সারা দেশে স্বাধীনতা দিবস পালিত

বাংলারজমিন ডেস্ক | ২০১৭-০৩-২৭ ৯:৩৯
যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে-
স্টাফ রিপোর্টার, খুলনা থেকে জানান, মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে রোববার খুলনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে নগরীর গল্লামারী শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি শুরু করা হয়। প্রত্যুষে কালেক্টরেট প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।  দিবসটি উপলক্ষে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের প্রধান প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপসমূহ জাতীয় পতাকা ও বিভিন্ন রঙের পতাকা দিয়ে সজ্জিত করা হয়। সকাল আটটায় খুলনা জিলা স্কুল মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুস সামাদ। পরে সেখানে বিভিন্ন বাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ, ডিসপ্লে ও শরীরচর্চা প্রদর্শন করা হয়। সকাল ১১টা থেকে নগরীর  সিনেমা হলসমূহে ও দৌলতপুর শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র ও দুর্নীতিবিরোধী তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়।
বাজিতপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, যথাযগ্য মর্যাদায় বাজিতপুরে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। রাত ১২টা ১ মিনিটে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শহীদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, সকাল ৮টায় ডাকবাংলো মাঠে শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সংসদ সদস্য আলহাজ মো. আফজাল হোসেন এমপি, বিএনপি থেকে তিনভাগে বিভক্ত হয়ে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, সালেহুজ্জামন খান রনু ও এহেসান কুফিয়া গ্রুপ। ৮টা ৩০ মিনিটে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রী, পুলিশ, আনসার ও ফায়ার ব্রিগেড সদস্যরা শারীরিক কসরত প্রদর্শন করেন। বেলা ১১টায় মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধিত ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভাস্কর দেবনাথ বাপ্পি।
বাকৃবি (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান, যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি। রোববার সকাল ৭টার দিকে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জসিমউদ্দিন খানসহ সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংগঠন থেকে পুষ্পাঞ্জলি অর্র্পণ করা হয়। ৮টার দিকে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকালে বিভিন্ন সমিতির ব্যবস্থাপনায় আবাসিক হল ও সমিতি সংলগ্ন মাঠগুলোতে প্রীতি খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। দুপুরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল মসজিদ ও উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা করা হয়। বিকালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে স্বাধীনতার কবিতা পাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, ঢাকার দোহার উপজেলায় যথাযথ মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলার প্রধান স্মৃতিস্মম্ভে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। সকালে দিবসটি উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কেএম আল-আমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম এমপি। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মান্নান খান, ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, আইজিআর খান আবদুল মান্নান।
নাটোর প্রতিনিধি জানান, দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নাটোরে স্বাধীনতা দিবস পালিত হচ্ছে। রোববার প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা হয়। নাটোর শহরের মাদরাসা মোড়ে স্বাধীনতা স্মৃতিস্তম্ভে সদর আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় শঙ্কর গোবিন্দ চৌধুরী স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেন জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা ডিসপ্লে প্রদর্শন করে। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ শহরের কাঁদিভিটা দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাগুরায় রোববার নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে মাগুরা জেলা প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। কর্মসূচির মধ্য ছিল ভোরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মাগুরা স্টেডিয়ামে  পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, স্কাউট, গাইডস ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনী, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে সকল মসজিদে বিশেষ মোনাজাত, চলচ্চিত্র প্রদশর্নী, সন্ধ্যায়  আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সকাল ৮টায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আছাদুজ্জামান স্টেডিয়ামে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজে সালাম জানান জেলা প্রশাসক মুহম্মদ মাহবুবর রহমান ও পুলিশ সুপার মুনিবুর রহমান। তাছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালন করে।
রাজবাড়ী প্রতিনিধি জানান, রাজবাড়ীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে রাজবাড়ী জেলা আওয়ামী লীগ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাজবাড়ীর ৬টি স্থানে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসক জিনাত আরা ও পুলিশ সুপার সালমা বেগম পিপিএম। এছাড়া জেলা বিএনপিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালন করে। সকালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা করে জেলা আওয়ামী লীগ। এরপর রেলগেট শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর নেতৃত্বে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে জেলা আওয়ামী লীগ।
