ফ্লোরিডায় নৌঘাঁটিতে সৌদি সেনা সদস্যের গুলি, হামলাকারী সহ নিহত ৪

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ৭ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৫৬

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নৌঘাঁটিতে গুলি করে তিন ব্যক্তিকে হত্যা করেছে সৌদি আরবের নাগরিক মোহাম্মদ সাঈদ আলশামরানি। সে শুধু সৌদি আরবের নাগরিকই নয়, একইসঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনীর একজন সদস্যও। ওই ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণে সেখানে অবস্থান করছিল মোহাম্মদ সাঈদ। হামলার সময় নিরাপত্তা রক্ষাকারীরা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। এ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ঘাঁটিতে এটি দ্বিতীয় হামলা। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। এতে বলা হয়, এর আগে বুধবার হাওয়াইয়ে পার্ল হারবার সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক সেনা সদস্য গুলি করে হত্যা করেছে দু’জনকে।

সর্বশেষ হামলাটি হয় ফ্লোরিডার পেনসাকোলায়।
সেখানে মোহাম্মদ সাঈদ আলশামরানির গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষ আটজন। এর মধ্যে রয়েছেন নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের দু’জন কর্মকর্তা। হামলাকারী একটি হ্যান্ডগান ব্যবহার করেছিল। পেনসাকোলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ওয়াটারফ্রন্টে ওই সামরিক ঘাঁটিতে হামলার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ জানতে পারে স্থানীয সময় সকাল ৬টা ৫১ মিনিটে। এ বিষয়ে এসকামবিয়া কাউন্টির শেরিফ ডেভিড মর্গান বলেন, ঘটনাস্থলের ভিতর দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় মনে হয়েছে যেন সেখানে কোনো সিনেমার সেট সাজানো হয়েছিল। দু’জন কর্মকর্তার পায়ে গুলি করা হয়েছে। তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিমানঘাঁটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ওই এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। সেখানে কমপক্ষে ১৬ হাজার সামরিক সদস্য ও ৭ হাজার ৪০০ বেসামরিক ব্যক্তি কাজ করেন। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্তিস বলেছেন, হামলাকারী বিদেশী নাগরিক। তাই এ বিষয়ে অবশ্যই অনেক প্রশ্ন থাকবে। তিনি সৌদি আরবের বিমান বাহিনীর সদস্য। তার ওপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রশিক্ষণের জন্য এসেছিলেন। স্পষ্টতই সৌদি আরব সরকারের উচিত এসব ভিকটিমের বিষয়ে উন্নততর কিছু করা। আমি মনে করি এ বিষয়ে অবশ্যই তাদের কিছু বাধ্যবাধকতা আছে। এর কারণ, এই হামলায় তাদেরই একজন নাগরিক জড়িত।

ওদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করে আন্তরিক শোক প্রকাশ করেছেন সৌদি আরবের বাদশা সালমান। তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্য ও বন্ধুবান্ধবদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন বলে মিডিয়াকে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের মানুষ আমেরিকার মানুষদের ভালবাসে। তাই হত্যাকারী কোনোভাবেই সৌদি আরবের জনগণের অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব করে না।

ওই নৌঘাঁটির বেস কমান্ডিং অফিসার টিমোথি কিনসেলা বলেছেন, হামলায় তিনি একেবারেই হতবাক। তিনি আরো বলেছেন, আমি বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছি। আমরা বেদনাহত। এ এক অবাস্তব ঘটনা। এ ঘটনার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে যতক্ষণ পর্যন্ত এ বিষয়ে জানানো হচ্ছে না ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের নাম প্রকাশ করা হবে না।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

টাইমস অব ইন্ডিয়ার রিপোর্ট

৪০ দিনের যুদ্ধের জন্য সামরিক সরঞ্জামের মজুদ গড়ছে ভারত

২৭ জানুয়ারি ২০২০





বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



জেগে উঠেছে পুরনো প্রেম

পালিয়েছেন বরের পিতা ও কনের মা