|
স্টাফ রিপোর্টার: যানজট নিরসনের জন্য দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে ঘরে-বাইরে সমালোচনা। মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তের শুরুতেই আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত তীব্র সমালোচনা করেন।
দেশের শিক্ষাবিদ, সাংবাদিকসহ সব মহল থেকে সমালোচনা হচ্ছে এ সিদ্ধান্তের। বিশিষ্ট ব্যক্তিরা বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। কয়েক দিন আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক নির্যাতন বন্ধের সিদ্ধান্তটি সব মহল প্রশংসা করেছেন। এর ক’দিন পরই সরকার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, সরকার একটা দিক সামাল দিতে গিয়ে অন্যদিক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তিনি বলেন, যানজট সমস্যা একেবারে সমাধান করা যাবে না এটা ঠিক। তাই বলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া ঠিক হয়নি। একটা সমস্যা সহজ করতে গিয়ে আরেকটা ক্ষতিগ্রস্ত করা ঠিক নয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৪ই আগস্ট থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ১৬ই সেপ্টেম্বর থেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সব সরকারি-বেসরকারি স্কুল কলেজ, কারগরি প্রতিষ্ঠান ও সমমনা ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ১৪ই আগস্ট থেকে ১৬ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং একই দিন থেকে ১৯শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাদরাসা বন্ধ থাকবে। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছেন, বন্ধ করে দেয়া কোন সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন হতে পারে না। বন্ধ না করে সবকিছু খোলা রেখেই জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে হবে। তিনি বলেন, তোষামোদ করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় না। গণতন্ত্রের ভাষা অত্যন্ত স্পষ্ট। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগ ও বাম সমর্থিত নীল দলের সাবেক আহ্বায়ক ও অনুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন বলেন, যানজট সমস্যা আমাদের সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ করে যানজট কমানোর সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। এটা কেউ সমর্থন করবে না। তিনি বলেন, আমি সব সময় স্কুল-কলেজ খোলা রাখার পক্ষে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। অধ্যাপক হোসেন আরও বলেন, যানজট কমানোর জন্য পরিকল্পিত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়ে সমস্যার কতটা সমাধান হবে তা চিন্তার বিষয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের চাঁদাবাজি ও টেন্ডার সন্ত্রাসের জন্য দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিরতা চলছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা চলছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের চারজন শিক্ষককে পিটিয়েছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। তিনি বলেন, এখন সরকারি সিদ্ধান্তে স্কুল-কলেজ বন্ধ হয়ে গেল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে ছোট ছেলে-মেয়েরা এমনিতেই পড়ালেখা করে না। তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে সরকারের আরও চিন্তা-ভাবনা করা উচিত ছিল। অধ্যাপক ইসলাম বলেন, মাথাব্যথা করলে তো মাথা কেটে ফেলা হয় না। সরকার মাথা কেটে ফেলার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা মেনে নেয়া যায় না। ফ্রান্সে প্রবাসী সাংবাদিক ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তটি শোনার পর বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। কোন গণতান্ত্রিক সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে তা চিন্তার বাইরে ছিল। তিনি বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। ফলে ছোট ছেলে-মেয়েরা অনেক পিছিয়ে পড়বে। যানজট সমস্যা সমাধানের জন্য সরকারের বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, এর আগে ফেসবুক বন্ধ করে দিয়েছিল সরকার। সিরাজগঞ্জের মোস্তাফিজুর রহমান রিকশা চালান ঢাকায়। তার বড় মেয়ে মমতাজ বেগম গ্রামের স্কুলে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়েন। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েরা তো স্কুলের ওপরই নির্ভরশীল। বাসায় শিক্ষক রেখে পড়াতে পারি না। এক মাস স্কুল বন্ধ থাকায় মেয়ে সব ভুলে যাবে। তিনি বলেন, অন্তত রোজা ১৫টা যাওয়ার পর স্কুল বন্ধ করলেও হতো। এতে ছেলে-মেয়েদের অনেক ক্ষতি হবে।
|