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানান, আজকের গণতন্ত্র আওয়ামী লীগের বাক্সে বন্দি। আজ মানুষের ভোটের অধিকার নেই, আইনের শাসন নেই। মানুষের ঘুম হচ্ছে না। মানুষের নিরাপত্তা নেই। আজ দেশে গণতন্ত্রের নাজুক অবস্থা। বাকশাল উৎপাটন করতে হলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে কাজ করতে হবে। গত  শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর পাইলট মডেল উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সাবেক এমপি মরহুম কাজী মো. আনোয়ার হোসেনের শোকসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন এসব কথা বলেন।
স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ থেকে জানান, ময়মনসিংহে যথাযথ মর্যাদায় ২৬শে মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। ভোর ৫টা ৫৫ মিনিটে নগরীর পাটগুদাম এলাকায় অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা হয়। এরপর শুরু হয় শ্রদ্ধা নিবেদন। শ্রদ্ধার প্রথম প্রহরে ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে এক এক করে, বিভাগীয় কমিশনার জিএম সালেহ উদ্দিন, ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামসহ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। এদিকে ময়মনসিংহ মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আলহাজ এহতেশামুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্তর নেতৃত্বে ময়মনসিংহ স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সামাজিক সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি জানান, যথাযোগ্য মর্যাদায় লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল সকালে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ২১ বার তোপধ্বনি এবং শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে  দিবসটির সূচনা করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের এক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার মো. সোহেল পারভেজ, কমলনগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকুল চন্দ্র বিশ্বাস ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. সফিক উদ্দিন।  
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, বড়লেখায় গত রোববার মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি পৌর শহরে র‌্যালি, আনন্দ মিছিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। উপজেলা বিএনপি সভাপতি আবদুল হাফিজের সভাপতিত্বে ও সাধরণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরুর পরিচালনায় র‌্যালি পরবর্তী সভায় বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম, সম্পাদক ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম হাছনা, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস শহিদ খান, জামাল উদ্দিন জমির, আবদুল কুদ্দুস স্বপন, ডা. এবাদুর রহমান, সাইফুল ইসলাম খোকন, আবদুল কাদির পলাশ, নাহিদ আহমদ চৌধুরী, সায়ফুল আলম খোকন প্রমুখ।
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, সাইকেলের প্রতি মানুষের আগ্রহ গড়ে তুলতে এবং নিয়মিত চালিয়ে শারীরিক সুস্থতার বিষয়টি তুলে ধরতে বিজয় দিবসে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সাইকেল শোভাযাত্রা করেছে ‘সাইক্লিস্টস অব শ্রীমঙ্গল’। রোববার মহান স্বাধীনতা দিবসে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র মহসীন মিয়া মধু প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে সাইকেল শোভাযাত্রার সূচনা করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক শ্রীমঙ্গলের চিঠি সম্পাদক ইসমাইল মাহমুদ, শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম ইদ্রিস আলী, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. বিনেন্দু ভৌমিক, সাংবাদিক শামীম আক্তার মিন্টু, বাংলাদেশ বেতারের প্রতিনিধি মামুন আহমেদ, সাংবাদিক কাওসার ইকবাল, সৈয়দ ছায়েদ আহমদসহ অনেকে।
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি জানান, কুলাউড়া উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।
স্বাধীনতা দিবস পালনে উপজেলা প্রশাসনের কর্মসূচির মধ্যে ছিল স্বাধীনতা সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, খেলাধুলা, শিশু একাডেমি আয়োজিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিশুদের চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ, মসজিদে জাতির শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা, হাসপাতাল ও এতিমখানায় উন্নতমানের খাবার, মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি জানান, মাধবপুরে রোববার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোকলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাহবুব আলী। যুবলীগ সভাপতি ফারুক পাঠানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ সদস্য ফাতেমাতুজ জহুরা রিনা, জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য সুকোমল রায়, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুরুল ইসলাম, ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল মালেক মধু, মুক্তিযোদ্ধা ফুল মিয়া, জাপা নেতা আক্তার হোসেন মনির, মিজানুর রহমান প্রমুখ।
