শিক্ষকের বোন রেকর্ড মার্কস নিয়ে প্রথম! ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ চান শিক্ষকরা

বেরোবি প্রতিনিধি

শিক্ষাঙ্গন ৫ ডিসেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:৩৬

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ২০১৯-২০ সেশনের ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজী বিভাগের প্রভাষক ইমরানা বারী’র ছোটবোন মিশকাতুল জান্নাত দুই ইউনিটে ফেল করলেও ‘বি’ ইউনিটে রেকর্ড পরিমাণ মার্কস নিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে।
 
বিষয়টি নিয়ে  গতকাল বুধবার ‘ভর্তি পরীক্ষায় দুই ইউনিটে ফেল: অন্য ইউনিটে রেকর্ড মার্কস নিয়ে প্রথম!’ শিরোনামে মানবজমিন অনলাইনে খবর প্রকাশ হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে সমালোচনা শুরু হয়। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আজ বৃহস্পতিবার রেজিস্ট্রার কর্ণেল আবু হেনা মুস্তাফা কামালের কাছে এ সংক্রান্ত একটি লিখিত দাবি পেশ করেন শিক্ষকগণ।
 
এদিকে, ২ এবং ৩ তারিখ ভর্তিচ্ছুদের যাচাই বাছাই মৌখিক, ওএমআর এ পরীক্ষার্থীদের হ্যান্ডরাইটিং না মিলিয়েই ‘বি’ ইউনিটের ক্ষেত্রে সরাসরি ব্যাংকে ভর্তির টাকা জমাদানের মাধ্যমে ভর্তির করানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন শিক্ষকগণ।
 
বঙ্গবন্ধু পরিষদের সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম বলেন, এই ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত হওয়া উচিত। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বিরুদ্ধেও যেহেতু সন্দেহের তীর আছে তাই তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করলে তা গ্রহণ যোগ্য হবেনা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা ইউজিসি থেকে তদন্ত কমিটির করে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
 
অভিযোগ রয়েছে, গত বছরে ভর্তি জালিয়াতির বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার ছিলেন তাদেরকে এবছর ভর্তির মূল কার্যক্রম থেকে বাদ দেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু পরিসদের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান বলেন, সারাদেশে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চালছে। আমরা ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।
 
নীল দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদ মন্ডল বলেন, ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় সমস্যা হওয়ার মূল কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির স্বৈরাচারীভাবে এই ইউনিটের ডিনশিপ নিয়ে থাকা।
তিনি যেহেতু এই ইউনিটের ডিন তাই তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করলে তা কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাবে সেটিও দেখার বিষয়। ভালভাবে তদন্ত করলে এই ইউনিটে আরও অনেক মিশকাতুল জান্নাত বের হতে পারে। এজন্য অতি শ্রীঘ্রই সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
 
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. গাজী মাযহারুল আনোয়ার বলেন, ‘বি’ ইউনিটের সমন্বয়ক তার কথার মধ্যে যে শব্দগুলো ব্যবহার করেছেন তাতে আমাদের শংকা জাগে। বিষয়টি সুষ্ঠ তদন্ত হওয়া উচিত।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ দেশের বাইরে থাকায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
 

আপনার মতামত দিন

শিক্ষাঙ্গন অন্যান্য খবর

জকসুর দাবিতে মিছিল ও সমাবেশ

১৬ জানুয়ারি ২০২০





শিক্ষাঙ্গন সর্বাধিক পঠিত