জমকালো আয়োজনে বাচসাস পুরস্কার প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার | ২০১৪-১২-২৯ ৯:১৬
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে হয়ে গেল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। শনিবার বিকালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) কড়ইতলার উন্মুক্ত মঞ্চে ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালে চলচ্চিত্রের বিভিন্ন শাখায় শ্রেষ্ঠদের এই পুরস্কার দেয়া হয়। নির্মাতা, কাহিনীকার, চিত্রনাট্যকার, অভিনেতা-অভিনেত্রী, পার্শ্ব-অভিনেতা-অভিনেত্রী, সম্পাদক, চিত্রগ্রাহক, সংগীত পরিচালক, গীতিকার, সংগীতশিল্পী, শব্দগ্রাহক, সংলাপ রচয়িতা, শিল্প নির্দেশক, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন ক্যাটিগরিতে শ্রেষ্ঠরা জিতে নেন পুরস্কার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। সংগঠনের সভাপতি আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান চিন্ময় মুৎসুদ্দি। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল করিম নিশান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বাংলাদেশ যেভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রও এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার চলচ্চিত্রকে শিল্প ঘোষণার পাশাপাশি এই শিল্পের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছে।
সরকারের পাশাপাশি বাচসাসও চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে শিল্পী ও কলাকুশলীদের অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে। যে ধরনের চলচ্চিত্র মুক্তিযুদ্ধের কথা বলবে, ভাষা আন্দোলনের কথা বলবে ও দেশকে সামনে এগিয়ে নেয়ার কথা বলবে, সেসব চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান জানান তথ্যমন্ত্রী।  শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি আজীবন সম্মাননা
পুরস্কারে ভূষিত নায়করাজ রাজ্জাক, মিষ্টি মেয়ে কবরী এবং বিশেষ সম্মাননাপ্রাপ্ত পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকনের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিঃ ও চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। এর আগে বাচসাস-এর প্রয়াত বরেণ্য সদস্যদের নামে সাংগঠনিক পদক দেয়া হয়। বাচসাস-এর সাবেক দুই সভাপতি রফিকুজ্জামান ও রেজানুর রহমান এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক হারুনূর রশীদ খান এই পুরস্কার তুলে দেন। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন আরেফিন বাদল (ওবায়েদ-উল হক স্মৃতি পুরস্কার), হীরেন দে (এসএম পারভেজ স্মৃতি পুরস্কার), কবি আবদুল হাই শিকদার (ফজল শাহাবুদ্দিন স্মৃতি পুরস্কার), লিয়াকত হোসেন খোকন (ফজলুল হক স্মৃতি পুরস্কার), শহীদুল হক খান (আলমগীর কবির স্মৃতি পুরস্কার), স্বপন সরকার (বেলায়েত হোসেন বেলাল স্মৃতি পুরস্কার) এবং মোহাম্মদ আওলাদ হোসেন (আজাচৌ স্মৃতি পুরস্কার)। ২০০৯ সালে সেরা চলচ্চিত্রের জন্য বাচসাস পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে চলচ্চিত্র ‘প্রিয়তমেষু’। সেরা নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম (প্রিয়তমেষু), শ্রেষ্ঠ কাহিনীকার হুমায়ূন আহমেদ (প্রিয়তমেষু), শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ফেরদৌস (গঙ্গাযাত্রা), চঞ্চল চৌধুরী (মনপুরা), শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পপি (গঙ্গাযাত্রা)। ২০১০ সালের সেরা চলচ্চিত্র ‘গহিনে শব্দ’ ও নির্মাতা খালিদ মাহমুদ মিঠু, সেরা অভিনেতা শাকিব খান (ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না), সেরা অভিনেত্রী মৌসুমী (গোলাপী এখন বিলেতে)। ২০১১ সালের সেরা চলচ্চিত্র গেরিলার নির্মাতা নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু এবং সেরা অভিনেতা আমিন খান (গরিবের মন অনেক বড়) ও অভিনেত্রী জয়া আহসান (গেরিলা)। ২০১২ সালের সেরা চলচ্চিত্র ‘রানওয়ে’ ও এর নির্মাতা তারেক মাসুদ, সেরা অভিনেতা মাসুদ আখন্দ (পিতা), অভিনেত্রী ববিতা (খোদার পরে মা)। ২০১৩ সালের সেরা চলচ্চিত্র ‘মৃত্তিকা মায়া’, এর নির্মাতা গাজী রাকায়েত ও সেরা অভিনেতা তিতাস জিয়া এবং অভিনেত্রী অপু বিশ্বাস (মাই নেম ইজ খান)। পুরস্কার প্রদানের মাঝে নাচ, গান পরিবেশিত হয়। জমকালো এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক, কবরী, শাকিব খান, আমিন খান, মৌসুমী, অপু বিশ্বাস, সিমলা, সম্রাট, ফজলুর রহমান বাবু, চঞ্চল চৌধুরী প্রমুখ।