মোহাম্মদপুরের সেই সুলতান আটক

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন ১৯ অক্টোবর ২০১৯, শনিবার, ১১:১২ | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৪৪

মোহাম্মদপুরের সুলতান বলে খ্যাত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবকে বসুন্ধরার একটি বা‌ড়ি থে‌কে আটক  করেছে র‌্যাব-১ । আজ(শনিবার) রাত সাড়ে দশটার দিকে তাকে আটক করা হয়। বসুন্ধরার ওই বাড়িতে রাজিব গত ১৩ অক্টোবর থেকে আত্মগোপন করে আছেন। বাড়িটি তার আমেরিকা প্রবাসী বন্ধুর। এ খবর নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম। উল্লেখ্য, কাউন্সিলর রাজিবকে নিয়ে গত ১৪ অক্টোবর ‘মোহাম্মদপুরের সুলতান’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয় মানবজমিনে। এর পর থেকেই অনুসন্ধানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। শুধু তাই নয় সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ার পর অন্যান্য গণমাধ্যমও সংবাদ প্রকাশ করে তাকে নিয়ে।
তারেকুজ্জামান রাজিব কাউন্সিলর হওয়ার পরপরই সম্পূর্ণ বদলে যায় তার জীবন। চালচলনে আসে ব্যাপক পরিবর্তন।হঠাৎ কেউ দেখলে মনে হবে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো রাজা, বাদশাহ বা সুলতান। কোথাও গেলে সঙ্গে থাকে গাড়ি আর মোটরবাইকের বহর। রাস্তা বন্ধ করে চলে এসব গাড়ি। রোদে গেলে আশেপাশের কেউ ধরে রাখে ছাতা। সঙ্গে ক্যাডার বাহিনী তো আছেই। মাত্র চার বছরে মালিক বনে গেছেন অঢেল সম্পত্তি, গাড়ি আর বাড়ির।

ইচ্ছে হলেই বদলান গাড়ি। রয়েছে মোটা অঙ্কের ব্যাংক ব্যালেন্স। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও দিয়েছেন বাড়ি-গাড়ি। এই কাউন্সিলর নিজের এলাকায় গড়ে তুলেছিলেন রাজত্ব। চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, টেন্ডারবাজি, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ আর মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত করেছেন তার সাম্রাজ্য । মোহাম্মদপুরের বসিলা, ওয়াশপুর, কাটাসুর, গ্রাফিক্স আর্টস ও শারীরিক শিক্ষা কলেজ, মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এবং বাঁশবাড়ী এলাকায় তৈরি করেছেন একক আধিপত্য। ২০১৫ সালের কাউন্সিলর নির্বাচনে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী । বিভিন্ন কারসাজি করে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতা ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শেখ বজলুর রহমানকে হারান। অভিযোগ রয়েছে এরপর থেকেই এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করছেন না তিনি।

মোহাম্মদপুর এলাকায় যুবলীগের রাজনীতি দিয়েই শুরু হয় রাজীবের রাজনৈতিক জীবন। চালাক চতুর রাজীব অল্পদিনেই নেতাদের সান্নিধ্যে এসে মোহাম্মদপুর থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পদ বাগিয়ে নেন। এই পদ পেয়েই থানা আওয়ামী লীগের এক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধাকে প্রকাশ্যে জুতা পিটাসহ লাঞ্ছিত করেন। সে সময় যুবলীগ থেকে তাকে বহিষ্কারও করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তারেকুজ্জামান রাজীব মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বহিষ্কারাদেশ বাতিল করে উল্টো ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বনে যান। কেন্দ্রীয় যুবলীগের আলোচিত দপ্তর সম্পাদক আনিসুর রহমানকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা দিয়ে এ পদ কেনেন রাজীব। যুবলীগের সাইনবোর্ড আর কাউন্সিলরের পদটি ব্যবহার করে এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা, ডিশ ব্যবসাসহ নানা মাধ্যমে হয়ে উঠেন আরো দুধর্ষ ও বেপরোয়া।



পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Nasym

২০১৯-১০-২০ ০৮:১২:৩৭

Bangladesh is " ROLE MODEL"FOR MANY COUNTRIES" LOUGHABLE LIE,BUT AWAMI LEAGUE IS ROLE MODEL FOR POLITICAL PARTIES AROUND THE WORLD WHO WANTS TO RULE IT'S PEOPLE AS DICTATOR,TYRANT,GRAB POWER WITH THE HELP OF SECURITY FORCES,GAGING THE VOICE OF THE PEOPLE,ESTABLISHING A FAMILY DYNNASTY.

মফিজ

২০১৯-১০-১৯ ২১:০৮:৩৫

উন্নয়নের সরকার আবার দরকার!

অনিচ্ছুক

২০১৯-১০-১৯ ১৯:১১:৩১

এটা আওয়ামী লীগের একটা খন্ড চিত্র মাত্র। সারা বাংলাদেশের এক ই অবস্থা।

Kazi

২০১৯-১০-১৯ ১৭:৩২:৩৬

Councilor are Sultan of council constituency, MP's thoughts they are Emporer of their constituency. They never ever think they are elected representatives of people. In democratic county an elected person always thinks he is representative of all people who voted or not voted him. He behaves equally with all after election.

Shwapnohin

২০১৯-১০-১৯ ১১:৩৯:৪০

Thanks manabzamin..but plz Mohammapur e aro boro dokholbazz and corrupt politician ache.plz ektu report koren.

Kabir

২০১৯-১০-১৯ ১১:১৫:৫৫

Etar tu heavy goon. Last Eid ul Azha he has bought two COW which price was 15 lac. Any one can check @housing society road 1.

আপনার মতামত দিন

অনলাইন -এর সর্বাধিক পঠিত