| রাবিতে ভূরিভোজের টোকেন নিয়ে মারপিট |
| Monday, 16 August 2010 | |
|
রাবি প্রতিনিধি: জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে কাঙালি ভূরিভোজের টোকেন ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এবার ছাত্রলীগের সেক্রেটারি গ্রুপের কর্মীকে গুরুতর আহত করে দোতলা থেকে ফেলে দিয়েছে ছাত্রলীগের রাবি শাখার সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মীরা। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
গতকাল সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ মখদুম (এসএম) হলে এ ঘটনা ঘটে। পরে নাসরুল্লাহ নাসিম নামে ওই ছাত্রলীগ কর্মীকে গুরুতর অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নাসিমকে উচ্চ চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। সে এসএম হলের ২৫৫ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র বলে জানা গেছে। এসএম হল সূত্রে জানা গেছে, হলে সকাল ১০টা থেকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ভূরিভোজের টোকেন বিতরণ শুরু হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহ মখদুম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গ্রুপের কর্মী জাহিদের নেতৃত্বে ১০-১২ জন কর্মী হলের সেকশন অফিসারের কাছে ভূরিভোজের বেশ কয়েকটি টোকেন বেশি দাবি করে। কিন্তুু সেকশন অফিসার সিদ্দিকুর রহমান অতিরিক্ত টোকেন দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ সময় ছাত্রলীগের সেক্রেটারি অপু গ্রুপের কর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র নাসরুল্লাহ নাসিমসহ বেশ কয়েকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অতিরিক্ত টোকেন দেয়ার ব্যাপারে বিরোধিতা করে। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাক-বিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। পরে নাসিমকে দোতলায় ডেকে নিয়ে গিয়ে সভাপতি গ্রুপের কর্মী জাহিদ (সমাজকর্ম শেষ বর্ষ), জহুরুল (লোকপ্রশাসন মাস্টার্স), মশিউর রহমান (মনোবিজ্ঞান মাস্টার্স), রুহুল আমিন (রাষ্ট্রবিজ্ঞান তৃতীয় বর্ষ) এবং তৌফিক (বাংলা তৃতীয় বর্ষ)সহ ৮-১০ কর্মী হাতুড়ি দিয়ে মারধর করে এবং কোমরে থাকা চাকু দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে দোতলা থেকে নিচে ফেলে দেয়। সিমেন্টের ড্রেনের মাঝখানে পড়ে নাসিমের মাথা ফেটে যায়। বুকে, পেটে ও মেরুদণ্ডে মারাত্মক আঘাত লাগে। পরে নাসিমের আর্তচিৎকারে হলের আবাসিক ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে মারাত্মক আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানান। এদিকে এ খবর ক্যাম্পাসে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে এসএম হলসহ বিভিন্ন আবাসিক হলে অবস্থান করা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারি গ্রুপের নেতা-কর্মীরা লাঠিসোটা নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হল কর্তৃপক্ষ হলের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ, হল প্রশাসন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। পরে পুলিশ ওই হলের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালায়। পুলিশ এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রুহুল আমিন ও সাঈদ আক্তার নামে দু’জন ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে। এরা দু’জনই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং ছাত্রলীগের সভাপতি আওয়াল কবিরের কর্মী বলে জানা গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নাসিমের সঙ্গে থাকা তার বন্ধু রেজওয়ান, ফিরোজসহ আরও কয়েকজন জানান, নাসিমের নাক-মুখ দিয়ে অনবরত রক্ত বের হচ্ছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। রোববার বিকাল পর্যন্ত তার সংজ্ঞা ফেরেনি। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সেক্রেটারি গ্রুপের এসএম হল নেতা মুন্নাসহ কয়েকজন কর্মী দাবি করেন, ৭ই আগস্টের পর থেকে কিছু কর্মী তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে আসছে। আজ তারা ইফতারে বেশি টোকেন দাবি করায় নাসিমসহ কয়েকজন এর প্রতিবাদ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে দোতলা থেকে ফেলে দেয়া হয়। রাবি শাখা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সভাপতি আউয়াল কবির জয় দাবি করেন, যারা নাসিমকে দোতলা থেকে ফেলে দিয়েছে তারা ছাত্রলীগের কেউ নয়। তিনি এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এসএম হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র রায় জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। মতিহার থানার ওসি আবুল খায়ের বলেন, ক্যাম্পাসের হল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দু’ জনকে আটক করা হয়েছে। তবে বিকাল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি। |
| < পূর্বে | পরে > |
|---|
