| ছেলের হাতে খুন প্রকৌশলী পিতা |
| Monday, 16 August 2010 | |
|
স্টাফ রিপোর্টার: ‘স্বামীর কাছে বাসা ভাড়ার টাকা চেয়েছিলাম, দেয়নি। উল্টো ছেলেকে ভাড়ার টাকা দিতে বলে। এতে আমার ও ছেলের মাথা গরম হয়ে যায়। ক্ষিপ্ত ছেলে বাবাকে বঁটি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।’
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য জানিয়েছেন নিহত প্রকৌশলী মো. আবদুর রহমানের স্ত্রী নাসরিন রহমান। অন্যদিকে ঘাতক ও সৎ ছেলে নাহিদ পারভেজ (২২)-কে পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মা ও ছেলে মিলে আবদুর রহমানকে কুপিয়ে খুন করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত প্রকৌশলী রাজধানী খিলগাঁও থানাধীন তিলপাপাড়ার ৭৪৪/এ নম্বর বাড়ির দো তলায় স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ভাড়া থাকতেন। বাসা ভাড়া সাড়ে ১০ হাজার টাকা। মাসের ১০ তারিখের মধ্যেই তা পরিশোধ করার নিয়ম। তবে চলতি মাসের ১৩ই আগস্ট পর্যন্ত ভাড়া না দেয়ায় শুক্রবার তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সৎ ছেলে নাহিদ পারভেজ বঁটি দিয়ে আবদুর রহমানকে কোপায়। এতে তার ঘাড়, বুক ও মাথা গুরুতর জখম হয়। বাড়ির মালিক তালেব আলীর ছেলে মখলেছুর রহমান ও শফিকুল রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ওইদিনই বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় বড় ভাই আবদুল মতিন নিহতের স্ত্রী নাসরিন ও সৎ ছেলে নাহিদ পারভেজকে আসামি করে খিলগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন। স্বামী হত্যার অভিযোগে শনিবার স্ত্রী নাসরিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদিকে খুনের নেপথ্যে আরও কোন বিষয় জড়িত কিনা পুলিশ তা তদন্ত করছে। মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনায় আবদুর রহমানের ওপর ক্ষোভ ছিল নাকি স্ত্রী নাসরিন রহমান পূর্বপরিকল্পিতভাবে ছেলেকে দিয়ে তার দ্বিতীয় স্বামীকে খুন করিয়েছে-পুলিশ এসব তথ্য জানার চেষ্টা করছে। নিহতের ভাই আবদুল মতিন ও বোন বেলি বলেন, নাসরিন ছিল দজ্জাল। নিয়মিত নেশা করতো। নেশায় বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতো। মায়ের দ্বিতীয় স্বামী হিসেবে আবদুর রহমানকে তার ছেলেরাও সহজভাবে গ্রহণ করেনি। এসব কারণেই আবদুর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। এদিকে গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট কণিকা বিশ্বাসের কাছে নিহতের ৮ বছরের মেয়ে স্নিগ্ধা ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে বলেছে, বাসা ভাড়ার টাকা নিয়ে আম্মুর সঙ্গে আব্বুর ঝগড়া হচ্ছিল। এ সময় পাশের ঘর থেকে বড় ভাই (নাহিদ পারভেজ) ছুটে এসে আব্বুকে বলে, তুমি আম্মুকে বকছো কেন? এর একপর্যায়ে ভাই পাশের ঘর থেকে বঁটি নিয়ে এসে আব্বুর গলায় কোপ মারে। খিলগাঁও থানার অপারেশন অফিসার আসলাম হোসেন বলেন, শুক্রবার সকালে বাসা ভাড়া দেয়ার জন্য স্ত্রী নাসরিন স্বামী রহমানের কাছে টাকা চায়। এ সময় রহমান তাকে বলেন, আমি তো চাকরি করছি না। টাকা পাবো কোথায়? তোমার ছেলেকে দিতে বলো। এ নিয়ে তাদের কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। এ সময় পাশের ঘরে থাকা নাহিদ পারভেজ বঁটি নিয়ে ছুটে গিয়ে তার পিতাকে কোপায়। ছেলেদের পড়াতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে প্রেম, বিয়ে নিহতের বোন বেলী জানান, প্রকৌশলী আবদুর রহমানের। স্থায়ী বাড়ি পশ্চিম রামপুরার ২/৫এ উলন রোডে। ১৯৯৬ সালে তিনি রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন। প্রথম বর্ষে অধ্যয়নকালে বিধবা নাসরিনের ২ ছেলে নাহিদ পারভেজ ও নাসিমের গৃহশিক্ষক ছিলেন তিনি। তখন নাহিদ ৩য় ও নাসিম ১ম শ্রেণীর ছাত্র ছিল। বাসায় পড়াতে গিয়েই নাসরিনের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরিবারের কাউকে না জানিয়ে ১৯৯৮ সালে তারা বিয়ে করেন। তবে এ বিয়ে মেনে নেয়নি রহমানের পরিবার। দু’বছর আগে তারা ঢাকায় আসেন। ওঠেন খিলগাঁও তিলপাপাড়ার ৭৪৪ নম্বর তালেব আলীর বাড়িতে। ৬ মাস আগে চাকরি ছেড়ে দিয়ে বেকার ছিলেন তিনি। তাদের ঘরে স্নিগ্ধা নামে ৮ বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। আগের পক্ষের ২ ছেলে নাহিদ ও নাসিম কোন কাজ করতো না। তারা এলাকায় বখাটে হিসেবে পরিচিত। |
| < পূর্বে | পরে > |
|---|
