ক্রিকেটে নয়া পোস্টার বয়

বিপ্রতীপ দাস

ষোলো আনা ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৮

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনাল ইডেন গার্ডেনে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য উইন্ডিজের চাই ১৯ রান। বল হাতে ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস। ব্যাট হাতে আনকোরা কার্লোস ব্র্যাথওয়েট। দ্বিতীয়বারে মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চুম্বন দেয়ার অপেক্ষায় ইংলিশরা। কিন্তু পরপর ৪ বলে ৪ ছয় মেরে নায়ক বনে গেলেন ব্র্যাথওয়েট। বিশিষ্ট ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ আবেগে বলে উঠলেন, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট, রিমেম্বার দ্য নেইম। ততক্ষণে চোখমুখ লাল হয়ে গেছে স্টোকসের।
যাকে অনেকেই ফ্লিনটফের উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করেছেন সেই তারাও আজকে হতবাক।

বাংলায় একটা প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে - পরাজয়ে ডরে না বীর। সেটার উজ্জ্বল উদাহরণ আজকের বেঞ্জামিন স্টোকস। মাঝে কেটে গেছে তিন বছর। সময়ের ব্যবধানে পরিপক্ব হয়েছেন তিনিও। এইবারে ঘরের মাটিতে বসে একদিনের ক্রিকেটের মেগা আসর। আসরের গোড়াতেই স্টোকস ঘোষণা দেন, এইবার একদিনের ক্রিকেটে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা খরা কাটবে থ্রি-লায়ন্সদের। তাদের হাতেই শোভা পাবে বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফি। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই ক্রিকেট দুনিয়া দেখে স্টোকস শো। দলের বিপর্যয়ে ব্যাট হাতে করেন ৭৯ বলে ৮৯ রান। বল হাতে নেন ২ উইকেট আর সঙ্গে ২টি ক্যাচ যার একটিকে ‘শতাব্দীর সেরা ক্যাচ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন অনেক ক্রিকেটবোদ্ধা। এমন স্মরণীয় পারফরম্যান্স তাকে এনে দেয় ম্যাচ সেরার পুরস্কার। নাটকীয় ফাইনালে আবারো ‘ওয়ান ম্যান আর্মি’ এর মতো লড়ে ইংল্যান্ডকে এনে দেন কাঙ্ক্ষিত শিরোপা।

যেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি এমন বীরোচিত ইনিংস খেলে দলকে শিরোপা এনে দেন, সেই নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ শহরেই ১৯৯১ সালের ৪ই আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন স্টোকস। তার বাবা ছিলেন রাগবি দলের কোচ, পরে তিনি পরিবার নিয়ে ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। সেখানে বয়সভিত্তিক দলে ক্রিকেটের হাতে খড়ি হয় স্টোকসের। ২০০৯ সালে ডারহামের হয়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে পথচলা শুরু হয় তার। আকর্ষণীয় পারফরম্যান্সের পুরস্কার স্বরূপ তিনি ডাক পান ২০১০ সালের যুব বিশ্বকাপে। সেখানে তিনি ভারতের বিপক্ষে শত রানের একটা দৃষ্টিনন্দন ইনিংস উপহার দেন। পরের বছরেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই ওয়ানডেতে অভিষেক ঘটে তার। ঠিক দুই বছর পরে লাল বলের ক্রিকেটে চিরশত্রু অজিদের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি। আর চলতি অ্যাশেজের দ্বিতীয় ম্যাচে চোখ ধাঁধানো অপরাজিত শতকের ইনিংসটাও লেখা থাকবে ইতিহাসের পাতায়। শেষ উইকেটে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যাওয়ার বিরল রেকর্ড সচরাচর দেখা মেলে না ক্রিকেটে।

ক্যারিয়ারে কালো অধ্যায়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয়েছিল তার। ২০১৭ সালে ক্যারিবীয় সফরে মদ্যপ অবস্থায়। মারধর করেন একজনকে। পরে অবশ্য নিজের কৃতকর্মের জন্য  সকলের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন।

ষোলো আনা অন্যান্য খবর

একজন প্রতিবাদী শারমিন

৩ ডিসেম্বর ২০১৯

বিশ্বনাথের নিজের গল্প

৩ ডিসেম্বর ২০১৯

তবুও স্বপ্ন বুনছেন ওরা

৩ ডিসেম্বর ২০১৯

সরজমিন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অন্যরকম জীবন

১৫ নভেম্বর ২০১৯

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

ক্ষমতাধর জয়

১৮ অক্টোবর ২০১৯

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

অঙ্গীকারেই সীমাবদ্ধ

১৮ অক্টোবর ২০১৯





পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

efti hasan

২০১৯-১০-১৭ ২১:৩৬:০৬

ভালো লাগছে রিপোর্টটা

আপনার মতামত দিন

ষোলো আনা সর্বাধিক পঠিত