ওঝার কাণ্ড

আল রাউফ

ষোলো আনা ২৩ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৪৬

রাস্তাঘাটে প্রায়শই চোখে পড়ে বিভিন্ন কবিরাজ ও ওঝার পোস্টার। সেসব পোস্টারে লেখা থাকে সকল রোগের সমাধান। এছাড়াও বান, টুনা, মামলা, ব্যবসায় শনির বাধা, শরীর বন্ধের তাবিজ ইত্যাদি। মোবাইলে কথা হয় এমন কয়েকজনের সঙ্গে।

মধুমিতা রায় কবিরাজ। পোস্টারে লেখা আসাম কামরূপ কামাক্ষা, মায়াং থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এই কবিরাজের বর্তমান ঘাঁটি সাভারে। প্রেমিকা চলে গেছে এমন সমস্যার কথা বলা হয়। এরপর সে নাম, পেশা, বয়স ইত্যাদি তথ্য শোনে।
প্রেমিকার সম্বন্ধেও তথ্য নেয়। এর সমাধান হিসেবে বলে, তোর বুকে এক মন্ত্র পড়ে ফুঁক দিতে হবে। আর হাতে বেঁধে দিতে হবে তাবিজ। এই তাবিজ পরতে হবে রাতে, গোসল শেষে। তুই এসে বুকে ফুঁক নিয়ে যা আর রাতে তাবিজ হাতে পরবি। চ্যালেঞ্জ ২ ঘণ্টার মধ্যে তোর মনের মানুষ বশে আসবে। এর জন্য তোর হাদিয়া আনতে হবে মাত্র ৩ হাজার ৩ টাকা।

সন্ধারাণী কবিরাজ। এই কবিরাজও এখন সাভারে। আর সেও প্রশিক্ষণ নিয়েছে আসাম কামরূপ কামাক্ষা, মায়াংয়ে। প্রথমে ফোন ধরে একজন ছেলে। কবিরাজ তো এখন মজলিশে। সমস্যার সমাধান করছেন। আপনার সমস্যার কথা আমাকে বলেন আমি লিখে রাখব। আমি তখন বললাম আমি তার সঙ্গেই কথা বলতে চাই। তার কথা মতো ১ ঘণ্টা পর ফোন দিলাম- আমি সন্ধা। তোর সমস্যার কথা বল। তখন বললাম, আমার স্ত্রী পরকীয়ায় আসক্ত। প্রায়ই ঝগড়া হয়। আমি এর থেকে মুক্তি চাই আপা। বেশ কিছু সময় চুপ করে থাকলো সে। এরপর বলল আমি যেভাবে বলব সেভাবে কাজ করতে পারবি তুই? তোর স্ত্রীর বালিশের ভেতর আমার মন্ত্র পড়া তাবিজ রাখতে হবে।  খাওয়াতে হবে পড়া পানি। আর স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশা করা যাবে না এক মাস। তোর স্ত্রী তোর জন্য ব্যাকুল হয়ে যাবে। তুই কাল বিকালে যোগাযোগ করে আমার মজলিশে চলে আয়। খরচের কথা বলতেই- চুপ কর বেয়াদব। এই খরচ দেয়ার মতো তোর শক্তি নেই। শুধু আমার জন্য দোয়া করবি আর হাদিয়া হিসেবে নিয়ে আসবি ১২শ’ ১৩ টাকা।

মো. মইনুল ইসলাম ওরফে মইনুল ওঝা। এই ওঝা প্রশিক্ষণ নিয়েছে নাগাল্যান্ড থেকে। মইনুল মহা গুরু আসাম থেকে আগত জিন সাধক। তার কাছে প্রেমে তৃতীয় পক্ষের আগমনের কথা বলতেই- বুঝেছি আর বলতে হবে না। আমার ও প্রেমিকার সম্পর্কে তথ্য নিলো। এরপর বলল, তোর হাতে বাঁধতে হবে মন্ত্র পড়া লাল শালু। তোর প্রেমিকা তোর পায়ের পাতা ধুয়ে মাথার কেশ দিয়ে মুছে দিবে। আর লাল শালু, আগরবাতি, মোমবাতি আর ১৩শ’ ৫০টাকা নিয়ে সাভার আয়। ফোন রাখার আগে আকুতি মিনতি করলাম- ভাই কাজটা করে দিতেই হবে। ভাই নাহলে আমার সব শেষ হয়ে যাবে। সে তখন কাজ হবার আশ্বাস দিলো। আর বলল, এটা তো ছোট কাজ। আমার এক মন্ত্রে বিশ্বকাপের ফাইনালে শেষ বলে রান আউট করাই ব্যাটসম্যানকে। আর এজন্য চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। বিস্ময় প্রকাশ করে বললাম, আপনি বাংলাদেশের জন্য মন্ত্র পড়লেন না কেন? ওসব তুই বুঝবি না।

বাদশা তান্ত্রিক ওঝা। পোস্টারে লেখা মানব সেবা ও সুপরামর্শ দেয়া হয়। আওয়াজ খুবই ভারী। ভাই আমার শারীরিক সমস্যা। দাম্পত্য জীবনে অসুখী। কস্তুরী ট্রাই করেছি কাজ হয়নি।  উত্তরে বলে,এটা খারাপ জিনের কাজ। খারাপ জিনকে বশে আনতে হবে। এর থেকে মুক্তির জন্য লাগবে তাবিজ, পানি পড়া। আর অর্থের কথা বলতেই- কোনো টাকা লাগবে না। তুই খুশি হয়ে যা দিবি তাই চলবে।

ষোলো আনা অন্যান্য খবর

একজন প্রতিবাদী শারমিন

৩ ডিসেম্বর ২০১৯

বিশ্বনাথের নিজের গল্প

৩ ডিসেম্বর ২০১৯

তবুও স্বপ্ন বুনছেন ওরা

৩ ডিসেম্বর ২০১৯

সরজমিন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অন্যরকম জীবন

১৫ নভেম্বর ২০১৯

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

ক্ষমতাধর জয়

১৮ অক্টোবর ২০১৯

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

অঙ্গীকারেই সীমাবদ্ধ

১৮ অক্টোবর ২০১৯





পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

efti hasan

২০১৯-১০-১৭ ২১:৩৬:০৬

ভালো লাগছে রিপোর্টটা

আপনার মতামত দিন

ষোলো আনা সর্বাধিক পঠিত