স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে জানান, পাকুন্দিয়ায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে দুর্নীতিবিরোধী শপথ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে পাকুন্দিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের পূর্বে এই শপথ গ্রহণ করা হয়। উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ও সততা সংঘের উদ্যোগে এতে উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপস্থিত সাধারণ মানুষ দুর্নীতিবিরোধী শপথ গ্রহণ করেন। এর আগে পাকুন্দিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের সূচনা করা হয়। এ সময় পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রশাসন ছাড়াও পৌরসভা, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে পাকুন্দিয়া পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রেনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার অন্নপূর্ণা দেবনাথ ও পাকুন্দিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সামসুদ্দীন। স্কাউটস, গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শন শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। কিশোরগঞ্জ-২ (পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. সোহ্রাব উদ্দিন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে মধ্য দিয়ে লক্ষ্মীপুরে উদযাপিত হয়েছে  মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। রোববার ভোর ৫টা ৫৭ মিনিটে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে ৩১ বার তোপধ্বনি ও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিফলকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম শাজাহান কামাল ও জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী স্মৃতিফলকে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পুলিশ সুপার আসম মাহাতাব উদ্দিন, জেলা আওয়ামী লীগ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট, লক্ষ্মীপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরসমূহ, এনজিও, পেশাজীবী,  সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে স্থানীয় বাগবাড়িস্থ গণকবরে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ফেনী প্রতিনিধি জানান, ফেনীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযথ মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। দিবসের প্রথম প্রহরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। এ সময় মুক্তিযুদ্ধের শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন স্থানীয় সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ জাহান আরা বেগম সুরমা, জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান, পুলিশ সুপার এএসএম জাহাঙ্গীর আলম সরকার, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আজিজ আহম্মেদ চৌধুরী, সাবেক সাংসদ জয়নাল আবদীন ভিপি, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, ফেনী প্রেস ক্লাব, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, পেশাজীবী সংগঠন, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সরাইল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি জানান, সরাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৪৬তম মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে গতকাল ২৬শে মার্চ সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ২১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা করে উপজেলা প্রশাসন। পরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা প্রশাসন, সরাইল থানা, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, সরাইল প্রেস ক্লাব, বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও এনজিও প্রতিনিধিরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, গার্লস গাইড, কাব স্কাউট দল ও বিভিন্ন মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কুচকাওয়াজ, শরীরচর্চা প্রদর্শন শেষে সালাম প্রদান করে। মঞ্চে বসে সালাম গ্রহণ করেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান, নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ইসরাত, আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট নাজমুল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম শিউলী আজাদ প্রমুখ।
সেনবাগ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি জানান, কুচকাওয়াজ, মুক্তিযোদ্ধাদের শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে ৪৬তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করেছে সেনবাগ উপজেলা প্রশাসনসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন।
এ উপলক্ষে রোববার সকাল ৫টা ৫৭ মিনিটে সেনবাগ উপজেলা মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভে বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় এমপি মোরশেদ আলম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আলম, উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পাটি, সেনবাগ প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। পরে সেনবাগ সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয় স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান।
স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ থেকে জানান, কিশোরগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। ভোরে পুরাতন স্টেডিয়ামে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির শুভ সূচনা করা হয়। সকালে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় এবং সরকারি গুরুদয়াল কলেজ মাঠের স্মৃতিসৌধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, গণতন্ত্রী পার্টিসহ বিভিন্ন সংগঠন পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এরপর শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম স্টেডিয়ামে বেলুন আর সাদা পায়রা উড়িয়ে স্বাধীনতা দিবসের মনোরম কুচকাওয়াজ ও দৃষ্টিনন্দন ডিসপ্লে প্রদর্শন উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস।
মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি জানান, মতলবে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। সকালে সূর্যোদয়ের পরপর দীপ্ত বাংলা পাদদেশে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উদযাপন কমিটি, মতলব পৌরসভা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠন, উপজেলা বিএনপিসহ সকল অঙ্গসংগঠন, উপজেলা জাতীয় পার্টিসহ অঙ্গসংগঠন, মতলব প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।