‘সত্যবাবু মারা গেছেন’ বইয়ের ৪র্থ অধ্যায়

আমরা যেন হারিয়ে যাচ্ছি

মিডিয়া কর্নার

| ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার
প্রয়াত প্রখ্যাত সাংবাদিক ফয়েজ আহমদের দেখা বহুল পঠিত গ্রন্থ ‘সত্যবাবু মারা গেছেন’। ওই বইয়ের চতুর্থ অধ্যায় ‘আমরা যেন হারিয়ে যাচ্ছি’:

নাস্তার টেবিলেই তোসাদ্দুক সায়েব বললেন, আজকে নিউ ইয়ারস্ ইভ; অর্থাৎ শুভ নববর্ষের পূর্ব রাত্র। কথাটা যে আমাকে উদ্দেশ্য করেই বলা, তা জানতাম। ‘আপনি কি বের হচ্ছেন?’ তিনি আমাকে প্রশ্ন করলেন।
বিদেশে, বিশেষ করে খোদ লন্ডনে নববর্ষের পূর্ব রাত্রের আনন্দ ও অর্থ কি, সে কথা তখনো আমার যথেষ্ট জানা ছিল না। ইলিয়াস ভাই আমাকে উদ্ধার করার জন্যে এগিয়ে এলেন। মার্জারিনে ভাজা ডিম খেতে খেতে বললেন: ‘বেরুবে না কেন? আমি ওকে নিয়ে যাবো।’ লন্ডন প্রবাসী হিসেবে তিনি আমার সিনিয়র, অনেক কিছুই বেশী জানার কথা।
আমরা ক’জন সে সময়, চুয়ান্ন সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে লন্ডনে জড় হয়েছিলাম।
মওলানা ভাসানীকে কেন্দ্র করে। পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্ণর ইস্কান্দার মীর্জার হুমকী আর গ্রেফতারী পরোয়ানার তাড়ায় আমরা প্রকাশ্য লন্ডনে আত্মগোপন করেছিলাম। স্টকহমের বিশ্ব শান্তি সম্মেলন থেকে ফিরেই মওলানা সায়েব ঢাকার পথে লন্ডনে আটকা পড়ে যান। গভর্ণর মীর্জা তো গর্জন করেই বসলেন যে, মওলানা ভাসানী দেশে ফিরলে তিনি বিমানবন্দরে তাঁর শ্রেষ্ঠ হাবিলদারকে পাঠাবেন মওলানাকে গুলি করতে। চার বছর পরে আইয়ুব খানের গুলির মুখে তিনিই যে দেশ ছেড়ে লন্ডনে পালিয়ে কোন এক হোটেলে ব্যাঙ্কোয়েট ম্যানেজার হবেন, সে কথা তিনি তখনো কল্পনা করতে পারেননি। আমি, অধ্যাপক মোজাফ্্ফর আহ্মদ, খন্দকার মোঃ ইলিয়াস একই রাজরোষে মওলানা সায়েবের সাথে সাউথ্ কেনজিংটনের একটি বাড়িতে বাস করছিলাম। আমাদের সবার আগে ঢাকায় পুলিশের তাড়া খেয়ে জনাব তোসাদ্দুক আহমদ (সংবাদের রিপোর্টার) লন্ডনে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এক অজানা উৎকণ্ঠা থেকেই যেন তোসাদ্দুক সায়েব প্রথম প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি পুনরায় সতর্কতা দিয়ে বললেন: হারিয়ে যাবেন না কিন্তু।
কথাটা মিষ্টি করে বলা। তিনি নিশ্চয়ই ভাবেন নি যে, আমি সত্যিই হারিয়ে যাবো। তিনি বলতে চেয়েছিলেন, অবাধ আনন্দে আমি যেন ইচ্ছে করেই হারিয়ে না যাই। এমনি ভাবে অফুরন্ত উত্তেজনাকর আনন্দ উল্লাসের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া সত্যিই সুখকর। লন্ডনের কেন্দ্রবিন্দু পিকাডেলী সার্কাস আর ট্রাফালগার স্কোয়ার এলাকায় লক্ষ লক্ষ যুবক-যুবতী বর্ণাঢ্য পরিচ্ছদে আচ্ছন্ন হয়ে আনন্দে গা’ এলিয়ে নববর্ষকে স্বাগত জানায়। যুবতীদের বক্ষের উপর আর কাগুজে টুপিতে লেখা ‘কিস্ মি ওয়ান্স’, ‘টাচ্ মি টেন্ডার’ ইত্যাদি ইত্যাদি। অর্থাৎ আমাকে একবারই মাত্র চুম্বন করতে পার। আমাকে যখন স্পর্শ করবে, তা হবে মৃদু সমীরণের মতো কোমল অথবা আমাকে এমনভাবে স্পর্শ করো যাতে মনে হয় দক্ষিণাত্য থেকে ময়ূরের পালক আহরণ করে তা দিয়ে আমার শরীরে আলতো আঘাত করছো! বীগবেনে রাত বারোটার আহ্বান শুনে সবাই নতুন বছরকে আলিঙ্গনের পর যাত্রা করে স্বগৃহে। কন্ঠে তাদের; ঈশ্বর, রাণীকে (বর্তমানে) রক্ষা করো।
নববর্ষের পূর্বরাত্রে এমন একটা রসঘন নৃত্য, গীত, উত্তেজনা আর চাঞ্চল্যের মধ্যে ইচ্ছে করে হারিয়ে যাওয়া তেমন কি আর বাড়াবাড়ি? তাই বাড়াবাড়ির সুযোগ নেই বলে জনৈক তরুণ বাঙ্গালী অধ্যাপক বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন সন্ধ্যার পূর্বেই। এই সাহিত্যিক-অধ্যাপক, যিনি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করতে চলেছেন, তাঁর দু’ সংস্কৃতিবান বন্ধুর সাথেই তখন সর্বক্ষণ থাকতেন, লন্ডনে। এক বন্ধু নাজির আহমদ রেডিও পাকিস্তান থেকে চাকরি ছেড়ে বিবিসিতে সে সময় বাংলা প্রোগ্রাম চালাতেন। পরবর্তীকালে এই স্বল্পভাষী সংস্কৃতিবান রুচিসমৃদ্ধ ও সুদক্ষ বেতার অফিসার প্রদেশের চলচ্চিত্র উন্নয়ন সংস্থার প্রধান হয়েছিলেন এবং তাঁর সময়ই এই সংস্থার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় শুরু হয়। আমাদের দেশের একজন শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ফতেহ লোহানীও সে সময় লন্ডনে বিবিসির বাংলা প্রোগ্রামের অন্যতম কর্মকর্তা ছিলেন।
একত্রিশে ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর থেকেই অধ্যাপককে বাসায়, আড্ডায়, কোথাও পাওয়া গেল না। বিবিসির দু’বন্ধু অনেক সন্ধানের পর নিশ্চিত হয়ে গেলেন তৃতীয় বন্ধুর অবস্থানের কথা। টিউব থেকে নেমে অর্থাৎ পাতাল রেল স্টেশনে পা’ ফেলেই তাঁরা উপরে উঠে এলেন পিকাডেলিতে। লক্ষজনের ভিড়ে তাঁরা সন্ধান করে চললেন একটি বাঙ্গালী মুখমন্ডলের। প্রথমে পিকাডেলী, তারপরে ট্রাফালগার স্কোয়ারে নেলসন কলামের পাদদেশে।
হ্যাঁ, কি আশ্চর্য আন্দাজ। একেবারে সঠিক স্থানে এসে পেলেন বন্ধুটিকে। নেলসন কলামের নীচে, ফোয়ারার পাশেই। বুঁদ হয়ে পড়ে আছেন বন্ধুটি, কলামের গায় হেলান দিয়েÑজড়িয়ে আছেন এক বিধুবদনা। হৃদয়বান দু’বন্ধু টেনে ওঠালেন সেই অধ্যাপককে, তারপর চ্যাং দোলা করে সরাসরি পাশের ফোয়ারায়! বহু লোকের হৈচৈ; তারই মধ্যে চোখের পলকে হাসতে হাসতে অধ্যাপককে হিম সলিলে নিক্ষেপ। প্রথম তিনি বুঝতে পারেননি যে, ব্যাপারটা এতো দূর গড়াবে। স্যুট পরিহিত বাঙ্গালী অধ্যাপক ডিসেম্বরের বরফ গলা পানি থেকে সম্পূর্ণ সিক্ত অবস্থায় অসহায়ের মতো উঠে আসলেন।
আমরা কেউ ইচ্ছে করেও হারাইনি। বছরের প্রথম তারিখে যে ফোনটা প্রথম এলো তা ছিল অধ্যাপকের নিউ ইয়ার্স ইভে কোন এক ইভের সন্ধানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত গল্পের বয়ান। কিন্তু ব্যাপারটা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গেলেও পরবর্তীকালে এই তিন বন্ধুর সম্পর্কের ছাড়াছাড়ি হয়নি।
বাঙ্গালীর নববর্ষ পয়লা বৈশাখে এমন একটা অভাবনীয় ও দুরন্ত ঘটনার কথা কল্পনাও করা যায় না। চিরাচরিত নিয়মে এখনো অনেকের কাছে অর্থনৈতিক দিক থেকে এটি হিসাব নিকাশের দিন। আমরা, যারা শহুরে তারা যাই রমনার বটমূলে সুখকর সংগীত প্রত্যুষে। আমরা সংগীতের মূর্ছনায় নববর্ষকে স্বাগত জানাতে চাই। আমরা চাই নববর্ষের অচুন্বিত শিশিরে অবগাহন করতে। আমাদের সংযত পদ সঞ্চারণ, আমাদের বাক্যব্যয় পরিমিত, রজকধৌত পোষাক আমাদের, নিষিদ্ধ যেন প্রহাস; শহুরে পান্তা ভাতের ব্যাঙ্গাত্মক বিলাসিতা। আমরা এই ম্রিয়মান জীবনে যেন সার্বক্ষণিক হারিয়ে যাওয়া নাগরিক।
কিন্তু আমরা পুষ্পের সুবাস, শিশিরের স্পর্শ ও কেতকীর কোমনীয়তার মধ্যে নিজেদের বিলিয়ে দিলেও, পয়লা জানুয়ারীর পূর্ব রাত্রেও নিজেদের চাঙ্গা করে তুলতে উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠি। শহরে কিছু লোক আমরা বাংলা পঞ্জিকার পৃষ্ঠা খুলি মেয়ের বিয়ে আর শুভযাত্রার দিনক্ষণের জন্যে। অফিস আদালত, কলকারখানা সবই চালিত হয় ইংরেজী বছরের তারিখ দেখে। স্বাভাবিকভাবেই ইংরেজদের এই সংস্কৃতির অবদানকে উপেক্ষা না করে আমরা পয়লা জানুয়ারী উদযাপন করে থাকি। অর্থাৎ এই দিনটির শুভাগমন আমাদের মুখম-ল উজ্জ্বল করে তোলে। এই বিদেশী তারিখ অবলম্বন করেই তো আমরা বিদেশী ঋণের বোঝা মস্তকে ধারণ করি। আমাদের সংগ্রামী ইতিহাসের উজ্জ্বল তারিখগুলোও ভিনদেশী-একুশে ফেব্রুয়ারী, ছাব্বিশে মার্চ, ষোলই ডিসেম্বর, এ সবই তো ইংরেজী তারিখ।
