রেবেকার টিকে থাকার গল্প

বাংলারজমিন

এস আলম তুহিন, মাগুরা থেকে | ১৬ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার
২৮ বছরের সংসার রেবেকার। স্বামী আবদুল হালিম যখন যাত্রীবাহী পরিবহনের সুপারভাইজার ছিলেন কিংবা দুবাই প্রবাসী। তখন সংসার ছিল সচ্ছলতায় ভরা। ২ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী গুরুতর আহত হওয়ায় সেই সচ্ছলতার বদলে সংসার ঘিরে ধরে চরম দারিদ্র্য। সংসারের সব বোঝা তখন ভর করে রেবেকার কাঁধে। তখন থেকেই রেবেকার সকাল হয় মাগুরার বিভিন্ন সবজি ক্ষেত থেকে পাইকারি দরে সবজি কেনার তাগিদ নিয়ে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রেবেকা ছোটেন সবজি ক্ষেতে। যেখানে পাইকারি দরে কেনেন লাউ, কফি, কুমড়া, পেপেসহ নানা সবজি।
প্রতি রবি ও বৃহস্পতিবার মাগুরার নতুন বাজার-হাটে এগুলো বিক্রি করেন তিনি। বাকি দিনগুলোতে পিকআপ বোঝাই সবজি নিয়ে যান গাজীপুর, ঢাকার মিরপুর, স্লুইসগেট, আবদুল্লাহপুর কাঁচাবাজারে। আর দশজন পুরুষের মতোই পাইকারের এই কাজটি তিনি করছেন সফলভাবে দু’বছর ধরে। রেবেকা জানান, তার বাবার বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার বেরইল পলিতা গ্রামে। আঠাশ বছর আগে বিয়ে হয় সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানার সুবেদবাজারের আবদুল হালিমের সঙ্গে। তাদের সংসারে রয়েছে ১ ছেলে ২ মেয়ে। বিয়ের পর দীর্ঘদিন স্বামীর বাড়িতে সংসার করেছেন রেবেকা। ২ বছর আগে ফরিদপুরের কানাইপুরে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রায় অচল হয়ে পড়েন পরিবহন শ্রমিক স্বামী আবদুল হালিম। সেই থেকে সংসারের দায়িত্ব রেবেকার কাঁধে। মূলত দুর্ঘটনার পরই রেবেকা সিলেট ছেড়ে মাগুরায় চলে আসেন। মাগুরার শিবরামপুরে আরেফিন সালেহিন বিনা ভাড়ায় তাদের থাকতে দিয়েছেন। সেখানেই আছেন পঙ্গু স্বামী ও ছেলে মেয়েদের নিয়ে। রেবেকা জানান, তার নিজের কোনো পুঁজি নেই। ব্যবসার লেনদের ভালো থাকায় সবাই বিশ্বাস ক’রে তাকে বাকিতে সবজি দেন। পরে বিক্রি করে তাদের টাকা শোধ করেন। তার সবজি কেনাবেচা মুলত দৈনিক ভিত্তিক। এ কারণে খুব একটা পুঁজির প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি সব কাজ নিজেই করেন বিধায় লাভ ভালো হয়। মাগুরায় যে দু’দিন তিনি সবজি বিক্রি করেন সে ক’দিন গড়ে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা আয় হয় তার। ঢাকার পাইকারি বাজারে গেলে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা লাভ থাকে। রেবেকা বলেন, ‘কাজের ক্ষেত্রে নারী পুরুষ কোনো ভেদাভেদ নেই। মনের মধ্যে সাহস রাখি। রাতবিরাতে কখনোই কোনোদিন সমস্যা হয়নি বরং সমস্যায় পড়লে পুরুষরাই এগিয়ে আসেন। রেবেকা আরো জানান, সকাল থেকে রাত অবধি ব্যবসায়িক কাজের ফাঁকে স্বামী, ছেলে-মেয়ের দেখাশোনার কাজ করতে হয় সমানভাবে। সামলাতে হয় রান্নার কাজ। শিবরামপুরের কৃষি উদ্যোক্তা ফেরদৌস আহমেদ দিদার রেবেকা প্রসঙ্গে বলেন, খুব ভোরে আমার সবজি ক্ষেত থেকে লাউসহ বিভিন্ন সবজি সংগ্রহ করেন রেবেকা। পাশাপাশি অন্যান্য ক্ষেত থেকে একইভাবে সবজি সংগ্রহ করেন। তিনি একজন সফল ক্রেতা ও বিক্রেতা। সব সময় ভালো মানের সবজি তিনি ভালো দামে কেনেন। তার কেনা সবজি ভালো হওয়ায় বাজারের ক্রেতাদের আগ্রহ অনেক বেশি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

খেলতে বাধা দেয়ায় দুই নারীর বিরুদ্ধে থানায় শিশুর অভিযোগ

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সারাদেশে যুবদলের বিক্ষোভ কাল

৩ ইইউ শক্তির চিঠি প্রত্যাখ্যান, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি জারি রাখবে ইরান

ঘুষসহ সিভিল এভিয়েশনের কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

রুম্পার মৃত্যু ঘিরে রহস্য

‘বিএনপি স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের অংশ, আচরণেই প্রমাণ করে’

‘প্রকল্প নির্মাণের সময় পরিবেশের ক্ষতি নিয়ে আমরা কেউ ভাবিনা’

বিস্মিত ফখরুল

শ্বেত ভাল্লুকের দখলে রুশ গ্রাম

দিনে নূরের সংবাদ সম্মেলন, রাতে ‘কোপানোর’ হুমকি

ভুটানকে ১০ উইকেটে হারালো সৌম্যরা

উবার: যুক্তরাষ্ট্রে ২ বছরে ৬ হাজার যৌন হামলার অভিযোগ

চট্টগ্রামে শিপইয়ার্ডে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দ্বগ্ধ ৭

হোটেলে নোটিশ, ‘পেঁয়াজ চাইয়া লজ্জা দিবেন না’

পূর্ব আফ্রিকায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ২৬৫

‘বাংলা সংগীত ও চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই’