হিযবুত তাওহীদ কালো তালিকাভুক্ত সংগঠন, দুই পত্রিকা না পড়ার নির্দেশ

বিশেষ প্রতিনিধি | ২০১৪-১২-২৯ ৯:৫৮
হিযবুত তাওহীদ বা এর অঙ্গীভূত কোন প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দৈনিক বজ্রশক্তি ও দেশেরপত্র না পড়ার কথাও বলা হয়েছে। গত ২৩শে নভেম্বর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। চিঠি’র কপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব/সচিব এবং ছয় বিভাগীয় কমিশনারের কাছে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পাঠানো চিঠির বিষয়বস্তুতে বলা হয়েছে, কালো তালিকাভুক্ত সংগঠন ‘হিযবুত তাওহীদ’-এর প্রচারণার নতুন কৌশলের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি’র স্মারকলিপি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আপনার মন্ত্রণালয়/বিভাগ এবং এর আওতাধীন অধিদপ্তর/সংস্থা/ দপ্তরগুলোর কর্মকর্তাদের হিযবুত তাওহীদ বা এর অঙ্গীভূত কোন প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না থাকার নির্দেশনা দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে হিযবুত তাওহীদ-এর অঙ্গীভূত প্রতিষ্ঠানের প্রচারকৃত দৈনিক বজ্রকণ্ঠ ও দেশেরপত্র না পড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে হিযবুত তাওহীদের আমির মসীহ-উর রহমান মানবজমিনকে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত জানি না। চিঠির কপিও পাইনি। তাই কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। এদিকে আজ সকাল সাড়ে দশটায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সেমিনার কক্ষে ‘ধর্ম ব্যবসা, অপরাজনীতি ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শিরোনামে এক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছে হিযবুত তাওহীদ। আমন্ত্রণপত্রে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক এবং প্রথিতযশা মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা এতে উপস্থিত থাকবেন। এ অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে হিযবুত তাওহীদের আমীর মসীহ-উর রহমানের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, দৈনিক বজ্রশক্তির উপদেষ্টা ও দৈনিক দেশেরপত্রের সাবেক সম্পাদক রুফায়দাহ পন্নী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করবেন। আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়েছে, জঙ্গিবাদ, ধর্মভিত্তিক অপরাজনীতি, সামপ্রদায়িক বিদ্বেষ থেকে সৃষ্টি হওয়া দাঙ্গা বর্তমানে মানব জাতির সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডগুলো ধর্মীয় মতাদর্শের ভিত্তিতে সংঘটিত হয়। তাই শুধু শক্তি প্রয়োগ করে এ জাতীয় সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা যায় না। প্রয়োজন পড়ে আদর্শিক মোকাবিলা দ্বারা তাদের মতবাদকে জনগণের সামনে ভ্রান্ত প্রমাণ করা এবং তাদের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ সৃষ্টি করা। এছাড়া, শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়তে মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করার কোন বিকল্প নেই। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকা অপরিহার্য। এ জন্যই গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।