মোহম্মদী বেগ চরিত্রে অভিনয় করে এখনও অমর হয়ে আছেন দর্শক হদয়ে

স্টাফ রিপোর্টার | ২০১৫-০৯-০৩ ৯:১১
মঞ্চ, বেতার, টিভি ও চলচ্চিত্র অভিনেতা আবদুল মতিনের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। আবদুল মতিন ১৯৩৫ সাল থেকে নাট্যাভিনয়ে সাধনা ও উন্নয়নে ঢাকার প্রথম মুসলিম অভিনয়শিল্পী। বেতার, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের জন্মলগ্ন থেকে অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশের সব বিখ্যাত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। সে সবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঋত্মিক কুমার ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ এবং খান আতাউর রহমানের ‘নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা’। ‘নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা’ ছবিতে নবাব সিরাজ উদ-দৌলা’র ঘাতক মোহম্মদী বেগ চরিত্রে অভিনয় করে এখনও তিনি দর্শক হদয়ে অমর হয়ে আছেন। তার অভিনয়ে অন্য উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছেন ‘ফকির মজনু শাহ’, ‘লালন ফকির’, ‘আসামী’, ‘লাল সবুজের পালা’, ‘নাত বৌ’, ‘জিঘাংসা’, ‘কুয়াশা’ ও ‘বড় ভালো লোক ছিল’সহ  প্রায় দু’শ চলচ্চিত্র। টেলিভিশন নাটকের মধ্যে তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চরিত্রের মধ্যে রয়েছে-‘সকাল সন্ধ্যা’ ধারাবাহিক নাটকে ‘পরাণ ভাই’ ও ‘শুকতারা’ নাটকের ‘কলমির বাবা’। আবদুল মতিন ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সময় রেডিওতে চাকরি করতেন। ২১শে  ফেব্রুয়ারি যখন ছাত্রদের প্রতি গুলি করা হয় এবং কয়েকজন গুলিতে আহত ও  নিহত হয়, রাস্তায় শহীদের লাশ পড়ে থাকে, সে সময় ঘটনাক্রমে রেডিওতে ডিউটি করার জন্য আবদুল মতিন ঐ পথেই যাচ্ছিলেন। রক্তাক্ত ঐ দৃশ্য দেখে রেডিওতে ঢুকে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। সবার সম্মতিক্রমে তিনি হরতালও করেন কবি ফররুখ আহমেদের নেতৃত্বে। রেডিওতে ক্রমাগত শুধু ক্যাসেট বেজে চললো। না কোন ঘোষণা, না কোন সংবাদ। হৈ হৈ রই রই পড়ে গেল সারা দেশে। এ ঘটনার চার দিন পর আবদুল মতিনকে অফিসে যোগ দেয়ার জন্য ডেকে পাঠানো হয়। যোগদানের দিন তিনি খুশিতে গদগদ হয়ে প্রোগ্রাম শিট লগবুকে পুরো অনুষ্ঠান সিডিউল বাংলায় লিখে ফেলেন। তখন সরকারি সব ফাইলপত্র ইংরেজিতে লিখতে হতো। ঐ অবস্থায় তখন কোন এক দায়িত্বে ছিলেন সাবেক স্পিকার মরহুম শামসুল হুদা চৌধুরী। তিনি আবদুল মতিনকে ডেকে বলেন, মতিন ভাই বাংলা ভাষার প্রতি আপনার শ্রদ্ধা দেখে খুশি হলাম। কিন্তু নদীতে থেকে কুমিরের সঙ্গে যুদ্ধ হয় না, করতে নাই। এই পৃষ্ঠা দুটো একসঙ্গে পিনআপ করে অপর পৃষ্ঠায় আবার লিখে দেন। তাই হলো এবং সেটাই সরকারি খাতায় সর্বপ্রথম বাংলা লেখা হিসেবে পত্র-পত্রিকায় খবর প্রকাশ হয়। আশির দশকেও সেই খাতাটি সংরক্ষিত ছিল রেডিওতে। এদিকে আজ আবদুল মতিনের ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তার নিজ বাসভবন ২০এ/বি নারিন্দা রোডে দিনব্যাপী কোরআন খতম এবং বাদ মাগরিব মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।