|
নির্বাচন কমিশনের আইন লঙ্ঘন, বিপাকে ৬০ লাখ নাগরিক |
|
Monday, 16 August 2010 |
|
হাসান শাফিঈ: ‘নন রেসিডেন্স বাংলাদেশী’ (এনআরবি)-র বাইরে সব ধরনের নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি বন্ধ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে আগামী জানুয়ারির আগে কোন নাগরিক আর নতুন করে ভোটার হতে পারবেন না। পাশাপাশি ভোটার তালিকায় স্থান পাওয়া ভোটাররাও ভোটার এলাকা স্থানান্তরের সুযোগ পাচ্ছেন না।
অথচ ভোটার নিবন্ধন আইনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নাগরিকরা শর্ত পূরণ করে কেবল মাত্র নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন পর্যন্ত সময় বাদে যে কোন সময় ভোটার হতে পারবেন বা ভোটার এলাকা পরিবর্তন করে নতুন ভোটার এলাকায় স্থানান্তর হতে পারবেন। আইনের এ বিধান লঙ্ঘন করে কমিশন কেবল এনআরবি অর্থাৎ দেশে ফেরা সাপেক্ষে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটার করছে। নির্বাচন কমিশনের এ বেআইনি সিদ্ধান্তে বিপাকে পড়েছেন ভোটার হওয়ার যোগ্য সারা দেশের প্রায় ৬০ লাখ মানুষ। বিদেশ গমন, চাকরিতে যোগদান, ব্যাংক-বীমা প্রতিষ্ঠানে হিসাব খোলা, ঋণ তোলা, আমদানি-রপ্তানি ব্যবসা শুরু করা, যে কোন ধরনের ব্যবসায়িক লাইসেন্স চাওয়া, ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার ক্ষেত্রে- এমনকি বাসা ভাড়া ও গৃহপরিচারিকার কাজ পেতেও জাতীয় পরিচয়পত্র দেখানো বাধ্যতামূলক হয়ে যাওয়ায় ভোটারযোগ্য নাগরিকরা পড়ছেন বিপদে। কারণ, জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে নাগরিকদের অর্জন করতে হয় ভোটার হওয়ার যোগ্যতা। এ অবস্থায় ১৯৯০ সালের ১লা জানুয়ারির পর এবং ১৯৯১ সালের ১লা জানুয়ারির আগের এক বছরে যাদের জন্ম হয়েছে- সেই প্রায় ৬০ লাখ নাগরিকের ভোটার হওয়ার পথ বর্তমানে একেবারে বন্ধ। পাশাপাশি ভোটার হওয়ার পরও ইউনিয়ন ও পৌর নির্বাচন সামনে রেখে যারা ভোটার এলাকা স্থানান্তর চাইছেন তারাও পড়েছেন চরম বিপাকে। এদিকে, এনআরবি কোটায় যারা ভোটার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন তাদেরও পাড়ি দিতে হচ্ছে সমস্যার এক একটা সমুদ্র। নন রেসিডেন্স বাংলাদেশী কোটায় ভোটার হতে জেলা ও থানা নির্বাচন অফিস ঘুরে ব্যর্থ হয়ে ধর্না দিতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে। কমিশন সচিবালয় থেকে এ ধরনের নাগরিকদের দেখিয়ে দেয়া হচ্ছে আগারগাঁওয়ের ভোটার তালিকা প্রণয়ন সহায়তা প্রকল্প অফিস। এ অফিসে আসার পর ভোটার হতে আগ্রহী ব্যক্তিকে জানিয়ে দেয়া হচ্ছে, পাসপোর্টের ‘এরাইভেল’ সিলযুক্ত পৃষ্ঠার সত্যায়িত ফটোকপিসহ কমিশন নির্ধারিত ২ ও ১১ নম্বর ফরম পূরণ করে আবেদনপত্র জমা দিন। সূত্র জানায়, ভোটার হতে এ প্রক্রিয়ায় আবেদন করাই শেষ কথা নয়। আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা করা কাগজপত্রের তথ্য যাচাইয়ে তা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে ভেরিফিকেশনের জন্য পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। এ রিপোর্ট আসা সাপেক্ষে সংশ্লিষ্টরা সিদ্ধান্ত নেন আবেদনকারীর আবেদন গ্রহণ করে তাকে এনআরবি কোটায় ভোটার করা হবে কিনা। কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর পক্ষে সিদ্ধান্ত নিলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভোটার তালিকা প্রণয়ন সহায়তা প্রকল্প অফিসে ছবি তোলা ও ডাটা এন্ট্রির জন্য ডেকে পাঠানো হয়। ভোটার তালিকা প্রণয়ন সহায়তা প্রকল্প অফিস সূত্র জানায়, জটিল এ পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রতিদিন প্রকল্প অফিসে গড়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন প্রবাসী বাংলাদেশী ভোটার হতে পারছেন। এ প্রক্রিয়ায় ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে রাজধানীর গুলশান, বনানী, উত্তরা ও মহাখালী এলাকার মানুষ এগিয়ে আছে।
|