সুদের ৮ হাজার টাকার জন্য যুবককে পিটিয়ে হত্যা, মামলা দায়ের

অনলাইন

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার, ১:৪০ | সর্বশেষ আপডেট: ৭:২৪
তাহিরপুরে সুদের টাকা পরিশোধ না করায় এক যুবককে আটক রেখে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তাহিরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা। রবিবার রাতে উপজেলার শিমুলতলা গরিয়াবাজ গ্রামের আজাদ মিয়ার স্ত্রী ছালেমা বেগম তার ছেলে শাহিন মিয়া কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ এ মামলাটি দায়ের করেন। হত্যা মামলার আসামী করা হয়েছে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের বারহাল গ্রামের আবদুল আলীর ছেলে বাবলু ওরফে জাহাঙ্গীর আলম বাবলু সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৩ ব্যাক্তিকে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বারহাল গ্রামের আবদুল আলীর ছেলে বাবলু ওরফে জাহাঙ্গীর আলম বাবলু সুদের পাওনা ৮ হাজার টাকার জন্য গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাদাঘাট বাজার থেকে একই উপজেলার শিমুলতলা গরিয়াবাজ গ্রামের আজাদ মিয়ার ছেলে শাহিন মিয়াকে মোটরসাইকেলসহ ধরে নিয়ে বাবলুর নিজ বাড়িতে আটক রেখে নানা কায়দায় নির্যাতন করে পিটিয়ে হত্যা করে। একপর্যায়ে শাহিনের মৃত্যু হলে বাবলু ও তার সহযোগীরা মুখে বিষ ঢেলে চিকিৎসার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়। রাত ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহিন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করে।
সংবাদ পেয়ে থানা পুলিশ পরদিন বাবলুর গ্রামের বাড়ি বারহাল থেকে শাহিন মিয়ার নিকট থেকে আটক রাখা একটি প্লাটিনা ১শ সিসি মোটরসাইকেল জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। এইদিকে হত্যাকাণ্ডের চার দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ সোমবার পর্যন্ত অভিযুক্ত আসামী বাবুলকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সুদখোর বাবলু এলাকার হতদরিদ্র লোকজনকে চড়া সুদে টাকা দিয়ে তা আদায়ে করতে গত কয়েক বছরে একাধিক ব্যক্তিকে বাড়িতে নিয়ে আটক রেখে মারধর করে জায়গা - জমিও লিখে নিয়েছে। উপজেলার শিমুলতলা, বারহাল, চন্দ্রপুর, কামড়াবন্দ, মোল্লাপাড়া, ওলিপুর বাগগাঁও সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের শতাধিক দরিদ্র পরিবারের বেশ কজন বাবলুর চড়া সুদের জালে সর্বস্ব হারিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে বাবলু বাহিনীর আতংকে এলাকা ছাড়াও হয়েছে।
নিহত শাহিনের মা ছালেমা বেগম জানান, বাবলু ও তার সহযোগীরা তার ছেলেকে বাড়িতে আটক রেখে মারপিট করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে হত্যা করেছে। এখন হত্যার ঘটনাটি আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, তার স্বামী একসময় রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এখন বার্ধক্যের জন্য তিনিও শয্যাশায়ী, শাহিনই ছিল তাদের পরিবারের ভরসা পোষণের একমাত্র ভরসা। তিনি প্রশাসনের কাছে ছেলে হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার চেয়েছেন।
তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, অভিযুক্ত আসামী বাবুলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে চেষ্টা করছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

সহল চৌধুরী

২০১৭-১২-১১ ০১:৩৪:০১

এর বিচার চাই।

abdur rahim

২০১৭-১২-১১ ০১:১৯:৩১

Allah mohan( الله اکبر)

আপনার মতামত দিন