শ্রমিক লীগের নেতৃত্বে মন্টু-খসরু

বাকশাল ছিল ঐক্যের প্ল্যাটফরম: প্রধানমন্ত্রী

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ১০ নভেম্বর ২০১৯, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৬
দেশের কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সামপ্রতিক আন্দোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, স্বাধীনতা ভালো তবে বালকের জন্য নহে। তিনি এ ধরনের বালকসুলভ কথাবার্তা না বলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে লেখাপড়া করতে পারে সে বিষয়ে মনোযোগ দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক লীগের ১৩তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’  পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে বলেও জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের লক্ষ্যে দেশের সব শ্রেণির মানুষকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ ঐক্যের নাম বাকশাল। বাকশাল ছিল ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম। এদিকে জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি পদে ফজলুল হক মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক পদে আজম খসরু নির্বাচিত হয়েছেন।
কার্যকরী সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আবুল কালাম আজাদ। এর আগে সকালে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সম্মেলনে সারাদেশের ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার প্রায় ৮ হাজার কাউন্সিলর এবং ডেলিগেটরা অংশ নেন। সম্মেলন উপলক্ষে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রমিক লীগের দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন সংগঠনটির সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। পরে শিল্পী ফকির আলমগীরের নেতৃত্বে একই শিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পিরা মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। এরপরই পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্দোলনরতদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি মনে করি আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব সুবিধা পায় পৃথিবীর কোনও দেশ এত অল্প খরচে পড়াশোনোর এত সুযোগ দেয় না। এটা সত্য, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসন আছে। কিন্তু টাকা দিচ্ছে কারা। টাকা তো সরকার দিচ্ছে। সরকারের টাকা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে যায়। সেখান থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেয়া হয়। একজন শিক্ষার্থীর মাসে মাত্র ১৫০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু এই টাকায় কি উচ্চশিক্ষার খরচ হয়? প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কত লাখ টাকা খরচ হয় প্রতি সেমিস্টারে। আর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কত লাগে। সে টাকা যোগান দেয় সরকার। দুই লাখ আড়াই লাখ টাকা খরচ হয় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পেছনে। ইঞ্জিনিয়ার, মেডিকেল ও কারিগরিতে খরচ আরও বেশি হয়। সব টাকা তো সরকারের পক্ষ থেকে যাচ্ছে। কাজেই সেখানে ডিসিপ্লিন দরকার। শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা পাবে, নিজেদের জীবনকে উন্নত করবে সেটাই আমরা চাই। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখি অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নাকি আমরা বুঝি না। যারা কথা বলছেন তারাই বোঝেন। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন তারাই বোঝেন। পড়াশোনা নষ্ট করে স্ট্রাইক করে দিনের পর দিন কর্মঘণ্টা নষ্ট করবেন, যারা ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া ব্যাহত করবেন তারাই বোঝেন। আর বুঝবো না আমরা। এটা তো হয় না। অর্থ দেবে সরকার, সব রকম উন্নয়ন প্রকল্প সরকার করবে। সেটা নিতে খুব ভালো লাগবে আর সরকার সেখানে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারবে না এটা কখনও হতে পারে না। সরকারপ্রধান বলেন, কথায় বলে-স্বাধীনতা ভালো তবে বালকের জন্য নহে। এটাও মাথায় রাখতে হবে। কাজেই আমি মনে করবো এ ধরনের বালক সুলভ কথাবার্তা না বলাই ভালো। বরং ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করবে, তাদের সময় যেন নষ্ট না হয়, উপযুক্ত সময়ে ভালো রেজাল্ট করে জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে সেটাই আমরা চাই। কাজেই উসকানি দিয়ে ছাত্রদের বিপথে নেয়া আর মুখরোচক কথা বলা এটা কখনও কেউ মেনে নিতে পারে না। তা যদি করতে হয় তবে নিজেদের বেতন নিজেদের দিতে হবে। নিজেদের খরচ নিজেরা চালাবে। সরকার সব টাকা বন্ধ করে দেবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইদানিং দেখছি, কোনও কথাবার্তা নাই ব্যবস্থা নেয়ার পরও কয়েকজন মিলে অহেতুক অভিযোগ তোলে। আইনে আছে- কারও বিরুদ্ধে কেউ যদি কোনও অভিযোগ তোলে সেটা যদি প্রমাণিত না হয় তবে সেই অভিযোগকারীর বিচার হয়, সাজা হয়।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতির দ্রুত বিকাশের লক্ষ্যে দেশের সব শ্রেণির মানুষকে নিয়ে একটি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এ ঐক্যের নাম বাকশাল। বাকশাল ছিল ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম। তিনি বলেন, বন্ধ শিল্প কারখানাগুলোর মালিক যারা পাকিস্তানি ছিলেন সেই কারখানাগুলো জাতীয়করণ করে পুনরায় চালু করেছিলেন। ৮২ শতাংশ মানুষ তখন দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছিলেন। শ্রমিক শ্রেণির ভাগ্য পরিবর্তনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের জন্য কাজ করেছিলেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশ গড়ে তুলে বাংলাদেশকে যখন অর্থনৈতিক অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন নানা ধরনের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের শিকার হচ্ছিলো বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র বিমোচন, গণতন্ত্রকে সুসংহত এবং বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা এ লক্ষ্য সামনে নিয়ে বঙ্গবন্ধু সকল দল, মত, সরকারি বেসরকারি, সামরিকসহ সব প্রতিষ্ঠানসহ সবাইকে একত্রিত করে একটি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে সকলে এক হয়ে কাজ করে দেশের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি সকলকে নিয়ে যে প্ল্যাটফর্ম করেছিলেন তা ছিল ঐক্যের প্ল্যাটফর্ম যাকে সবাই বাকশাল বলে। তার এ উদ্যোগের মধ্য দিয়ে তিনি চেয়েছিলেন বাংলাদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি দ্রুত করতে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রেও বঙ্গবন্ধু ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। যারা জনগণের জন্য কাজ করবেন তারা যেন জনগণের ভোট পান সেটা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও তিনি নিয়েছিলেন। তখন যে দু’টি নির্বাচন ও উপনির্বাচন হয়েছে সেখানে দু’জন স্কুল মাস্টার জয়ী হয়েছিলেন। কারণ তাদের কোনও অর্থ খরচ করতে হয়নি। রাষ্ট্রের পক্ষে থেকে প্রতি প্রার্থীর প্রচারের ব্যবস্থা করা হতো। শুধু মানুষের কাছে গিয়ে প্রার্থীরা ভোট চাইতে পারতো। কোনও অর্থ খরচ করতে হতো না। এ রকম একটা ব্যবস্থা তিনি চালু করেছিলেন। বক্তব্যের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা দুঃসংবাদ আছে, আমাদের বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় দেখা দিয়েছে। দোয়া করবেন ঝড়ে যেন ক্ষয়ক্ষতি না হয়। ঝড় মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঝড় মোকাবিলা এবং মানুষকে রক্ষা করার জন্য সবরকম প্রস্তুতি আমাদের নেয়া আছে। এমনকি ঝড় পরবর্তী ত্রাণ কার্যক্রম যাতে চালানো যায় সে ব্যবস্থাও আমরা নিয়েছি। দুযোর্গ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের নেয়া বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, প্রাকৃতিক দুযোর্গ মোকাবিলায় আমরা ইতোমধ্যে যথেষ্ট পারদর্শিতা অর্জন করেছি। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মানুষের জানমাল বাঁচাবার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি এবং দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য ইতোমধ্যে আমরা একটা ট্রাস্ট ফান্ড করে এ প্রাকৃতিক দুযোর্গ এবং গ্লোবাল ওয়ার্মিং থেকে বাংলাদেশ যাতে রক্ষা পায় সেই কর্মসূচিও আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমি মনে করি পৃথিবীতে বোধ হয় বাংলাদেশই একমাত্র দেশ প্রথম এ ব্যবস্থা নিয়েছে। এদিকে সহযোগী সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগকে শ্রমিক শ্রেণীর মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমি আশা করি, আমার শ্রমিক লীগ-উপযুক্তভাবে শ্রমিক লীগ গড়ে উঠবে। শ্রমিক শ্রেণীর মানুষের কল্যাণে তারা কাজ করবে। তারা তা করে যাচ্ছে। আগামীতেও সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি যে আসবে, এই শ্রমিক শ্রেণীর কল্যাণে কাজ করবেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণে আমরা সবসময় আন্তরিক এবং সেটা যেকোনো শ্রেণীই হোক না কেন। মানুষকে আমরা মানুষ বলে গণ্য করি। তাদের শ্রমের মর্যাদা আমরা দেই। দেশের উন্নয়ন যাতে ত্বরান্বিত হয় সে লক্ষ্যে কাজ করতেও শ্রমিক লীগের প্রতি আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। এসময় শ্রমিকদের কল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকারের নানা কার্যক্রম ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। শ্রমিক সেবা বাড়াতে ট্রেড ইউনিয়ন রেজিস্ট্রেশন সহজীকরন করা হয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ইতিমধ্যে শ্রমিক পরিদর্শনের একটা ব্যাপার রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে। এজন্য শ্রমিক পরিদর্শন অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এর কার্যক্রম শুরুও হয়েছে। অ্যাপে অনলাইনের মাধ্যমে যাতে পরিদর্শন করে শ্রমিকের কল্যানে কাজ করা যায়। অর্থাৎ ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রমিকদের কল্যান সাধন। আওয়ামী লীগ সরকার শ্রমিক বান্ধব হওয়ার কারনে দেশে ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে ২০১৩ সালে যেখানে তৈরি পোশাক খাতে ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ছিলো মাত্র ৮২টি সেখানে আজকে ৮৮২টি ট্রেড ইউনিয়ন হয়েছে। তাছাড়া সমস্ত সেক্টরে আমাদের ট্রেড ইউনিয়নের সংখ্যা ৮হাজার ৩৪টি। জানি না পৃথিবীর উন্নত দেশেও এতোগুলো ট্রেড ইউনিয়ন আছে কি না আমার সন্দেহ। এ সময় তিনি জানান, রাজধানীর বিজয়নগরে ২৫ তলা শ্রম ভবন নির্মাণ করছে সরকার। শিগগিরই এটি উদ্বোধন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলে মানুষ উন্নয়নের সুফলটা পাচ্ছে।
সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, গত ৪৪ বছরে বাংলাদেশের সবচেয়ে দক্ষ প্রশাসক, সবচেয়ে সৎ ও সাহসী রাজনীতিবিদের নাম শেখ হাসিনা। ৭৫ পরবর্তী সফল কূটনীতিকের নাম শেখ হাসিনা। আপন ঘর থেকে দুঃসাহসিক শুদ্ধি অভিযান চালিয়ে তিনি সততার প্রমাণ দিয়েছেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ। সভা পরিচালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজসহ তিনজন বিদেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
শ্রমিক লীগের নতুন কমিটি: জাতীয় শ্রমিক লীগের নতুন সভাপতি হয়েছেন ফজলুল হক মন্টু, সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন কে এম আজম খসরু। এছাড়া কার্যকরী সভাপতি হিসেবে মোল্লা আবুল কালাম আজাদের নাম ঘোষণা করা হয়। নতুন সভাপতি আগের কমিটির কার্যকরী সভাপতি, আযম খসরু প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও আজাদ সহ সভাপতি ছিলেন। ফজলুল হক মন্টু ইতিপূর্বে একাধিকবার শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এবং পাবনা জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে ট্রেড ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ফজলুল হক মন্টু। তিনি ১৯৬৯-৭০ সালে পাবনা জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্বে ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি পাবনা জেলা মুজিব বাহিনীর প্রধানের দায়িত্বও পালন করেন। সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু ইতিপূর্বে সোনালী ব্যাংক সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। কাউন্সিলে সভাপতি পদে সাতজন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৩ জনের নাম প্রস্তাব করা হয়। তাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তবে ওই বৈঠকে সমঝোতা না হওয়ায় শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং কার্যকরী সভাপতি ঠিক হয় বলে জানান ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে যাদের নাম এসেছে তাদেরকে নিয়ে আমরা সমঝোতায় বসেছিলাম। সমঝোতায় কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত না আসায় সবাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার উপর দায়িত্ব দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক লীগের তিনজনের নাম বলেছেন। আশা করি, আপনারা এই কমিটি নিয়ে শ্রমিক লীগ সুসংগঠিত করবেন। নতুন সভাপতি মণ্টু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে শ্রমিক লীগের সভাপতি পদে দায়িত্ব দিয়েছেন, আমি সৎ এবং নিষ্ঠার সাথে আমার দায়িত্ব পালন করব। নতুন সাধারণ সম্পাদক আজম খসরু বলেন, সারাদেশে শ্রমিক লীগ সুসংগঠিত করে রাখবো। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয় সর্বশেষ ২০১২ সালে। ওই সম্মেলনে সভাপতি হন শুক্কুর মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান সিরাজুল ইসলাম। ৩ বছরের কমিটির মেয়াদ থাকলেও চলেছে প্রায় ৮ বছর।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন