দুই বছর ওএসডি ছিলেন মারুফ জামান

প্রথম পাতা

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪৪
চাকরি জীবনের শেষ ২ বছর ওএসডি ছিলেন নিখোঁজ কূটনীতিক মারুফ  জামান। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে ২০১৩ সালের ২৭শে আগস্ট সরকার জনস্বার্থে তাকে চাকরি থেকে অবসর প্রদান করে। তার আগে ২৮ বছর ৫ মাস ২৮ দিনের দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনে একাধিকবার লন্ডন ও হ্যানয়ে এবং একবার করে দোহা ও ব্যাংককে বাংলাদেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন পররাষ্ট্র ক্যাডারের ওই কর্মকর্তা। কূটনৈতিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব পদমর্যাদায় রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের সর্বশেষ পোস্টিং ছিল ভিয়েতনামে। ২০০৮ সালের ৬ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রদূত হিসেবে দোহা থেকে হ্যানয়ে যোগ দেন তিনি। সেখানে অল্প ক’দিন ছিলেন।
আচমকা এক আদেশে ৯ মাসের মাথায় তাকে ঢাকায় ফিরে আসতে হয়। অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে সেগুনবাগিচায় যোগ দেন। সেখানে কাটান প্রায় দু’বছর। অবশ্য রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাতারের দোহায় পূর্ণ ৪ বছর দেশের পক্ষে দূতিয়ালি করেছেন তিনি। সরকারি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে ২০০৯ সালের ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেগুনবাগিচায় কাটান তিনি। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে ওএসডি করা হয়। দু’বছর পর চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে মর্মে সরকারি আদেশে তাকে অবসরে পাঠানো হয়। কিন্তু কি কারণে জ্যেষ্ঠ ওই কূটনীতিককে অবসরে পাঠানো হয়েছিল তা আজও রহস্যাবৃত! অবশ্য সহকর্মীরা মারুফ জামানের রাজনৈতিক পরিচয় বা মতাদর্শের বিষয়টিকে সামনে আনছেন। কিন্তু এটিও প্রতিষ্ঠিত  যে, কূটনীতিতে রাজনৈতিক পরিচয় বা ভাবাদর্শ খুব একটা প্রভাব ফেলে না। তারা পেশাদার হিসেবেই বিবেচিত হন। নিখোঁজ মারুফ জামানের মেয়ে সমপ্রতি আল জাজিরাকে এ নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ওই সংবাদমাধ্যম তার সর্বশেষ রিপোর্টে এটি তুলে ধরেছে। আল জাজিরার রিপোর্ট মতে, ৪ঠা ডিসেম্বর থেকে নিখোঁজ বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক মারুফ জামানের ঘটনার পেছনে যে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তাতে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন এটাও একটা জোরপূর্বক গুমের ঘটনা। ঘটনার দিন তিনি মেয়েকে আনতে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান গাড়ি নিয়ে। কিন্তু তিনি আর সেখানে পৌঁছাতে পারেন নি। পরের দিন সকালে তার গাড়িটি বিমানবন্দর থেকে প্রায় ৩.৭ কিলোমিটার দূরে খিলক্ষেত এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্যমতে ওই স্থান থেকে প্রায় ৩.৮ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত মারুফ জামানের মোবাইল ফোনের সিম কার্ডটি সক্রিয় ছিল। রিপোর্ট মতে, বিএনপির জমানায় মারুফ জামানকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করা হয়েছিল। তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন অন্য বড় রাজনৈতিক দলের অধীনে ও সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। মনে করা হতো তিনি ‘আওয়ামী লীগ বিরোধী’ ধ্যান-ধারণার। ৬১ বছর বয়সী এই কূটনীতিক রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না। বেশির ভাগ সময় কাটিয়েছেন বাসায়। ঘটনার রাতে বিমানবন্দরে আনতে গিয়েছিলেন দু’মেয়ের মধ্যে ছোট মেয়ে সামিহা জামানকে। সেই সামিহা আল জাজিরাকে বলেন, তিনি বাসায় পৌঁছে দেখতে পান তার পিতার রুমটি এলোমেলো। দু’জন গৃহকর্মী দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।
মারুফ জামান বাসা ছেড়েছিলেন স্থানীয় সময় প্রায় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে। তারপর সন্ধ্যা ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে বাসায় ফোন করেন। ভয়ার্ত কণ্ঠে বলেন, কিছু লোক আসবে বাসায়। তাদেরকে ল্যাপটপ ও কম্পিউটার দিয়ে দিও। আল জাজিরাকে এ কথা বলেছেন লাকি নামে এক গৃহকর্মী। যে নম্বর থেকে ওই ফোন এসেছিল তার কলার আইডি ছিল ০০০১২৩৪৫৬। পরে আল জাজিরা নিশ্চিত হতে পারে যে, ওই নম্বরটি বাংলাদেশের কোনো মোবাইল ফোন বা ল্যান্ডলাইন অপারেটরের নয়। মারুফ জামান যে অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কালো শার্ট ও জিন্স পরা এবং মাথায় ক্যাপ পরা তিনজন ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করছে। কিন্তু ক্যাপ পরা থাকায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব নয়। এতে তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে ছিল। আল জাজিরাকে সামিহা বলেছেন, সারারাত অপেক্ষার পর পরের দিন ধানমন্ডি পুলিশ স্টেশনে নিখোঁজ হিসেবে একটি অভিযোগ করতে যান। ওদিকে মারুফ জামানের বড় মেয়ে শবনম জামান আল জাজিরাকে বলেন, বাংলাদেশে এর আগে যেসব গুমের ঘটনা ঘটেছে পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে তার বাবার ঘটনাটি সে রকমই। তিনি মনে করেন এমন আটক ব্যক্তিদের রাখা হয় রাষ্ট্রীয় এজেন্সির অধীনে। অন্য যেসব তথ্য মিলেছে তাতে এমনটার পক্ষেই সমর্থন মেলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, জানি না তাকে কেন অপহরণ করা হয়েছে? তিনি তো অনেক বছর আগেই অবসরে গেছেন। তাকে হয়তো টার্গেট করা হয়েছে কোনো দৃষ্টিভঙ্গির কারণে, কোনো মতের কারণে, যা তিনি পোষণ করে থাকতে পারেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

billh

২০১৭-১২-১১ ০৯:৫৩:৫৫

সুনেছি বুবার কোন শত্রু নেই।

আপনার মতামত দিন