপুর ও দয়ামীর বাজার এলাকায়। নরসিংদী, ভৈরব, ওলিপুর, লস্করপুর ও সিলেটে নির্মাণ করা হবে রেল ওভারপাস। এ মহাসড়ক হবে এশিয়ান হাইওয়ে-১ এবং এশিয়ান হাইওয়ে-২-এর অংশ। ২০১৪ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২২৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ঢাকা-সিলেট চার লেইন প্রকল্পে সরকারের প্রাক্কলিত ব্যয় ১০ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। বর্তমানে এ ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে দ্বিগুণ।

আপনার মতামত দিন



শেষের পাতা অন্যান্য খবর

বড় সংকটে শ্রমবাজার

২৭ মার্চ ২০২০

করোনা ভাইরাস নিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

দক্ষিণ এশিয়ায় বাড়ছে সংক্রমণ

২৭ মার্চ ২০২০

আতঙ্কের জনপদ নিউ ইয়র্ক

আরো চার বাংলাদেশির মৃত্যু

২৬ মার্চ ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত