চবি শিক্ষার্থীর স্ট্যাটাস

হ্যাঁ! আজ আমি মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছি!

চবি প্রতিনিধি

শিক্ষাঙ্গন ২৮ নভেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৭:১২

প্রতীকী ছবি
চলন্ত বাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে করে পটিয়া থেকে নগরীতে ফেরার পথে বাসচালকের সহকারীদের হাতে নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে বলে জানান সেই শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তার ফেসবুকে লিখেন-

পটিয়া গিয়েছিলাম বোনের বাসায় বেড়াতে.....

সাধারণত ট্রেনেই আসা যাওয়া করি আমি; বাসে ভমিটিং এর প্রব্লেম থাকার কারণে উঠাও কম হয়।

দুলাভাই এর বাসা মুন্সেফবাজার, গলি থেকে বের হলেই নাকি বাস পাওয়া যায় উনি বলেছিলেন, নতুন ব্রিজ,,কিংবা টার্মিনাল এর বাস।

বাসা থেকে নেমে রিকশা নিয়ে মেইন রাস্তা অব্দি আসলাম। নেমে দাঁড়াতে দাঁড়াতেই একটা ‘সোহাগ’ এর বড় বাস আসছিলো, হাত নাঁড়ালাম। থামলো, বাস এ অতটা ভীড় ছিলোনা বললেই চলে, তবে খালিও কিন্তু ছিলো না। আমি কন্ডাক্টরকে জিজ্ঞেস করলাম বহদ্দারহাট যাবে কিনা! উনি বললো যাবে, উঠলাম। জানালার পাশের সিট খুঁজছিলাম, মানুষ কম থাকলেও সবাই মোটামোটি জানালার পাশেই বসে ছিলো। অতঃপর সিট না পেয়ে একটি আন্টির পাশে গিয়েই বসলাম আমি। প্রথম থেকে ৩ নং চেয়ারে।

বাস চলছে।
কন্ডাক্টর ছিলেন দুইজন। একজন দরজার সামনে দাঁড়িয়েছিলো আরেকজন টাকা তুলছিলো। কিছুক্ষণ পর একজন আসে, বলে ভাড়া দেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম কত? আবারো জিজ্ঞেস করে কই যাবেন?

আমি বললাম: মামা আমি ২নং গেইট যাবো, কোথায় নামলে সুবিধে হয়, উনি বললেন টার্মিনাল। আমি বললাম তাহলে টার্মিনাল এর ভাড়াই নেন। উনি ৬০ টাকা নিলো, আর জিজ্ঞেস করলো একা কিনা, আমি বললাম জ্বি।

ভেবেছিলাম হয়তো ভাড়ার জন্য, বা ভাড়া নেয়ার জন্য জিজ্ঞেস করেছে। এরপর থেকে উনি বারবার তাকাই ছিলো আমার দিকে, আমি অত পাত্তা না দিয়েই আবারো কানে হেডফোন গুঁজে বসে ছিলাম। আমার পাশের আন্টি নতুন ব্রিজ নেমে যায়, আমি জানালার পাশে গিয়ে বসি।

এরপর বহদ্দারহাট কিনা জানিনা, একটা জায়গায় এসে বাস দাঁড়ায় এবং অনেকজন নেমে যায়, আমি উঠে নেমে যাচ্ছিলাম কন্ডাক্টর বলে আপনি না ২নং যাবেন? আপনাকে ওখানেই নামাই দিবো বসেন, আমি দরজার পাশে প্রথম সিটে আবারো বসলাম। বাস ড্রাইভার মিরর দিয়ে বারবার তাকাচ্ছিলো আমার দিকে, আমার সন্দেহ হতে থাকে,আমি পিছে তাকাই দেখি একটা মানুষ ও নাই।

আমি বললাম ভাই আমাকে নামাই দেন আমি ২নং গেইট যাবো না। যিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন উনি দরজাটা খুব তাড়াতাড়ি আটকে দেয়। আমি চিল্লাই উঠে বললাম ড্রাইভার বাস থামান আমি নামবো, উনি এমন ভান করছিলো যেন উনি আমাকে শুনতেই পাচ্ছেনা।

আমি ৯৯৯ টাইপ করছিলাম, এ সময় কন্ডাক্টর এসে আমার ব্যাগ নিয়ে নেয়, আমি ব্যাগ আটকানোর জন্য উনার সাথে টানাটানি করছিলাম আর সারাক্ষণ চিৎকার করছিলাম জানালা দিয়ে।

কন্ডাক্টর আমাকে ধাক্কা দেয় আমি দরজার সাথে খুব জোরে বাড়ি খাই। আমি পা দিয়ে দরজায় লাথি মারছিলাম, আর চিৎকার করছিলাম। আমার হিজাব টানছিলো দুইজন কন্ডাক্টরের একজন। আমি কান্না করে করে লাথি মারছিলাম দরজায় আর নিজেকে বাচাঁনোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছিলাম।

রাস্তার কিছু মানুষ ব্যাপারটি হয়তো নোটিস করেছিলো, আমি জানিনা। ড্রাইভার বলে ছেড়ে দে, সুবিধা নাই।

বাস থামায় আমি  জিনিস নিয়ে নেমে পুলিশ বক্স খুঁজছিলাম ইভেন আমি চিনিওনা জায়গাটা। বাস এর নাম্বার দেখতে পারিনি সবকিছু ঝাপসা মনে হচ্ছিলো।

একটা রিকশা নিলাম আর বাসায় আসলাম।

আল-হামদুলিল্লাহ এখন আমি সুস্থ এবং আমার ক্ষতি করতে পারেনি। জানিনা হয়তো সুবিধে পায়নি বলে এই যাত্রায় আমি বেঁচে গেছি কিন্তু অন্যদিন সুবিধে পেলে হয়তো অন্য একটি বোনের বা মায়ের রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যাবে। এদেশে মেয়েদের অনেক সম্মান! অনেক বেশিই!!!!

এদিকে ঘটনায় প্রদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এস এম মনিরুল হাসান জানান, বিষয়টি আমি জেনেছি। আমরা ভুক্তভোগী ছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি। অভিযুক্তকে শাস্তির আওতায় আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে। এদিকে যৌন হয়রানির শিকার চবি শিক্ষার্থী থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা যায়।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খ

২০১৯-১২-০২ ২০:৫৬:৩২

আপনার নিজেকে রক্ষা করার এই দৃষ্টান্তমূলক প্রচেষ্টাকে সম্মান জানাই । আপনার কোন ক্ষতি হয় নাই, এজন্য ভাল লাগছে, মহান আল্লাহর কাছে শোকরিয়া ।এই কুলাঙ্গারদের দ্রূত আইনের আওতায় আনার জন্য দাবি জানাচ্ছি । তবে, এদেশে মেয়েদের অনেক সম্মান! অনেক বেশিই!!!! আপনার এ কথাটির সাথে আমি এক নই ! কেননা, ঐ কুলাঙ্গারগুলো বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে না !এরা বাংলাদেশের পরিচিতি নয় ! পত্রিকায় দেখেছি, এ ঘটনায় 3 জনকে পুলিশ আটক করেছে, যে সকল পুলিশ সদস্য দ্রূত এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করেছে, অপরাধীদের আইনের আওতায় এনেছে তারাও এ দেশের মানুষ, এ দেশে বহু মানুষ ও সংস্থা নারীর আধিকার ও সম্মান প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করছে, এঁরা এদেশেরই মানুষ, এ ঘটনায় সবাই আপনাকে সাপোর্ট দিচ্ছে, অপরাধীদের বিচার চাচ্ছে তারা এ দেশেরই মানুষ ! তাই, এদের চেষ্টাকে সম্মান না দিন, অসম্মান করবেননা এ দেশই আপনাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার ও স্বাধীণভাবে চলার সুযোগ করে দিয়েছে ! চলার পথের বিচ্ছিন্ন ঘটনা এ দেশের সামগ্রিক অবস্থার প্রতিফলন নয় ! দেশকে ভালোবাসুন ! অন্যায়ের প্রতিবাদ করুন ! দেশবাসির আকুন্ঠ সমর্থণ পাবেন ! সবশেষে, এ ঘটনার নিন্দা জানা্ই । দ্রুত কঠোর শাস্তি দাবি করছি ।

Emon

২০১৯-১১-২৮ ০৭:৩৩:৪৭

এ সব থেকে আমরা কবে রেহাই পাব।এসব কুলানগারদের জনসম্মুখে শাস্তি দিতে হবে।বোনটা university পড়ুয়া বলে হয়ত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে বেঁচে গেছে। সাধারন মেয়ে হলে হয়ত কৌশলে আটকে যেত।এসব মানুষ নামক helper/driver দের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

Md. Harun al Rashid

২০১৯-১১-২৮ ০৬:১৯:৫৬

Oh Allah! The girl is saved. Our demand to police is to verify the CC cameras of the entire street and find the culprits responsible and put them behind the bar.

আপনার মতামত দিন

শিক্ষাঙ্গন অন্যান্য খবর

একাদশে ভর্তির সময় ফের বাড়লো

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০



শিক্ষাঙ্গন সর্বাধিক পঠিত