এগিয়ে চলছে 'ডু সামথিং একসেপশোনাল'

সিরাজুস সালেকিন | ২০১৭-০৭-২৪ ১১:১০
যেন গ্রুপ নয়।  এক মিনি গুগল। কেউ কোন শহরে একেবারে নতুন। চেনা নেই পথ ঘাট। কিভাবে যাবে কিংবা থাকবে কোথায়?  গ্রুপে পোস্ট দিল তার সমস্যার কথা বলে। অমনি গ্রুপ মেম্বার বা এডমিনগণ সংশ্লিষ্ট এলাকার মেম্বারদেরকে ট্যাগ করে কিংবা তথ্য নিয়ে জানিয়ে দিলো তাকে। ব্যস।  সে তার গন্তব্যে পৌঁছে গেল ।
কারও রক্তের দরকার। গ্রুপে পোস্ট দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে একদল তরুণ মাঠে নেমে পড়লেন রক্তের সন্ধানে। মানুষ মানুষের জন্যই। কেউ পড়াশোনা বা ক্যারিয়ার সংক্রান্ত কোন তথ্য জানতে চাইলে প্রথমেই এ গ্রুপে পোস্ট দেয়।

মুক্তচিন্তা, জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, গঠনমূলক সমালোচনা এবং তথ্য দিয়ে একে অন্যকে সহযোগীতা করার লক্ষ্যে আশফাকুল ইসলাম ও খন্দকার ফরাজের হাত ধরে প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে যাত্রা শুরু হয় Do Something Exceptional নামক এ গ্রুপটির। প্রাথমিকভাবে একটা গ্রুপ হিসেবে যাত্রা করলেও কর্মপরিধির ব্যাপ্তি ঘটিয়ে আজ তা এক অনবদ্য অনলাইন কমিউনিটিতে রুপ নিয়েছে। Do Something Exceptional এর রয়েছে নিবেদিতপ্রাণ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত নিজস্ব মেডিকেল টিম।  আইটি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গড়া আইটি সহায়তা কেন্দ্র, আইনজীবীদের সমন্বয়ে আইনি সহায়তাসহ সকল পেশাজীবীদের সমন্বয়ে স্বাতন্ত্র বিশেষজ্ঞ মহল যারা বিভিন্ন শ্রেণী, পেশা এবং বয়সী মানুষদের হাজারও কৌতুহল, জিজ্ঞাসা ও সমস্যা সমাধানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন নি:স্বার্থভাবে। সামাজিক কিংবা মানবিক যে কোন কাজে এগিয়ে যেতে রয়েছে একঝাঁক তরুণ-তরুণীদের নিয়ে গড়া DSE এর নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবী দল।  যারা দিনরাত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে যান সেবামূলক কাজ নিশ্চিত করতে। অনলাইনে প্রতারণা ঠেকানো, পর্নোগ্রাফি ঠেকানো, হয়রানি বন্ধ করা, গুজব ছড়ানো প্রতিরোধ করা,  জরুরী রক্তের প্রয়োজনে নিজস্ব দাতা পাঠানো,  দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো, দরিদ্র-মেধাবী শিক্ষার্থীদের কিম্বা রোগ পীড়িত অসহায় ছিন্নমূল মানুষদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে নিজস্ব অনুদান ব্যবস্থা করে থাকে DSE। ভাষা আন্দোলনের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে মাতৃভাষার সঠিক প্রয়োগ ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই কমিউনিটির রয়েছে 'বর্ণ নিয়ে' নামক নিজস্ব কার্যক্রম।  যা দেশব্যাপী নিজস্ব আর্থিক সহযোগীতায় বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারী এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ভুল বানান সংশোধন করে দেয়ার কাজ করে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে DSE ছিন্নমূল পথশিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতকরণেও কাজ শুরু করেছে। Do Something Exceptional কমিউনিটির চেয়ারম্যান ইমন খান এর ভাষ্যমতে, "শুরু থেকেই আমাদের লক্ষ্য ছিল DSE-কে একটা প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠন হিসেবে দাঁড় করানো। এতদূর আসাটা সম্ভব ছিল না কয়েক লক্ষ মানুষের সার্বিক সমর্থন এবং সহযোগীতা না পেলে। তবে এখনো আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে পারিনি সম্পূর্ণভাবে। আমরা চাই একটা পরিবর্তন ঘটাতে, বাংলাদেশকে আরোও এগিয়ে নিয়ে যেতে দরকার দেশের সর্বস্তরের মানুষের মানসিকতার একটা আমূল পরিবর্তন। আমরা সেই লক্ষ্যেই দিনরাত কাজ করে চলেছি।"