তবে আমাদের বন্ধুরা সেই ইংরেজী নববর্ষ রাত্রে উচ্ছল হয়ে উঠবেন না কেন? হারিয়ে যাবেন না কেন? আর এই রাত্রের পান-আহার ও আনন্দের সাথে খৃষ্টধর্ম বা মহান যিশুর কোন সম্পর্ক নেই। ঢাকা ক্লাবের জমাট উৎসবের এই রজনীতে অনেক সাংবাদিক বন্ধুই উপস্থিত থাকেন। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি, নব্য ও পুরাতন ধনীদের ভিড়ে কোন কোন সাংবাদিক ঠাঁই পান; কোথায় হারিয়ে যান বেলুন বিস্ফোরণের অনেক পূর্বেই!
উৎসবপ্রিয় এক বন্ধু সাংবাদিক সেবার ঢাকা ক্লাবে এই রঙিন সন্ধ্যা উপভোগ করতে গিয়েছিলেন। তাঁর আকর্ষণ অনেকÑমাতৃভাষার মতো ইংরেজীতে তিনি সহজ সুন্দর কথা বলতে পারেন। সুদর্শন পুরুষ, ইংরেজী কাগজেরই রিপোর্টার। (দু’দশক যাবত তিনি বিদেশে কর্মরত রয়েছেন।) মধ্য পঞ্চাশ দশকের এই আলোচিত রজনী উদযাপন করতে গিয়ে তিনি ক্লাবটাকেই যেন ভালোবেসে ফেলেছিলেন। রাত প্রায় একটার দিকে সবাই নিজ নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করার উদ্যোগ নিলেন। কিন্তু আমাদের বন্ধুটি ঘরে ফেরার কোন লক্ষণই দেখালেন না। একে একে সবাই ফিরে গেলেন। তিনি তখন একটার পর একটা কবিতা উচ্চারণ করে চলেছেন পানপাত্র হাতে। এমন অবস্থায় বাধা দেবার সাহস কারো ছিল না। এক পর্যায়ে ঢাকা ক্লাবের হলে তিনিই একা উপস্থিত ছিলেন। বেয়ারাগণও তাকে পরিত্যাগ করে গেলেন। বোঁ-টাই গলা থেকে হালকা করে একটা সোফার উপরই রাত কাটালেন তিনি।
সকাল কখন হয়েছে, তা তার জানা ছিল না। প্রায় নট’ার দিকে বেয়ারারা এসে সাহেবকে সোফা থেকে উঠিয়ে বললেন: স্যার, বাসায় যাবেন না?
তখনো তার ঘোর কাটেনি, রেশ চলছে। হাত-পা’ নড়লেও চোখ খোলা ভার। কোন উপায় ছিল না। উঠতেই হলো তাঁকে। কিন্তু ডিনার জ্যাকেট পরিহিত বোঁ বাধা ভদ্রলোক কি করে বেরুবেন খাঁ খাঁ রোদ্দুরে? এখন অবশ্য অতোটা আনুষ্ঠানিকতা নেই। সে সময় আমরা অনেকেই ডিনার স্যুট পরিধান করে নৈশ ভোজে বা উৎসবে যেতাম। বর্তমানে হাতকাটা হাওয়াই সার্ট পরে ডিনারে প্রবেশ সম্ভব করা হয়েছে।
তিনি আর কোথায় যাবেন? কাছাকাছি তো প্রেস ক্লাবই রয়েছে। বোঁ খুললেন প্রথমে, পরে কালো জ্যাকেট। সবটা হাতে জড়ো করে রিকশায় উঠলেন। এই তো কাছেই।
প্রেস ক্লাবে সিঁড়ি বেয়ে ওঠার পর দৃশ্যটা ছিল নিম্নরূপ। আমাদের আরেক বন্ধু সরকারী ক্যামেরাম্যান আজাদ খাঁন ফ্রেস হয়ে ক্লাবের নীচের তলার প্রথম কক্ষে বসে আছে। সিঁড়ি বেয়ে উঠে বাঁ দিকের দরজা দিয়ে উপরে যেতে হবে। সাংবাদিক রিকশা থেকে নেমে সিঁড়ি দিয়ে উঠে এলেন। এখন বাঁ দিকে যাবেন। যাচ্ছেনও। কিন্তু হায়! তিনি এতো বড়ো দরজাটা এড়িয়ে ডান দিকের দেয়ালে গিয়ে পড়লেন। আবার তিনি পিছিয়ে গেলেন। এগিয়ে এলেন। আবার আঘাত দেয়ালে!
আজাদ কক্ষে বসে বসে বন্ধুর দুর্যোগ দেখছিল। দূর থেকেই সে বলল: গো টু স্টেপ ব্যাক- দু’পা’ পেছনে যান। এ্যান্ড ম্যুভ স্ট্রেট, ইউ গেট দি ডোরÑ এবং সোজাসুজি অগ্রসর হোন, দরজা পেয়ে যাবেন।
পূর্ব রাত্রির ঝিমুনি নিয়ে তিনবার আজাদের নির্দেশ মোতাবেক চেষ্টা করে তিনি দরোজার সন্ধান পেলেন। সেই হারিয়ে যাওয়ার শাশ্বত আকাঙ্খা থেকে মুক্তি পেলেন তিনি আর একটি বছরের শুরুতে।
অনেকের সেই রাতগুলো একইভাবে ভোর হচ্ছে। আমরা যেন হারিয়ে যাচ্ছি।

