সবার সহযোগিতায় এগিয়ে যেতে চান নাজিম উদ্দিন

নুরুল আমিন, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) থেকে | ২০১৬-০২-০৬ ৭:৫৯
 দেশে প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকের নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাজিম উদ্দিন সামসু ১৪ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইফুল আলম রুবেলকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের জন্য চুনারুঘাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের ১০ই অক্টোবর পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ আলীর অকাল মৃত্যু হলে উপনির্বাচনে নাজিম উদ্দিন সামসু চুনারুঘাট পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। ওই সময়ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইফুল আলম রুবেল। সৌভাগ্যবান মেয়র নাজিম উদ্দিন সামসু  বলেন, দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে পৌরবাসী বহু আশা নিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। তিনি সেই ঋণ পাই পাই করে পরিশোধ করতে চান। তিনি বলেন, ২০০৫ সালে চুনারুঘাটকে পৌরসভায় রূপান্তরিত করে কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য উপজেলা কমপ্লেক্সের যে কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল সেই কক্ষে এখনও চলছে কাজকর্ম। আমলাতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক জটিলতার কারণে এখনও স্থাপন করা যায়নি পৌরসভার জন্য নিজস্ব ভবন। তবে স্বতন্ত্র একটি পৌর ভবন নির্মাণের জন্য তিনি চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান। নাজিম উদ্দিন বলেন, পৌর শহরের অসহনীয় যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকে বার কয়েক চেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্ত গাড়িচালক, মালিক ও শ্রমিক সমিতির আন্তরিকতার অভাবে তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। এ কারণে পৌর শহরে প্রতিদিন অসহনীয় যানজটের মখোমুখি হতে হয় সাধারণ মানুষকে। তিনি বলেন, চুনারুঘাট শামসুল উলুম মাদরাসা থেকে উপজেলা গেট পর্যন্ত রোড ডিভাইডারের কাজ প্রায় সমাপ্ত। থানা গেটের সামনে একটি গোলচত্বর স্থাপন করা হয়েছে। আগামী ২ মাসের মধ্যে ওই দুটি কাজ পুরোপুরি সমাপ্ত হয়ে যাবে। এছাড়া ওই গোলচত্বরের শ্রীবর্ধনের জন্য সাড়ে ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে স্বাধীনতা স্তম্ভ। এটি কয়েকদিনের মধ্যেই যথাস্থানে স্থাপন করা হবে। রোড ডিভাইডার ও গোলচত্বর স্থাপনের কারণে যানজট হ্রাস পাবে বলে তিনি মনে করেন। তবে এ ব্যাপারে দল-মত নির্বিশেষে সবার একান্ত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। নাজিম উদ্দিন আরও বলেন, শহরের উত্তর ও দক্ষিণ বাজারে যানবাহনের জন্য নির্ধারিত দুটি টার্মিনাল স্থাপন প্রক্রিয়াধীন আছে। এ দুটি স্ট্যান্ড নির্মিত হলে শহরের মধ্যে যানবাহনের স্ট্যান্ড থাকবে না। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে। এক প্রশ্নের জবাবে পৌর মেয়র নাজিম উদ্দিন সামসু বলেন, পৌরসভার অর্থায়নে শহরের উত্তর ও দক্ষিণ বাজারে আধুনিক দুটি মার্কেট নির্মাণের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ওই দুটি মার্কেট নির্মাণ করতে প্রায় ২৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে। আধুনিক মার্কেট নির্মিত হলে চুনারুঘাট-বাল্লা সড়কে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে আর ভোগান্তি থাকবে না। এছাড়া বাল্লা রোড ও উপজেলা গেটের সামনে ফুটপাথ নির্মাণের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে তা অচিরেই বাস্তবায়ন হবে। এর ফলে পথচারীরা নির্বিঘ্নে হাঁটাচলা করতে পারবেন। মানবজমিনকে তিনি বলেন, প্রতিদিন পৌর শহরে লাখ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে। এতদিন শৌচাগারের অভাবে এসব মানুষকে চরম নৈরাজ্যকর অবস্থায় পড়তে হতো। তিনি গত অর্থবছরে দুটি গণশৌচাগার নির্মাণ করে দিয়েছেন। আরও ৩টি শৌচাগার নির্মাণের অপেক্ষায় রয়েছে বলে তিনি জানান। পৌর শহরে প্রায় সময় স্বর্ণের দোকানসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন বাসাবাড়িতে চুরি ঘটনা ঘটে। শহরের বিভিন্ন স্থানে মাদকের ব্যবসারও প্রসার ঘটেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, শহরে পুলিশের টহল ভেদ করে চুরির ঘটনা সাধারণ মানুষকে হতবাক করে। তিনি বলেন, বেশ কয়েকজন ইয়াবা ও মাদক ব্যবসায়ীকে তিনি আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন। কিন্তু ওই মাদক ব্যবসায়ীরা জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার আগের ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করছে। এদের অপকর্ম কোনো অবস্থাতেই রোধ করা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে তিনি রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সবার ঐকান্তিক প্রচষ্টা অব্যাহত থাকলে চুনারুঘাট পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভায় উন্নীত করবেন তিনি। শিক্ষাকেও এগিয়ে নিয়ে যাবেন। এর জন্য পৌরসভার ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডে আরও দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি কাজ শুরু করেছেন। এ বছরেই স্কুল দুটি প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে তিনি জানান। পৌর মেয়র নাজিম উদ্দিন সামসু বলেন, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীসহ সর্বস্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি চুনারুঘাট পৌরসভাকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে দাঁড় করাতে চান। তিনি বিগত সময়ের মতো সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।