ফরিদুর রেজা সাগরের জন্মদিন আজ

| ২০১৫-০২-২২ ৮:১৯
গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ও শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর। এ বছর তার প্রাপ্তির ঝুড়িতে যুক্ত হলো দেশের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’। ‘গণমাধ্যম’ শাখায় প্রথম ঘোষণাকৃত এ পদক প্রথমবারই তিনি পেয়েছেন। ১৯শে ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে তিনি এ পদক গ্রহণ করেন। ফরিদুর রেজা সাগরের জন্ম ২২শে ফেব্রুয়ারি ১৯৫৫। আজ এই বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্মদিন। শিশুসাহিত্যিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব ফরিদুর রেজা সাগরের খ্যাতি প্রায় তিন দশকের। শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য এযাবৎ তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার, অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার, রোমেনা আফাজ স্মৃতি স্বর্ণপদক, টেনাশিনাস পদক ও ইউরো শিশুসাহিত্য পুরস্কার। চলচ্চিত্র প্রযোজনার জন্য ছয়বার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বিদেশের নানা সম্মাননা ও পুরস্কার। শ্রেষ্ঠ টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রযোজনা, নির্মাণ এবং পরিচালনার জন্য বাচসাসসহ বিভিন্ন সংগঠন তাকে পুরস্কারে ভূষিত করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকেই তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। টিভি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার পাশাপাশি তার লেখা বেশ কয়েকটি নাটকও টেলিভিশনে প্রচার হয়েছে। প্রায় সারা জীবনই তিনি টেলিভিশনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড, চ্যানেল আই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বের পাশাপাশি নিজেকে লেখালেখিতে সম্পৃক্ত রেখেছেন। প্রায় শতাধিক গ্রন্থের লেখক ফরিদুর রেজা সাগরের লেখা ‘ছোট কাকু সিরিজ’ ছোট বড় সবার কাছে সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বড়দের জন্যও লিখেছেন নানা ধরনের বই। ভ্রমণ বিষয়ক গ্রন্থ ‘ভ্রমণ ভ্রমিয়া শেষে’ ছাড়াও বাংলাদেশের টেলিভিশন ব্যবস্থা নিয়ে তথ্যভিত্তিক স্মৃতিকথামূলক গ্রন্থ ‘একজীবনে টেলিভিশন’, ‘টেলিভিশন জীবনের সঙ্গী’ এবং সম্প্রতি প্রকাশিত ‘বাংলা টেলিভিশনের ৫০ বছর’, বইগুলো ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। তার লেখা ‘একজীবনে টেলিভিশন’ বইটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং গল্প ‘অমি ও আইসক্রিম’অলা ষষ্ঠ শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ লেখকের লেখা কিশোর সমগ্র গ্রন্থ বেরিয়েছে সাতটি। অন্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মানুষের মুখ-৪’, ‘কিশোর সমগ্র-১১’, ‘মমির লাঠি রহস্য’, ‘কুয়াকাটায় কারসাজি’, ‘ছোটনায়ক’, ‘সাতটি সাত রকম’, ‘রাতুল মামা ফিল্ম স্টার’, ‘আমরা সবাই রাজা’, ‘একাত্তরে ওরা’, ‘হিজলতলীর মাঠে সসার এসেছিলো’, ‘বটগাছের মধুরহস্য ও ১২টি গল্প’, ‘একটি পোষা ভূতের গল্প’, ‘ছোটদের জন্য কিছু লেখা’ ইত্যাদি। ফরিদুর রেজা সাগরের পিতা এ দেশের চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সাংবাদিকতার পথিকৃৎ ফজলুল হক। মা রাবেয়া খাতুন দেশের প্রথিতযশা কথাসাহিত্যিক। ফরিদুর রেজা সাগর বাংলা একাডেমির একজন ফেলো, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের স্থাপনা সদস্য ও ছায়ানটের কার্যকরী সদস্য। ছোটবেলা থেকে কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলা এবং বর্তমানে বিভিন্ন শিশুসংগঠন ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। এসব সংগঠনের তিনি চ্যারিটি মেম্বার। তার জন্মদিনে মানবজমিন-এর পক্ষ থেকে রইলো শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। বি.স.