[আগামীকাল পড়ুন বইটির ৫ম অধ্যায় ‘এক মুঠো বাতাস ও শালিক দম্পতি’]

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

সেনাপ্রধানের বাবার মৃত্যু

‘সমস্যার সমাধান করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের’

ঢাবি’র ভিসি কার্যালয় ছাত্রলীগের ঘেরাও, ধর্মঘট ডেকেছে শিক্ষার্থীরা

লিবিয়ায় গাড়িবোমা হামলায় নিহত ৩৩

ট্রাম্পকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন মুয়েলার

আদালতে খালেদা জিয়া

পাথরঘাটায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ৩

‘বাধ্য হয়ে অনেকে একই ধরনের চরিত্রে বারবার কাজ করছেন’

ছাত্রলীগে উদ্ধার ভিসি, শিক্ষার্থীদের ফের পিটুনি

ঘুষ নেয়ার সময় ধরা পড়ে নাসির বেরিয়ে আসছে আরো নাম

আদালতে খালেদার আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা

বিএসএফ জওয়ান গ্রেপ্তার

শিক্ষামন্ত্রীর কর্মকাণ্ডে মন্ত্রিসভার সদস্যরাও নাখোশ

পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হামিদ না অন্য কেউ

এর পরও অনায়াস জয়

পলাতক জঙ্গি সাড়ে ৩ হাজার