হত্যার পর তোফাজ্জলের চোখ উপড়ে, পা ভেঙে বস্তাবিন্দ করে ঘাতক দাদা

এম এ রাজ্জাক, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) থেকে

অনলাইন ১৬ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১:৫৪ | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৩৮

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে শিশু তোফাজ্জল হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন নিহতের দাদার ফুফাতো ভাই (সম্পর্কে তোফাজ্জলের দাদা) রাসেল মিয়া। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ হত্যার দায় স্বীকার করেন। পরে মঙ্গলবার বিকালে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও  দেন তিনি। এদিকে বুধবার এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়া অন্য ৬ জনকে পুলিশ আদালতে হাজির করলে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় রাসেল মিয়া বলেছে, ঘটনার দিন তার খাটেই শুয়েছিল শিশু তোফাজ্জল। তিনি নিজে শোয়ার সময় হঠাৎ করে বিছানার ওপর পড়লে তোফাজ্জল চিৎকার দিয়ে ওঠে। তোফাজ্জল যাতে চিৎকার না দেয়- এজন্য তিনি তাকে (তোফাজ্জলকে) বালিশ চাপা দিয়েছিলেন। এক পর্যায়ে তোফাজ্জল দমবন্ধ হয়ে মারা যায়।


পুলিশকে রাসেল বলেছেন, তোফাজ্জলকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে বালিশ চাপা দেননি তিনি। কিন্তু সে মারা যাওয়ার পর হতবাক হয়ে যান। একপর্যায়ে এই দোষ অন্যদের ঘাড়ে চাপানোর জন্য তোফাজ্জলের চোখ উপড়ে ফেলে এবং পা ভেঙে রাসেলের লাশ বস্তাবন্দি করে রাখেন তিনি।

এই হত্যাকাণ্ডের পর সন্দেহ হওয়ায় শিশু তোফাজ্জলের চাচা-ফুফু এবং সম্পর্কে দাদা রাসেল মিয়াসহ ৭ জনকে আটক করেছিলো পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল মিয়াকে সন্দেহ করে পুলিশ। গত সোমবার সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস টিম খুন হওয়া তোফাজ্জলের বাড়ি গিয়ে রাসেল মিয়ার শোয়ার ঘরের খাটের পাশের ছোট ওয়ারড্রব থেকে একটি রক্তভেজা লুঙ্গি ও দুটি বালিশের কাভার উদ্ধার করে। এদিকে ওইদিনই আটক ৭ জনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সুনামগঞ্জের কোর্ট ইন্সপেক্টর আশেক সুজা মামুন জানান, রাসেল মিয়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ পালের আদালতে মঙ্গলবার বিকালে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তিনি জানান, এ ঘটনায় আটক তোফাজ্জলের ফুফু শিউলী বেগম, ফুফা সেজাউল কবির ও তার বাবা কালন মিয়া, হাবিবুর রহমান হবি, আপন চাচা সালমান মিয়া ও লোকমান মিয়ার রিমা- শেষ হওয়ায় বুধবার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভ দীপ পালের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, রাসেল মিয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ায় অন্যদের রিমান্ডে রাখার যৌক্তিক কারণ না থাকায় তাদেরকে বুধবার আদালতে হাজির করা হয়। এদিকে বুধবার বিকালে তাহিরপুরে খেলাঘর নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে এলাকাবসী দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবিতে মানববন্ধন পালন করেছে।   

উল্লেখ্য, তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বাসতলা গ্রামের জুবায়েল হোসেনের ছেলে ৭ বছরের শিশু ৪ দিন নিখোঁজ ছিলো। শনিবার ভোর রাতে শিশুর চোখ উপড়ে ফেলা পা ভাঙা অবস্থায় বস্তাবন্দি লাশ হবি মিয়ার ছেলে রাসেলের বাড়ির পাশেই পাওয়া যায়। এ ঘটনায় জুবায়েলের ফুফু-ফুফা ও চাচাসহ ৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওইদিনই আটক করেছিলো পুলিশ। পরে রাসেল মিয়া ও শিউলি বেগমের ৫ দিন এবং অন্য ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের জন্য রিমাণ্ডে নেয় পুলিশ।

আপনার মতামত দিন



অনলাইন অন্যান্য খবর

তাহিরপুরে শহীদ মিনার জরাজীর্ণ

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

২ জেলায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০

শহীদ মিনারে মানুষের ঢল

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত