বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৩

শেষের পাতা

কলকাতা প্রতিনিধি | ১৬ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:২৬
বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে অপহরণের ঘটনায় কলকাতা পুলিশ বৃহস্পতিবার এক দম্পতিসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনজনের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছিলেন
বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্রের খবর, স্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার কেনার জন্য বসির প্রচুর অর্থ সঙ্গে নিয়ে কলকাতায় এসেছিলেন। আর এই স্বর্ণালঙ্কার কেনার জন্য তিনি তার পূর্ব পরিচিত সেলিমের সাহায্য চেয়েছিলেন। সেলিমকে এই কথা জানানোর পরই তিনি মোটা টাকা হাতানোর লক্ষ্যে বসির মিঞাকে অপহরণের ছক কষেছিলেন বলে পুলিশের ধারণা। সেলিমকেই এই অপহরণ পরিকল্পনার মাথা বলে পুলিশ মনে করছে।

বাংলাদেশের ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কাপড়ের ব্যবসায়ী বসির মিঞাকে গত ৭ই নভেম্বর উত্তর ২৪ পরগণার হাবড়া থেকে অপহরণ করা হয়। দুইদিন পর মুক্তিপণ দিয়ে বশির ও তার বন্ধু ইলিয়াস কোনরকমে পালিয়ে কলকাতায় এসে এন্টালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
পুলিশ তদন্ত শুরু করেই বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর পূর্ব পরিচিত মহম্মদ সেলিমকে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ক্যানিং থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে জেরা করে হাবড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শেখ সালাউদ্দিন ওরফে সালাহউদ্দিন এবং তার স্ত্রী নাসিমাকে। সালাহউদ্দিনের গুমার বাড়িতেই আটকে রাখা হয়েছিল বসিরকে।

তন্তকারীরা জানান, ওই চক্রে আরও বেশ কয়েকজন রয়েছে। তাদের সন্ধানে পুলিশ তল্লাশি চালাচ্ছে। বসির অভিযোগ করেছেন, তাকে আটকে রেখে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল। পরে বসিরের বাবা মহম্মদ সিকান্দরকে ফোন করে হাবলার পথে ৬ লাখ টাকা আনিয়ে মুক্তিপণ দিয়ে বসির ছাড়া পেয়েছেন। অবশ্য অপহরণকারীরা একজন দালালের মারফত বসিরকে সীমান্তের ওপারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু বসির চিৎকার করে বিএসএফকে সব বলে দেবে বলে ভয় দেখানোয় দালাল তাকে রেখে সরে পড়ে। এই ফাঁকেই বসির ও তার বন্ধু ইলিয়াস কলকাতায় চলে এসেছিল।

বসির অভিযোগ করেছে, অপহরণকারীরা আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তার কাছে থাকা ৭৫০০ মার্কিন ডলার এবং ৪৫ হাজার রুপি সহ দামি সব জিনিস হাতিয়ে নিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেলিমের কোনও ঠিকানা দিতে পারেননি অভিযোগকারী। কিন্তু মোবাইলের টাওয়ারের সূত্রে ধরে সেলিমকে ফাঁদ পেতে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ক্যানিং এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেলিম বাংলাদেশি নাগরিক হলেও গত ৬ বছর আগে তিনি অবৈধভাবে ভারতে এসে বাসন্তী এলাকায় ঘাঁটি তৈরি করেছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিকদের মোটা টাকার বিনিময়ে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে শ্রমিক হিসেবে পাঠানোর চক্রের সঙ্গে তিনি যুক্ত। সেলিম ভারতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভুয়ো নথি তৈরি করে দিতেন। পুলিশের মতে, মুক্তিপণ আদায় করার একটি গ্যাংও চালান সেলিম। এর আগেও তিনি একাধিক বাংলাদেশি ব্যবসায়ীকে একই কায়দায় আটকে রেখে টাকা আদায় করেছেন। কিন্তু আগে প্রতিবারই তিনি মুক্তিপণ আদায়ের পর সীমান্তে দালালদের দিয়ে চোরা পথে অপহৃত ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে দিতেন। ফলে কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। ধৃত তিন জনকে শিয়ালদহ আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতদের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

নিহত তরুণীর পরিচয় মিলেছে

আদালতে ‘বিশৃঙ্খলা’ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সরকার: আইনমন্ত্রী

শপথ নিলেন জামায়াতের নতুন আমির

কায়সার কামাল কারাগারে

টিসিবি'র পিয়াজ বিক্রি করতে হেলমেট পরতে হয় না, তাই...

সিলেট আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্ব

‘আপিল বিভাগে এমন অবস্থা আগে কখনো দেখিনি ’

প্রতিবন্ধীরা যেন পরনির্ভরশীল না থাকে: প্রধানমন্ত্রী

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত শুরু

রোববার থেকে সারাদেশের বারে আইনজীবীদের অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হুয়াওয়ের নতুন আইনি চ্যালেঞ্জ

ধর্ষণ, বিভৎসতা: মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন অগ্নিদগ্ধ ধর্ষিতা

রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রা সংখ্যালঘুতে পরিণত হয়েছে: টিআইবি

মালদ্বীপকে ৬ রানে গুটিয়ে দিলো বাঘিনীরা

‘একটি নয়, তিনটি টুপি জঙ্গিরা কারাগার থেকে এনেছিলো’

আপিল বিভাগে নজিরবিহীন বিক্ষোভ (ভিডিও)