ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দিনদুপুরে বাড়িদখল, তাণ্ডব
Sunday, 01 August 2010
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে: হরহামেশা চুরি-ছিনতাইয়ের পর এবার দিন-দুপুরে বাড়িদখলের ঘটনা ঘটলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে। গতকাল সকালে কয়েকশ’ সন্ত্রাসী সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা সংস্কৃতিকর্মী মিলি চৌধুরীর বাড়িটি দখলে হানা দেয়। এ সময় তাদের মারধরে আহত হয় ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৩ জন। ওই বাড়িতে তাণ্ডব চালায় ভূমিদস্যুরা।
 বাড়িঘর ভাঙচুর করা ছাড়াও লুটপাট চালায়। তারা পেট্রল ঢেলে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় লুট করে নেয়া মালামাল বোঝাই একটি ট্রাকও আটক করে পুলিশ।
মিলি চৌধুরী জানান, গতকাল ভোরে কয়েকশ’ সন্ত্রাসী তার বাড়ির ৫০ বছরের পুরনো সীমানা প্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা তার বাড়ির আঙ্গিনায় খুঁটি গেড়ে ঘর উঠাতে শুরু করে। ভূমিদস্যুদের নেতৃত্ব দেন মাজেদ আলী। শহর ও শহরতলীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সে সন্ত্রাসীদের জড়ো করে বাড়িটি দখলের জন্য নিয়ে আসে। ওই বাড়ির আঙ্গিনায় ঘর উঠানোর পাশাপাশি সন্ত্রাসীরা বাসার ভেতর তাণ্ডব চালায়। সন্ত্রাসীদের সবার হাতে ছিল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র। তারা ট্রাকে করে ওই বাড়ি থেকে ভেঙে ফেলা দেয়ালের অংশসহ বিভিন্ন মালামাল সরিয়ে নিতে থাকে। এ সময় সন্ত্রাসীরা মিলি চৌধুরী, তার ভাই চৌধুরী শাখাওয়াত হোসেন রূপম (৪০) ও মৌসুমী ফারজানা আক্তার (২৪)কে মারধর করে আহত করে। মিলি চৌধুরী অভিযোগ করেন, সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব চালানোর সময় তিনি স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর শেখ মো. মহসীন, পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচিকে বারবার ফোন করেও কোন সাড়া পাননি। তিনি আরও বলেন, দখল সন্ত্রাসীদের নেতা মাজেদ বারবার বলছিল, কাউন্সিলর মহসীন বললে আমরা এখান থেকে চলে যাবো। ওদিকে খবর পেয়ে পুলিশ সকাল ৮টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাজেদসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্যরা হচ্ছে- মধ্য মেড্ডার সোহেল, মো. আবাদ, সুুফল মিয়া, মো. সেলিম, শফিক মিয়া, পাইকপাড়ার মো. হোসেন, পূর্ব মেড্ডার জালাল উদ্দিন, মেড্ডার কামাল হোসেন। তাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে ডাকাতি মামলাসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পূর্ব পাইকপাড়ার হাজী দারু মিয়ার কন্যা সোনাবানুসহ তার স্বজনরা মাজেদ আলীসহ ৩ জনের নামে ৭ শতক জায়গার পাওয়ার অব এটর্নি দেয়। এর বলেই তারা জায়গাটি বুঝে নিতে গেলে মিলি চৌধুরীর সঙ্গে মাজেদ আলীর বিরোধ বাঁধে বলে জানান মাজেদের বড় ভাই আবদুল আহাদ। শহরের সর্দার ও সালিশকারকরা জানান, তারা এ নিয়ে বেশ কয়েবটি সালিশ-দরবার করেছেন। তবে চূড়ান্ত কোন ফয়সালা হয়নি। যার যার অবস্থানে স্থির থাকার জন্যই বলা হয়েছিল। এই অবস্থায় মাজেদ আলী কয়েকশ’ সন্ত্রাসী ভাড়া করে গতকাল মিলি চৌধুরীর বাড়িটি দখল করতে যায়। ঘটনাস্থলে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পুলিশি দল পৌঁছার পরও মাজেদ সেখানে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকে। সে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে বারবার মোবাইল ফোনটি এগিয়ে দিয়ে বলে, নেন কথা বলেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এ ব্যাপারে কাউন্সিলর শেখ মো. মহসীন বলেন, আমি বিষয়টি নিয়ে দেড়-দু’মাস আগে সালিশ-দরবার করেছি। কিন্তু বিষয়টির কোন নিষ্পত্তি হয়নি। গতকালের ঘটনার সময় আমি ছিলাম আখাউড়ায়। সেখানে একটি ট্রাক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। মন খারাপ থাকায় আমার ফোন বন্ধ ছিল। জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাবেক আহ্বায়ক ওয়াহিদ খান লাভলু বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে দেড় মাসে আগে থানায় বসেছিলাম, কিন্তু এর কোন সুরাহা হয়নি। মাজেদ এর আগে মিলির বাড়ির পাশেই আবুল কাশেমের বাড়ির জায়গায় ঘর উঠিয়ে ফেলেছিল। সদর থানার ওসি মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, একদল ভূমিদস্যু মিলি চৌধুরীর বাড়ির জায়গা দখল করতে গিয়েছিল। এ সময় তারা মিলি চৌধুরীসহ কয়েকজনকে মারধর করে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। এ ব্যাপারে মিলি চৌধুরী বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা করেছেন। ওদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ মিলির বাড়িতে যান।

 
< পূর্বে   পরে >




 

সর্বশেষ খবর