পরিকল্পিতভাবেই খুন হয় ইব্রাহিম নেপথ্যে এমপি শাওন
Monday, 16 August 2010
Sample Image
শীর্ষ নিউজ: আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিতভাবেই খুন করা হয় যুবলীগ নেতা ইব্রাহিমকে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে  ভোলা-৩ আসনের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, তার  দেহরক্ষী দেলোয়ার ও কামাল হোসেন কালা জড়িত বলে অভিযোগে প্রকাশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এমপি শাওনের সঙ্গে ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠতা দীর্ঘদিনের। ঢাকা সিটি করপোরেশনে বিভিন্ন ঠিকাদারি কাজে ইব্রাহিম থাকতেন শাওনের পাশে। এই ঘনিষ্ঠতার সুবাদে শাওন পরিবারে নিয়মিত যাতায়াত ছিল ইব্রাহিমের। এক পর্যায়ে নারী কেলেংকারিতে জড়িয়ে পড়েন  ইব্রাহিম। এরপরই পরিণত হন শাওনের টার্গেটে।
সূত্রগুলো বলেছে, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গুলিস্তান মুক্তিযোদ্ধা ক্লাবের ভেতরেই ইব্রাহিমকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এমপি শাওনের বদৌলতেই এই ক্লাবের হাউজ থেকে একটা মোটা অঙ্কের মাসোহারা  পেতেন ইব্রাহিম। কিন্তু ওই রাতে ক্লাবের সামনে র‌্যাব ও পুলিশের নজরদারির কারণে কিলিং মিশন সফল হয়নি। শুক্রবার দিনের বেশির ভাগ সময় ইব্রাহিমকে নিয়ে এমপি শাওন তার পাজেরো জিপে করে মিরপুর সহ নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ইব্রাহিমকে নিয়ে শাওন জাতীয় সংসদ ভবনের ৬ নম্বর ব্লকের সামনে আসেন। এরপরই ওই গুলির ঘটনা ঘটে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত একাধিক মিডিয়ার মেডিকেল প্রতিবেদক জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তারা কালো রঙের একটি নোয়া মাইক্রোবাস এবং সংসদ ভবনের স্টিকার লাগানো একটি জলপাই রঙের পাজেরো জিপকে জরুরি বিভাগের সামনে পার্কিং করতে দেখেন। জিপ থেকে নামেন এমপি শাওন। বার্ন ইউনিটের সামনে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে তিনি মোবাইল ফোনে কথা বলেন কারও সঙ্গে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুবলীগ  মেডিকেল ইউনিটের কর্মী জীবন, রিটন, আওয়ামী লীগ কর্মী আলমসহ ১০-১৫ জন দলীয় কর্মী সমবেত হয় জরুরি বিভাগের সামনে। তাদেরকে এমপি শাওন প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেয়ার পরই কালো রঙের নোয়া মাইক্রোবাস থেকে গুলিবিদ্ধ ইব্রাহিমের রক্তাক্ত দেহ ধরাধরি করে ট্রলিতে নামানো হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ইব্রাহিমকে পরীক্ষার পর মৃত ঘোষণা করার পরই দ্রুত উধাও হয়ে যায় ওয়ার্ডের রাজনৈতিক কর্মীরা। এসময় এমপি শাওন মোবাইলে নিহত ইব্রাহিমের ভাই মাসুমকে ফোন করে বলেন, তোর ভাই গুরুতর অসুস্থ। মেডিকেলে আয়। এরপরই শাওন তার সহযোগীদের নিয়ে জিপ ও নোয়া মাইক্রোযোগে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
ইব্রাহিম কোথায় কিভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তা এখন স্পষ্ট নয়। তবে হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল সম্পর্কে বিভিন্ন সূত্র থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। একটি সূত্র দাবি করেছে, মণিপুর এলাকায় ইব্রাহিমকে হত্যা করা হয়। অন্য একটি সূত্র গাড়ির ভেতরে ইব্রাহিম খুন হয়েছে বলে দাবি করেছে। তবে শাওনের গাড়িচালক কালা এজাহারে যে ঘটনাস্থলের কথা বলেছে সেটি সংসদ ভবনের ৬ নম্বর ব্লক। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইব্রাহিম মারা যাওয়ার পর এমপি শাওন একটি অপমৃত্যুর এজাহার লিখে নিজ গাড়িচালক কামাল হোসেন কালাকে এজাহারের বাদী করেন। পরে কালাকে দিয়েই অপমৃত্যুর এজাহারটি থানায় পাঠানো হয়। এর আগে এমপি শাওন টেলিফোনে অপমৃত্যুর এজাহার রেকর্ড করার জন্য শেরেবাংলা নগর থানার ওসি রিয়াজ  হোসেনকে নির্দেশ দেন।
ওসি রিয়াজ হোসেন শীর্ষ নিউজ ডটকমকে জানান, যে  সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ পিস্তলের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন ইব্রাহিম সেটি সিজ করা হয়েছে। পিস্তলটি পরীক্ষার জন্য রোববার সিআইডি’র ফরেনসিক শাখায় পাঠানো হচ্ছে। এদিকে মৃতদেহ থেকে উদ্ধারকৃত গুলির স্প্লিন্টার আর খোসা একই কিনা তা দেখা হবে পরীক্ষা করে। তাছাড়া, এমপি শাওনের পিস্তল থেকে ফায়ার করা হয়েছিল কিনা সে ব্যাপারে সিআইডি’র মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাজেরো জিপটিও সিজ করা হয়েছে বলে ওসি জানান।

 
< পূর্বে   পরে >




 

সর্বশেষ খবর