‘নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমিধস পরাজয় হবে’

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭, বুধবার
জনগণের চাওয়াকে তোয়াক্কা না করে অষ্টম বারের মতো বাড়ানো হয়েছে বিদ্যুতের দাম। ভোগ্য পণ্যের বাজার চরম শোচনীয় অবস্থার মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে দেশের মানুষ। সরকার জনস্বার্থের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভূমিধস পরাজয় হবে। গতকাল প্রেস ক্লাবে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার, চাল-পিয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমাও শীর্ষক সমাবেশ ও মন্ত্রণালয় অভিমুখে বিক্ষোভে সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। সমাবেশে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক বলেন, সরকার জনগণের দাবিকে অগ্রাহ্য করে একতরফাভাবে বিদ্যুৎসহ বাজার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তুলছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়িয়ে নির্বাচন খরচ জোগাড় করছে।
সরকার তার আত্মীয়স্বজন ও কিছু কোম্পানিকে সুবিধা দিতে গিয়ে দুর্নীতির খেসারত জনগণ দিতে পারে না।
তিনি বলেন, দেশে সরকার নেই। এ সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের যে ল্যান্ডস্লাইড বিজয়ের ঘোষণা দিয়েছে তা না হয়ে দলটির ভূমিধস পরাজয় হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দলমতনির্বিশেষে সবার উদ্দেশে সমাজতান্ত্রিক দলের মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, ১৬ কোটি মানুষের অভিন্ন দাবি বিদ্যুতের দাম কমাতে হবে। গণবিরোধী অনির্বাচিত এ সরকার ৮ বার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে।
আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি করে বিদ্যুতের দাম ১৬ বার বাড়াবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, সরকারের মধ্যস্বত্বভোগী রাজনৈতিক লুণ্ঠনকারীরা বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে উৎপাদক কৃষক আর ভোক্তাকে শোষণ করছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের মতো ক্ষমতায় যেতে চাওয়ার প্রত্যাশা কখনো পূরণ হবে না। বাম নেতা খালেকুজ্জামান বলেন, দেশের মানুষ আমলা, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিকদের হাতে জিম্মি হয়ে গেছে। তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে সরকার বাজারে লুণ্ঠন করছে।
ভোক্তাদের পকেট কেটে স্বার্থবাদীদের পেট ভরছে। ভোটের অধিকারের পর কেজি প্রতি চাল ১০ টাকার কথা বলে এখন মানুষের ভাতের অধিকার হরণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার উপস্থিত অন্য বক্তারা বলেন, সাধারণ নাগরিকদের জীবন আজ বিপন্ন হতে চলেছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কারণে অকারণে অহরহ গুম খুন হচ্ছে। নারী-শিশুদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। দেশে গণতন্ত্রের গলায় গামছা পরিয়ে নির্বাসনে দেয়া হয়েছে। সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলে স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করছে বলে জানান উপস্থিত বক্তারা। সমাবেশ শেষে বিদ্যুতের বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার এবং চাল, পিয়াজ, মরিচসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমানোর দাবিতে সিপিবি, বাসদ ও গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার উদ্যোগে সচিবালয় অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে দেশের টাকা পাচার বন্ধের দাবিতে আগামী ২৭শে  ডিসেম্বর বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক অভিমুখে বিক্ষোভের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।  

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন