আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলার রায় আগামীকাল

ফেনী প্রতিনিধি

অনলাইন ২৩ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার, ১:৫৬

আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার রায় আগামীকাল। বৃহস্পতিবার সকালে ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ এ রায় প্রদান করবেন। রায় প্রদানের সময় সকল আসামি আদালতে উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হাফেজ আহমেদ।

পিপি হাফেজ আহমেদ জানান, নুসরাত হত্যা মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৪ (১) ও ৩০ ধারায় রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষ আশা করছে, রায়ে সকল আসামির সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত হবে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী এম. শাহজাহান সাজু বলেন, মাত্র ৬১ কার্যদিবসে বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার নিষ্পত্তি হতে চলেছে। যা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

নুসরাতের মা শিরীনা আক্তার বলেন, আমি আমার কলিজার টুকরা মেয়ে হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এমন শাস্তি হোক যেন পৃথিবীর অন্য কোথাও কোনো মায়ের বুক এভাবে খালি না হয়।

তিনি আরও বলেন, আমার একমাত্র মেয়েকে ঘাতকরা যেভাবে হাত-পা বেঁধে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, তেমন কঠিন সাজা যেন দেয়া হয় অভিযুক্ত প্রত্যেক আসামিকে।

আসামিপক্ষ থেকে হুমকি-ধামকির ব্যাপারে নুসরাতের মা বলেন, আসামিরা হুমকি দিচ্ছে, তারা নুসরাতের বাড়ি-ঘর পুড়িয়ে ফেলবে, ঘরে বাতি দেয়ার মত কোনো লোক থাকবে না বলেও হুমকি দিচ্ছে। নিজেদের নিরাপত্তার ব্যাপারে শিরীন আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ আমাদের পাহারা দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে, রায় কার্যকর হওয়া পর্যন্ত যেন এ নিরাপত্তা থাকে।

সোনাগাজী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঈদ উদ্দিন আহমেদ জানান, ঘটনার পর থেকে নুসরাতের বাড়িতে পুলিশী পাহারা রয়েছে। রায়কে কেন্দ্র করে বাড়িতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সাদা পোষাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও পরিবারের প্রতি নজরদারি করছে।

নুসরাত হত্যা মামলায় অভিযোগপত্রের আসামিরা হলেন, সোনাগাজীর চরকৃষ্ণজয়ের কলিম উল্যার ছেলে এসএম সিরাজ-উদ-দৌলা (৫৭), চরচান্দিয়া ইউনিয়নের উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মো. আহসান উল্যাহর ছেলে ও মাদ্রাসা ছাত্রদলের কথিত সভাপতি নুর উদ্দিন (২০), চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ভূঁইয়া বাজার এলাকার মো. আবদুর রাজ্জাকের ছেলে ও মাদ্রাসা ছাত্রলীগের কথিত সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক (সদ্য সাবেক) ও চরগণেশ গ্রামের আহসান উল্যাহর ছেলে মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ আল কাউন্সিলর (৫০), উপজেলার পূর্ব তুলাতলী গ্রামের আবুল বাশারের ছেলে মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের রহমত উল্যাহর ছেলে জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ (১৯), সফরপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে হাফেজ আবদুল কাদের (২৫), সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন (৩৩), চরগণেশ গ্রামের আবদুল আজিজের (পালক বাবা) মেয়ে কামরুন নাহার মনি (১৯), লক্ষীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে ও মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলার ভাগ্নি উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ওরফে তুহিন ওরফে শম্পা ওরফে চম্পা (১৯), পূর্ব চরচান্দিয়া গ্রামের আবদুল শুক্কুরের ছেলে আবদুর রহিম শরীফ (২০), চরগণেশ গ্রামের জামাল উদ্দিন জামালের ছেলে ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), মফিজুল হকের ছেলে ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), তুলাতলী গ্রামের সফি উল্যাহর ছেলে মোহাম্মদ শামীম (২০), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চরচান্দিয়া গ্রামের ভূঁইয়া বাজার এলাকার কোরবান আলীর ছেলে রুহুল আমিন (৫৫), উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের বোর্ড অফিস সংলগ্ন রুহুল আমিনের ছেলে মহিউদ্দিন শাকিল (২০)।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭শে মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর জের ধরে গত ৬ই এপ্রিল ওই মাদরাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগিরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা ৫ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে গত ১০ই এপ্রিল মারা যান নুসরাত জাহান রাফি। গত ৭ই এপ্রিল দগ্ধ নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসকদের কাছে মৃত্যুকালীন জবানবন্দি (ডায়িং ডিক্লেরেশন) দেয়।



পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

ইউসুফ কামাল

২০১৯-১০-২৩ ০৫:৪০:৩৭

বাংলাদেশে বিচার ব্যাবস্থার উন্নতি হয়েছে। এই প্রথম দেখলাম ৬১ দিনের মধ্যে রায় ঘোষণা করা হবে। তবে রায় ঘোষণা সাথে সাথে যদি শাস্তি কার্যকর করে তাহলে বাংলাদেশের বিচার ব্যাবস্থাকে স্যালুট জানাবো।

এ বি এম মেসবাহ উদ্দি

২০১৯-১০-২৩ ০২:৪১:৪৯

পক্ষপাতহীন দৃষ্টান্ত মূলক সাজা চাই। নুসরাতকে তার মা-বাবা ফেরত পাবে না, ন্যায় বিচার পেয়ে যাতে তারা শান্তি পায়, এটাই কামনা করবো।

Kazi

২০১৯-১০-২৩ ০২:৩৯:৫৮

দেশে অরাজকতা কত টুকু বেড়েছে তার প্রমাণ বিচার প্রার্থীকে এরকম হুমকি । অপরাধীর বিচার চাওয়া ও যাবে না।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন -এর সর্বাধিক পঠিত