৩২৫ কিলোমিটার হেঁটেছেন তাবিথ

স্টাফ রিপোর্টার

শেষের পাতা ২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৩৯

প্রতীক পাওয়ার পর থেকে দুই সপ্তাহের নির্বাচনী প্রচারণায় ৫৪টি ওয়ার্ডে ৩২৫ কিলোমিটার হেঁটে প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপি’র মেয়রপ্রার্থী তাবিথ আউয়াল। ১০ই জানুয়ারি প্রতীক পাওয়ার পর নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হয়। গতকাল ১৪তম দিনে তাবিথ নিজেই এ তথ্য জানান। এসময় ঢাকা উত্তর সিটির এ মেয়র প্রার্থী বলেন, ঢাকা সিটিতে এখন ধানের শীষের জোয়ার বইছে। আমরা বিশ্বাস করি, মানুষ পরিবর্তন চায়। আগামী ১লা তারিখ পরিবর্তনের দিন। আশা করি ভোটাররা এদিন ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাদের ভাগ্য পরিবর্তন করবেন। বৃহস্পতিবার বিকালে মহাখালী এলাকার ২০নং ওয়ার্ডে গণসংযোগকালে তাবিথ বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র ৮ দিন আছে।
আগামী ৮ দিন খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। আমাদের কঠিন পরিশ্রম করতে হবে, সর্তক থাকতে হবে। এখনো আমাদের সন্দেহ আছে, অনেক ষড়যন্ত্র হবে, অন্যায় হতে পারে। আপনারা যদি সাবধান থাকেন, তাহলে আমাদের বিশ্বাস আমরা এই পথ অতিক্রম করতে পারবো। এর আগে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজারে এক পথ সভায় তাবিথ বলেন, বিএনপির সমর্থিত প্রার্থীদের প্রাচারণা ও গণসংযোগে সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে বারবার হামলা চালাচ্ছে। ঢাকাবাসীকে ভোটের মাধ্যমে হামলার জবাব দেয়ার আহ্‌বান জানান তিনি। নির্বাচনী শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ নেবেন। আমরা নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চাই।

এসময় তিনি বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে প্রায় ৩২৫ কিলোমিটারের বেশি পথ পায়ে হেঁটে গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। প্রচারণায় সময় জনগণের কাছে গিয়েছি। গণসংযোগে ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জনগণ স্বত:স্ফুর্তভাবে বিএনপির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।  আমাদের প্রতিপক্ষরা গণজোয়ার দেখে হামলা করছে। মেয়র প্রার্থী বলেন ‘সরকার ও নির্বাচন কমিশন তাদের বিপক্ষে পদক্ষেপ নিতে পারে। বিশেষ করে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে বিমুখ করার চেষ্টা করতে পারে। আমরা যেন ঐক্যবদ্ধ থেকে মনোবল শক্ত রেখে ভোটকেন্দ্রে যাই।

পথসভায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, এ ধানের শীষ খালেদা জিয়া, জনগণের ধানের শীষ। আপনারা তাবিথ আউয়ালকে ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করুন। তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, এখন তোমাদের সময়। তোমরা যোগ্য নেতাকে ভোটের মাধ্যমে বেছে নেবে। তাবিথ ধানের শীষের যোগ্য প্রার্থী।  তিনি আরো বলেন, আমরা যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছি, তা এখন বিলীন। এই দেশে কথা বলার অধিকার হারিয়েছি। আইনের শাসন হারিয়েছি। স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকার নেই। দেশে এখন যে পরিস্থিতি চলছে, তা ভাবলেও লজ্জা হয়। এই জন্য কী ১৯৭১ সালে সকল ত্যাগ স্বীকার করে দেশ স্বাধীন করেছি? আমরা এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাই। কথা বলার অধিকার আদায় করতে হবে। আর আদায় করতে হলে আমার সন্তানতুল্য তাবিথ আউয়াল আমাদের যে দায়িত্ব নিয়েছে। এই দায়িত্ব যেনো পালন করতে পারে সেজন্য ভোটারদেরকে সুযোগ দিতে হবে। ধানের শীষের বিজয় হলে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ ত্বরান্বিত হবে। আমরা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ফেরত আনতে চাই। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। পরে পূর্ব রায়ের বাজার, পশ্চিম ধানমন্ডি মসজিদ, মোহাম্মদপুর জাফরাবাদ, পশ্চিম ধানমন্ডি, শংকর, ধানমন্ডির কচিকাচা কণ্ঠ, শেরেবাংলা রোড, শংকর পাঠশালা গলি, আবুল হাসেম খান, সাদেক খান সড়ক, মেরীস্টেপ, মধু বাজার, ছিন্নমূল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকা হয়ে কাটাসুর রোডে গণসংযোগ করেন। তাবিথের প্রচারণায় স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থীরাসহ নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। এসময় ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত শহর গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। দুপুর ২টার দিকে মোহাম্মদপুর বাসস্টান্ডের পূর্বপাশে এক পথসভা করেন। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে মহাখালী, সাততলা বস্তি, ওয়ারলেস এলাকায় গণসংযোগ করেন। মোহাম্মদপুরে গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, হাবিবুর রহমান হাবিব, আবুল খায়ের ভূইয়া, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মাদ রহমাতুল্লাহ, নিপুন রায় চৌধুরী, ৩৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মাসুম খান রাজেশ, ৩২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী আব্দুল মতিন, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম মিল্টনসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিকালে মহাখালীতে তাবিথ আউয়ালের গণসংযোগে অংশ নিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপি নেতা মফিকুল হাসান তৃপ্তি, খন্দকার আবু আশফাক, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

আপনার মতামত দিন



শেষের পাতা অন্যান্য খবর

একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

ইতিহাস কেউ মুছে ফেলতে পারে না

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত