রসিক নির্বাচন

আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাপা প্রার্থীর ভাবনা

শেষের পাতা

জাভেদ ইকবাল রংপুর থেকে | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪০
নির্বাচনে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৭ মেয়র প্রার্থী রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩ ওয়ার্ডের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু (নৌকা), বিএনপির কাওসার জামান বাবলা (ধানের শীষ) ও জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা (লাঙ্গল)। এই তিন প্রার্থীর দিকেই দৃষ্টি নগরবাসীর। উন্নয়ন নিয়ে কি ভাবছেন এ তিন মেয়র প্রার্থী। এ ব্যাপারে মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ঝন্টু বলেন, নবগঠিত রংপুর সিটি করপোরেশনে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হয়ে বিগত ৫ বছর নগরপিতার  দায়িত্ব পালন করেছি। ২০৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এ বৃহৎ এলাকার উন্নয়নে চেষ্টা করেছি।
নগরের ১৬ কিলোমিটার প্রধান সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা হয়েছে। ১ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ৪০৫ কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হয়েছে। পুরনো ২৭৭ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার, ২৬ কিলোমিটার সড়ক আরসিসি ও এইচবিবি, জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৯০ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ, ৮ কিলোমিটার নর্দমা সংস্কার, ৩৩ ওয়ার্ডের মধ্যে ৬টিতে নগর স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। আগামীতে নির্বাচনে জয়ী হলে প্রতিটি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র নির্মাণ, অসমাপ্ত রাস্তার উন্নয়ন, শ্যামা সুন্দরী খাল সংস্কারে বিশাল পরিকল্পনা, নগরের আনাচে কানাচে বৈদ্যুতিক বাতির পোল বসানোসহ রংপুরকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। বিএনপি প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা বলেন, দীর্ঘ ৫ বছরে রংপুর সিটি করপোরেশনের কোনো উন্নয়ন হয়নি, লাগেনি আধুনিকতার ছোঁয়া তাই নগরবাসীর অনুরোধে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হলে মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে একটি আধুনিক পরিবেশ বান্ধব যানজট মুক্ত নগরী গড়তে চাই। বিএনপি প্রার্থী বাবলা বলেন, নির্বাচিত হয়ে আমার প্রথম কাজ হবে কাউন্সিলরদের নিয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধান করা। অবহেলিত ওয়ার্ডগুলো উন্নয়ন না করে তাদের কাছ থেকে সিটি কর আদায় করা হবে না। বাইপাস রাস্তা করে যানজট সমস্যার সমাধান করা হবে। দুর্নীতিমুক্ত সিটি করপোরেশন গড়ে তুলে সব নাগরিকের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। শিশু, বৃদ্ধ ও নারী-পুরুষসহ সব বয়সীদের জন্য আধুনিক মডেল নগরী হিসেবে বিনোদনের জন্য উন্নতমানের পাক নির্মাণ করা হবে।  জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, শুধু উন্নয়নের বুলি দিয়ে নির্বাচনের বৈতরণী পাড় হওয়া যায় না। এর জন্য চাই সততার সঙ্গে কর্ম উদ্যোগ। সৎ ইচ্ছা থাকলে স্বল্প সময়ের মধ্যে অনেক কিছুই করা সম্ভব। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রংপুর নগরী অবহেলিত। উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর কম সময় নয়। এ পাঁচ বছরের মধ্যে একটি দেশকে ঢেলে সাজানো যায়। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম। সেই আশা আকাঙ্ক্ষা মনে রেখে রংপুর সিটি করপোরেশনকে একটি পরিকল্পিত আধুনিক নগর নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছি। তিনি বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের নাগরিকরা ভোট দিয়ে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে মেয়র নির্বাচিত করেন। সেই মেয়রের কাছে তারা তাদের সমস্যা নিয়ে আসেন। যদি মেয়র তাদের সেই সেবা না দিয়ে দুর্ব্যবহার করেন তাহলে নাগরিকদের দুঃখের অন্ত থাকে না। মোস্তফা বলেন, মেয়র নির্বাচিত হয়ে প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের হাতে তাদের ক্ষমতা দেয়া হবে। যাতে করে ওয়ার্ডের জনগণ তাদের সেবা ওয়ার্ডেই পায়। এ ছাড়া বর্ধিত অবহেলিত এলাকাগুলোর উন্নয়নে বৈষম্য দূর করে জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিক করা হবে। যানজট থেকে মুক্তির জন্য সব পদক্ষেপ নেয়া হবে। রংপুর অঞ্চলের প্রধান সমস্যা গ্যাস। গ্যাস না আসার কারণে গড়ে উঠছে না শিল্প কলকারখানা। যার কারণে বেকার সমস্যা এ অঞ্চলে প্রকট আকার ধারণ করেছে। আমার চেষ্টা থাকবে রংপুরের পুত্রবধূ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ ব্যাপারে অবহিত করে গ্যাস আনার চেষ্টা করব। সংস্কার করে আধুনিকভাবে গড়ে তুলব শ্যামা সুন্দরী খাল। নগরীকে করা হবে সম্পূর্ণরুপে মাদকমুক্ত। খেলাধুলার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে মাঠ তৈরি করা হবে। স্বাস্থ্য খাতের জন্য গড়ে তোলা হবে স্বাস্থ্য কেন্দ্র। সেই সঙ্গে দীর্ঘদিনের অবহেলিত রংপুর সদর হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হবে। ওদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসেইন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (হাতি), এনপিপির সেলিম আক্তার (আম), বাসদের আব্দুল কুদ্দুস (মই), ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের এটিএম গোলাম মোস্তফা (হাতপাখা) প্রতীক নিয়ে  একইভাবে মাদকমুক্ত, যানজটমুক্ত, আধুনিক সিটি করপোরেশন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৭-১২-১০ ১৯:১৫:৩৩

দেশে যখন গ্যাস দুষ্প্রাপ্য গ্যাস লাইন নিয়ে কি লাভ হবে ? শহরে শিল্প কারখানা করে বায়ু দোষণ বর্জ দিয়ে পরিবেশ ও পানি দোষন বাড়বে।

আপনার মতামত দিন