‘রাজ্জাক ভাইকে ইস্যু করে কোনো হট্টগোল করতে দেব না’
প্রকাশিত: ২৩ মে (মঙ্গলবার), ২০১৭ Archive 2016
Warning: Undefined property: stdClass::$news_source in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/old-archive.php on line 257
Deprecated: htmlspecialchars(): Passing null to parameter #1 ($string) of type string is deprecated in /var/www/vhosts/mzamin.com/httpdocs/old-archive.php on line 257
Source:
শাহ আলম কিরণ। ঢাকাই চলচ্চিত্রের বিশিষ্ট পরিচালক। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্যপদেও রয়েছেন তিনি। বর্তমানে এ সমিতির বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও সংগঠনটিকে ঘিরে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনায় তোলপাড় চলছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহ আলম কিরণ বলেন, অনেকগুলো বিষয় সত্য মিথ্যার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। আমরা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু করছি না। আমাদের সংগঠনের অন্তর্ভূক্ত হবার পর কোনো সদস্যের ব্যক্তিগত পছন্দ বা অপছন্দ সমিতিকে জানানো দরকার। তিনি আরও বলেন, যদি মহাসচিবের কোনো কথা বা সিদ্ধান্ত সঠিক মনে না হয় সেটা সভাপতিকে চিঠি মারফত জানাতে পারবেন। আবার সভাপতির কোনো বিষয় মাহসচিবকে জানাতে পারবেন। সমিতির ভালো বা মন্দ বিষয়গুলো সাধারণসভায় সদস্যরা বলতে পারবেন। সমিতির তিন মিটিংয়ে অনুপস্থিত থাকার পর কোনো সদস্যকে শোকজ নোটিশ দেয়া হয়। সমিতির গঠনতন্ত্র বা নীতিমালা বিরোধী কোনো কাজ করলেও তাকে একটা সময় দিয়ে চিঠি দেয়া হয়। এরকম বেশকিছু নিয়ম-কানুন রয়েছে আমাদের। তবে পরিচালক সমিতিকে কেন্দ্র করে এ সময়ে নানা ঘটনা ঘটেছে। যা অনাকাঙ্খিত। রাজ্জাক ভাইকে ইস্যু করে কোনো হট্টগোল করতে আমরা দেব না। এসবের দ্রুতই সমাধান করব। বর্তমান সময়ে চলচ্চিত্রের অভিনয়শিল্পীদের সঙ্গে পরিচালকদের সম্পর্কে একটা গ্যাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আগের মতো সুসম্পর্কটা খুবই কম। এর কারণ জানতে চাইলে শাহ আলম কিরণ বলেন, আগেকার শিল্পীদের যে ধরনের মন মানসিকতা ছিল তা এখনকার জেনারেশনের মধ্যে আর দেখা যায় না। বর্তমান সময়ে যারা আসছে তারা মাথায় একটা ভিন্ন বোধ নিয়ে কাজ শুরু করে বলে মনে হয় আমার কাছে। ইন্ডাস্ট্রি যেভাবে চলে সেভাবে আমি চলব- এমনটা তারা ভাবছে না। বরং তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে আসে যে, আমি যেভাবে চলব সেভাবেই ইন্ডাস্ট্রি চলবে। এর ফলে পরিচালক বা ইন্ডাস্ট্রির অন্য কলাকুশলীদের সঙ্গে একটা গ্যাপ হয়ে যাচ্ছে তাদের। আগেকার শিল্পীরা এসে আগে ইন্ডাস্ট্রিকে বোঝার চেষ্টা করতেন। তারপর তার অবস্থান কিভাবে উন্নত জায়গায় নেয়া যায় সেটা ভাবতেন। নিজের সম্মানের পাশাপাশি অন্যকে সম্মান দিয়ে চলতেন। এখন যারা আসছে তারা মনে করছে যে, সবাই তার উপর সবাই নির্ভরশীল। আসলে তো তা না। শাহ আলম কিরণ ১৯৭৪ সালে ঢাকাই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত হন। নির্মাতা সিরাজুল ইসলাম ভুঁইয়ার ‘দস্যুরানী’ ছবিতে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন। তখন তার বয়স মাত্র ২৩ বছর। চলচ্চিত্রের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অসীম। সেই সময়ে তিনি সহকারী পরিচালক হিসেবে কামাল আহমেদ, মোতালেব হোসেন এবং সর্বশেষ এজে মিন্টুর হাত ধরে ধীরে ধীরে পরিচালনার কাজ রপ্ত করেন। এরপর ১৯৮৩ সালে সর্বপ্রথম নিজে পরিচালনা করেন ‘নিয়তির খেলা’ নামের ছবিটি। এ ছবিতে অভিনয় করেন উজ্জল, অঞ্জু ঘোষ ও দিতি। শাহ আলম কিরণ তার ফিল্মি ক্যারিয়ার নিয়ে মানবজমিনকে বলেন, ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের প্রতি আগ্রহ ছিল। প্রথমে অভিনয়, এরপর সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পর নিজের পরিচালনায় ছবি নির্মাণ করি। আমার পরিচালনায় চিত্রনায়ক উজ্জল থেকে শুরু করে প্রয়াত সালমান শাহ, দিতি এবং সবশেষ ‘একাত্তরের মা জননী’ ছবিতে নিপুণ কাজ করেছেন। শাহ আলম কিরণ পরিচালিত এ পর্যন্ত মোট ২৪টি ছবি মুক্তি পেয়েছে। এরমধ্যে ‘জীবন দিয়ে ভালোবাসি’, ‘অশান্ত সংসার’, ‘ঘর জামাই’, ‘সুজন সখী’, ‘আসামী বধু’, ‘বিচার হবে’, ‘আমি এক অমানুষ’, ‘বিদ্রোহী সন্তান’, ‘আগুন জ্বলবেই’. ‘চুড়িওয়ালা’, ‘শেষ বংশধর’, ‘শেষ ঠিকানা’, ‘কৈফিয়ত’সহ বেশকিছু ছবি দর্শকপ্রিয়তা পায়। সবশেষ ‘একাত্তরের মা জননী’ ছবি পরিচালনার পাশাপাশি ভারতের বিশিষ্ট পরিচালক গৌতম ঘোষের ‘শঙ্খচিল’ ছবিতে ক্রিয়েটিভ প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সদস্যও ছিলেন তিনি। সেন্সরবোর্ডে ছবি দেখা নিয়ে অনেক পরিচালকের অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেন্সর বোর্ডে অনেক সদস্য দেরীতে আসেন। একটা ছবি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দেখতে হয়। অনেক সদস্য সময়মত আসেন না। তাই আমার অনুরোধ, সেন্সরে একটা ছবি শুরু থেকে যেন শেষ পর্যন্ত তারা ধৈর্য্য ধরে দেখেন। তারপর মান বিচার। এভাবে দেখলে কারো অভিযোগ থাকবে না।