হার্টের ভাল্ব ও পেসমেকারের খুচরা মূল্য নির্ধারণে রোগীদের মধ্যে স্বস্তি

শরীর ও মন

স্টাফ রিপোর্টার | ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৪
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হৃদরোগীদের জন্য কার্ডিয়াক ডিভাইসের (হার্টের ভাল্ব ও পেসমেকার) এমআরপি মূল্য নির্ধারণ করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এতে হার্টের রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে নতুন নির্ধারিত দামে ভাল্ব ও পেসমেকার পেতে আরো এক সপ্তাহ লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে। কারণ, যেসব রোগী দুই-একদিনের মধ্যে ভাল্ব বসাবেন তাদের বিষয়টি ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। মালেক নামের এক রোগী হার্টের ভাল্বের সরকার দাম নির্ধারণ করে দেয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, তার মতো গরিব পরিবারের রোগীরা এতে উপকৃত হবেন। তিনি এতদিন টাকার অভাবে হার্টের ভাল্ব বসানোর বিষয় নিয়ে একটু  দুশ্চিন্তায় ছিলেন।
এখন দাম কমায় কিছুটা ধার-দেনা করে হলেও বসাতে পারবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এদিকে দেশে ১৯শে ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো হার্টের ভাল্ব এবং পেসমেকারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) নির্ধারণ করেছে সরকার। সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সকলের মতামতের ওপর ভিত্তি করে এই মূল্য নির্ধারণ করেছে। মূল্য নির্ধারণে হার্টের ভাল্বের ক্ষেত্রে মডেল ও কোম্পানি ভেদে ৪ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম কমানো হয়েছে। পেসমেকারের ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা থেকে ৪ লাখ ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম কামানো হয়েছে। ওষুধ প্রশাসনের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ইতিপূর্বে হার্টের রিংয়ের (স্ট্যান্ট) মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে হূদরোগ ইনস্টিটিউটসহ  অন্য হাসপাতালগুলোতেও নির্ধারিত মূল্যে রিং ব্যবহার করছেন রোগীরা। একই ভাবে ভাল্ব ও পেসমেকারের মূল্য নির্ধরাণ হলো। এখন থেকে দেশের সব হাসপাতালে এই মূল্যেই এসব ডিভাইস পাবেন রোগীরা। জানা গেছে, হার্টের ভাল্ব ও পেসমেকারের মূল্য নির্ধারিত না থাকায় রোগীদের কাছ থেকে ইচ্ছামতো টাকা আদায় করা হতো। বিষয়টি ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নজরে এলে গত ২৮শে নভেম্বর কার্ডিওলজিস্ট, কার্ডিয়াক সার্জন এবং মেডিকেল ডিভাইস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সকলের মতামতের ভিত্তিতে পেসমেকার ও ভাল্বের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। যা  প্রকাশ করা হলো। সূত্রে জানা গেছে, এসজেএম মেকানিক্যাল হার্ট ভাল্ব (রোটেটেবল অ্যারোটিক এবং রোটেটেবল মিট্রাল) হাসপাতাল ভেদে বিক্রি হতো ৫৮ হাজার টাকা থেকে ৭৪ হাজার টাকায়। বর্তমানে এর মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ৫৮ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে দাম কমানো হয়ে ১৬ হাজার টাকা। একইভাবে রিজেন্ট মেকানিক্যাল হার্ট ভাল্বের দাম নির্ধারণ হয়েছে ৫৮ হাজার টাকা, মেডিট্রনিক ওপেন পাইভোট হার্ট ভাল্ব (মিট্রাল), মেডিট্রনিক ওপেন পাইবোট হার্ট ভাল্ব (অ্যারোটিক) ইতিপূর্বে ৫৮ থেকে ৭৪ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো। বর্তমানে এসব ভাল্বে দাম ৫৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসজেএম মেকানিক্যাল হার্ট ভাল্ব (কনডুইফ ভাল্ব) বিক্রি হতো দেড় লাখ থেকে এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা। বর্তমানে এর মূল্য নির্ধারণ হয়েছে দেড় লাখ টাকা। এক্ষেত্রে দাম কমানো হয়েছে ২৬ হাজার টাকা। ওন-এক্স প্রস্থেটিক হার্ট ভাল্ব (অ্যারটিক) বিক্রি হতো ৫৫ থেকে ৫৯ হাজার ৮০০ টাকায়। এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া এসজেএম টিস্যু হার্ট ভাল্ব (অ্যারটিক) বিক্রি হতো আড়াই লাখ টাকায়। এটির মূল্যের কোনো পরিবর্তন করা হয়নি। এদিকে ভিভিআই সিঙ্গেল চেম্বর পেসমেকার হাসপাতাল ভেদে বিক্রি হতো ৬৫ হাজার টাকা থেকে ৭৫ হাজার টাকায়। এর দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ হাজার টাকা। ভিভিআই (সিঙ্গেল চেম্বর উইথ রাইট রেসপন্সিভ) পেসমেকার বিক্রি হতো এক লাখ টাকা থেকে এক লাখ ১০ হাজার টাকা। বর্তমানে নির্ধারিত দাম ৯৫ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকা। ভিভিআইআর (সিঙ্গেল চেম্বর উইথ রাইট রেসপন্সিভ) পেসমেকার উইথ এমআরআই বিক্রি হতো ২ লাখ ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকায়। এর দাম নির্ধারণ হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। ডিডিআর (ডুয়েল চেম্বর) উইথ রাইট রেসপন্সিভ পেসমেকার বিক্রি হতো এক লাখ ৬৫ হাজার থেকে দুই লাখ টাকায়। এখন থেকে বিক্রি হবে ১ লাখ ৫২ হাজার টাকায়। ডিডিআর (ডুয়েল চেম্বার) উইথ এমআরআই’র পূর্ব মূল্য ছিল তিন লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা। বর্তমানে নির্ধারিত মূল্য ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সিআরটি-পি বিক্রি হতো ৪ লাখ থেকে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বর্তমান মূল্য ৪ লাখ থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। আইসিডি-ভিআর (সিঙ্গেল চেম্বার) পেসমেকারে পূর্ব মূল্য ছিল সাড়ে ৪ লাখ টাকা থেকে ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা, বর্তমানে নির্ধারিত মূল্য ৪ লাখ ২০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা। আইসিডি-ভিআর (ডুয়েল চেম্বার) পেসমেকার বিক্রি হতো ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ৯ লাখ টাকা। খুচরা মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ৯ লাখ টাকা। এ ছাড়া সিআরটি-ডি পেসমেকার এর আগে বিক্রি হতো ৯ লাখ টাকা থেকে ১৪ লাখ ৭ হাজার টাকায়, বর্তমানে এর সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ) অধ্যাপক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন এই ব্যাপারে বলেন, মূল্য নির্ধরাণ হয়েছে এটা ভালো কথা। কিন্তু হার্টে ভাল্ব ও পেসমেকার বসাতে রোগীকে আরো আনুষঙ্গিক ব্যয় বহন করতে হয়। এক্ষেত্রে ওষুধ প্রশাসন যদি ভাল্ব ও পেসমেকারের পাশপাশি প্রতিস্থাপনের সর্বোচ্চ প্যাকেজমূল্য নির্ধারণ করে দিত তাহলে ভালো হতো। তবে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্যাকেজ মূল্য নির্ধরাণ করা প্রশাসনের কাজ নয়। এটি হাসপাতালের কাজ।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সেনাপ্রধানের বাবার মৃত্যু

‘সমস্যার সমাধান করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের’

ঢাবি’র ভিসি কার্যালয় ছাত্রলীগের ঘেরাও, ধর্মঘট ডেকেছে শিক্ষার্থীরা

লিবিয়ায় গাড়িবোমা হামলায় নিহত ৩৩

ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন মুয়েলার

আদালতে খালেদা জিয়া

পাথরঘাটায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩

‘বাধ্য হয়ে অনেকে একই ধরনের চরিত্রে বারবার কাজ করছেন’

ছাত্রলীগে উদ্ধার ভিসি, শিক্ষার্থীদের ফের পিটুনি

ঘুষ নেয়ার সময় ধরা পড়ে নাসির বেরিয়ে আসছে আরো নাম

আদালতে খালেদার আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা

বিএসএফ জওয়ান গ্রেপ্তার

শিক্ষামন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে মন্ত্রিসভার সদস্যরাও নাখোশ

পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হামিদ না অন্য কেউ

এর পরও অনায়াস জয়

পলাতক জঙ্গি সাড়ে ৩ হাজার