| মোশাররফ আইন লঙ্ঘনকারী |
| Wednesday, 11 August 2010 | |
|
মানবজমিন ডেস্ক: সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সেনা শাসক পারভেজ মোশাররফকে পাকিস্তানের একটি হাইকোর্ট আইন লঙ্ঘনকারী ঘোষণা করেছে। গতকাল সিন্ধু হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সারমাদ জালার উসমানি ওই ঘোষণা দেন। ওদিকে আরেক খবরে জানা গেছে, বিশ্ব ব্যাংক বলেছে- পারভেজ মোশাররফের শাসনামলে পাকিস্তানে দারিদ্র্য ছিল কম।
অনলাইন ডন জানায়, মৌলভী ইকবাল হায়দারের এক পিটিশনের রায় হয় গতকাল সিন্ধু হাইকোর্টে। ওই পিটিশনে তিনি দাবি করেছিলেন, সংবিধানের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাবেক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের বিরুদ্ধে মামলা করা উচিত। এতে তিনি মোশাররফকে সংবিধান লংঘনকারী হিসেবে চিহ্নিত করেন। অবৈধ উপায়ে জাতীয় সম্পদ ব্যবহার করেছেন। কেন্দ্রীয় শাসনকে ধ্বংস করেছেন এবং দেশের সুনাম মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছেন। তার ওই আবেদন আদালত আমলে নিয়ে মোশাররফকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ সম্বলিত বিজ্ঞাপন জাতীয় ও বৃটিশ পত্রপত্রিকায় প্রকাশের আদেশ দেন। মোশাররফের শাসনামলে দারিদ্র্য ৫০ ভাগ কমেছে বিশ্বব্যাঙ্ক বলেছে, পরভেজ মোশাররফের শাসনামলে সেখান দারিদ্র্যের পরিমাণ ৫০ শতাংশ কমে গিয়েছিল। ২০০৭-০৮ অর্থবছরের ওপর ভিত্তি করে জরিপের মাধ্যমে বিশ্বব্যাঙ্কের কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটিজি (সিপিএস) তে বলছে পাকিস্তানে দারিদ্র্য সীমার নিচে অবস্থানকারী জনগণের সংখ্যা ২০০১-০২ সালে ৩৪.৫ শতাংশ থেকে কমে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ১৭.২ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছিল। এদিকে পাকিস্তানের পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মোশাররফ শাসন-পরবর্তী সময়ে পাকিস্তানে দারিদ্র্যের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান পিপিপি নেতৃত্বাধীন সরকার বিশ্বব্যাঙ্কের এ রিপোর্ট গোপন রাখার জন্য পরিকল্পনা কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল। বিশ্বব্যাঙ্কের ওই জরিপে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের শহরাঞ্চলে দারিদ্র্যের পরিমাণ ২০০১-০২ সালে ২২.৭ শতাংশ থেকে কমে ২০০৭-০৮ সালে দাঁড়িয়েছিল ১০.১ শতাংশে। আর গ্রামাঞ্চলে ২০০১-০২ সালে দারিদ্র্যের পরিমাণ ৩৯.৩ শতাংশ থেকে ২০০৭-০৮ সালে কমে দাঁড়িয়েছিল ২০.৬ শতাংশে। ২০০৫-০৬ থেকে ২০০৭-০৮ সাল পর্যন্ত বৈষম্য কমে আসা এবং মাথাপিছু ব্যয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষিতে এ অগ্রগতি সাধিত হয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং বেকারত্বের হারসহ অন্যান্য মানব উন্নয়ন সূচকও বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টকে সমর্থন করেছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বিশ্বব্যাঙ্কের রিপোর্টে স্বীকার করা হয়েছে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার কারণে পাকিস্তানের দারিদ্র্য কমে আসার গতি হয়তো কিছুটা কমে আসতে পারে। এতে বলা হয়েছে, রিভিউকালীন সময়ে খাদ্যের দাম ২৩.৭ এবং জ্বালানির দাম ১৮.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা ২১ শতাংশ কমে গেছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ জরিপে দেখা গেছে, অর্থবছরের শেষের দিকে আবার দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, দারিদ্র্য বৃদ্ধির ওপর সামপ্রতিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবের বিষয়টি জানা যাবে আবার অভ্যন্তরীণ জরিপ করার পরে। |
| < পূর্বে | পরে > |
|---|
