‘আমি তারকা বাঁধন হিসেবে চেম্বারে বসলে রোগীর অভাব হবে না’

মারুফ কিবরিয়া | ২০১৭-০১-১৩ ১০:৩১
লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টারের খেতাবটা এখন হয়তো খুব একটা দরকার হয় না আজমেরী হক বাঁধনের। অভিনেত্রী বাঁধনেই হিসেবেই এখন তিনি সুপরিচিত। তারপরও যেখান থেকে তার উত্থান সেই লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার ফ্লোরটিকে মনে ধরে রেখেছেন সযতনে। বিষয়টি নিয়ে পূর্ণ ছন্দে কাজ করে চলা এ অভিনেত্রী বলেন, ওটা তো আমার শুরু। শুধু আমি না, লাক্স-চ্যানেল আইয়ের ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে যারাই এসেছে তাদের কেউ তা অস্বীকার করতে পারবেন না। এ মুহূর্তে বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার চলতি একাধিক ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন বাঁধন। সেসব নাটক থেকে  বেশ সাড়াও পাচ্ছেন তিনি। এই নাটকগুলোর সঙ্গে সম্প্রতি শুরু করেছেন আরো চারটি ধারাবাহিকের কাজ। এগুলো হলো- সৈয়দ শাকিলের পরিচালনায় ‘সোনার শেকল’, অঞ্জন আইচের ‘অবাক দিনরাত্রি’, মাসুদ সেজানের ‘পোস্টমর্টেম’ ও সাগর জাহানের ‘হাটখোলা’। এ প্রসঙ্গে বাঁধন বলেন, এ গল্পগুলো দারুণ। আমার খুব পছন্দ হয়েছে। একটি ভালো গল্পই দর্শক টানতে সক্ষম হয়। সে জায়গা থেকে বলতে পারি, প্রচারে আসার পর দর্শক ভালোভাবেই গ্রহণ করবেন। নতুন ধারাবাহিক নাটক ছাড়াও সম্প্রতি বেশ কয়েকটি খন্ড নাটকে অভিনয় করেছেন বাঁধন। চলতি মাসে আরো কিছু কাজ শুরু করবেন বলে জানান তিনি। বর্তমানে বিভিন্ন চ্যানেলে প্রচার চলতি অঞ্জন আইচের ‘নীল নির্বাসন’, ‘মেঘের পরে মেঘ জমেছে’ ও শামীম জামানের ‘ঝামেলা আনলিমিটেড’ ধারাবাহিকগুলোতে দেখা যাচ্ছে বাঁধনকে। অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপনাও করছেন এ পর্দাকন্যা। সম্প্রতি চ্যানেল টোয়েন্টিফোরে একটি অনুষ্ঠান সঞ্চালনার ব্যাপারে কথা চূড়ান্ত হয়েছে তার। দীর্ঘদিন টিভি মাধ্যমে কাজ করছেন বাঁধন। বর্তমান সময়ের কাজ নিয়ে তার মূল্যায়ন কি জানতে চাইলে বলেন, এটা দর্শকের ওপর নির্ভর করে। ভালো খারাপ তারা দেখেন তারাই বলতে পারবেন। আমাদের শিল্পীদের কাজ তো অভিনয় করা। তবে আমার জায়গা থেকে যদি বলি বলবো, ভালোই হচ্ছে। এখন অনেক চ্যানেল হয়েছে। নাটকের সংখ্যাও বেড়েছে। আর সে জায়গা থেকে প্রতিযোগিতা তো চলছে। ভাল যেমন হচ্ছে খারাপ কাজও দর্শকের চোখে ধরা পড়ছে। বাঁধন তার ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই একটু হিসাব করে কাজ করতে ভালোবাসেন। কাজের গুণগত মান বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি কখনো চাইনি একসঙ্গে অনেক নাটকে অভিনয় করতে। আমি আসলে নিজেকে দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছি। আর সে পথেই হাঁটি সবসময়। তাই একটু বেছে বেছে কাজ করছি। ব্যক্তিজীবনেও বাঁধন এক প্রতিবাদী নারীর প্রতিমূর্তি। মিথ্যা ও অন্যায়কে কখনই প্রশ্রয় দেন না। জীবনের ব্যর্থতাসুলভ জরাজীর্ণতাকে কখনোই মেনে নিতে পারেন না। সব বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে চান তিনি। আর তাই তো শৈশবের সুপ্ত স্বপ্নটি আজ পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয়েছেন। তার সে স্বপ্ন ছিল চিকিৎসা পেশাকে ঘিরে। এখন তিনি একজন পূর্ণাঙ্গ দন্ত চিকিৎসক। তবে আপাতত এ কাজটি করা থেকে তিনি বিরত। কারণ কি জানতে চাইলে বাঁধন বলেন, আমি ডেন্টাল মেডিক্যালে পড়েছি। কাজও অনেক শিখেছি। কিন্তু আরও পড়াশোনার প্রয়োজন রয়েছে। আমি তারকা বাঁধন হিসেবে বসলে চেম্বারে রোগীর অভাব হবে না। কিন্তু সে পথে যেতে চাই না। ভালোভাবে পুরো কাজটি আয়ত্ব করে তবেই শুরু করবো। সততা, বিশ্বস্ততা ও অধ্যবসায় এ তিনটি বিষয় বাঁধনের জীবনের মূলমন্ত্র। তার বিশ্বাস, একমাত্র ইচ্ছাশক্তি দ্বারাই সব কিছু অর্জন করা সম্ভব। সঙ্গে আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনো বাধাই লক্ষ্যনিবিষ্ট পথের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে না। এ আদর্শে উজ্জীবিত হয়েই তিনি নীল আকাশের মুক্ত পাখির মতো সাফল্যের দিকে ছুটে চলেছেন।