বরিশালে সাদিয়া হত্যা

চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধর্ষক সিরাজের মৃত্যু

বাংলারজমিন

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল থেকে | ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, সোমবার
বরিশালে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ইন্সটিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড টেকনোলজির ছাত্রী সাদিয়া আক্তার (২১) ধর্ষণের পর হত্যা মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি মো. সিরাজ (২২) শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। হাসপাতালের চিকিৎসকের তথ্যে তাকে শারীরিকভাবে টর্চারের পর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ৪ঠা ডিসেম্বর সিরাজ ও তার আরেক সহযোগী মো. হাফিজ আকনকে মঠবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছিল কোতোয়ালি থানার এসআই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওহাব। মৃত সিরাজ মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া গ্রামের মো. ইব্রাহিম মিয়ার পুত্র। চার ডিসেম্বর আটকের পর আদালতে জবানবন্দিতে সিরাজ ধর্ষণের পর সাদিয়া আক্তারকে হত্যার কথা স্বীকার করে। এরপর ৫ই ডিসেম্বর আদালত জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
এদিকে ৮ই ডিসেম্বর সিরাজ অসুস্থ হলে ওদিন রাত ৮টা ১০ মিনিটে শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে চিকিৎসারত অবস্থায় রোববার রাত দেড়টায় সিরাজের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে পরিচালক ডা. মো. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে তাদের কাছে মনে হয়েছে শারীরিক আঘাত করায় হৃদযন্ত্রেয় ক্রিয়া বন্ধ হয়ে রোগীর মৃত্যু হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে কিনা এ বিষয়ে জানতে চাইলে নগর পুলিশের কমিশনার এসএম রুহুল আমিন বলেন, যেহেতু আসামি নিজ থেকেই জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ শেষে হত্যার দায় স্বীকার করেছে তাই প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পুলিশ তাকে নির্যাতন করেনি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে পুরোটা বলা যাবে। এই কর্মকর্তা আরো বলেন, এই মৃত্যুর ঘটনায় তারা তদন্ত কমিটি গঠন করবেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান জানান, ৫ই ডিসেম্বর হাজতে পাঠানোর ৩ দিন পর অসুস্থ হলে শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। সেক্ষেত্রে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর সুনির্দিষ্ট ভাবে বলা যাবে নির্যাতনে না অন্য কোনো কারণে আসামির মৃত্যু হয়েছে। উল্লেখ্য, বরিশাল নগরীর ডেফুলিয়া এলাকার বাসিন্দা আলমগীর খানের কন্যা সাদিয়া আক্তার ১৯শে নভেম্বর বাসা থেকে বের হয়ে তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে বাসায় ফেরেনি। পরে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেলে ২২শে নভেম্বর  কোতোয়ালি মডেল থানায় বাবা আলমগীর খান জিডি করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওহাব মোবাইল ট্র্যাকিং করে মো. সিরাজের উপস্থিতি শনাক্ত করে সোমবার সকালে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মঠবাড়িয়া পুলিশের সহায়তায় প্রধান অভিযুক্ত সিরাজ ও হাফিজকে গ্রেপ্তার করেন।
 সিরাজের ঘর থেকে সাদিয়াকে হত্যার পর ব্যবহৃত বলরিং উদ্ধার করা হয়। প্রধান আসামি সিরাজ জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে, মোবাইলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ঘটনার দিন তার আরেক সহযোগী বাগেরহাটের শনরখোলা উপজেলার রাজাপুর গ্রামের আ. রব হাওলাদারের ছেলে নাজমুল ইসলাম নয়নের সহায়তার বরিশাল নগরীর রূপাতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে সাদিয়াকে মঠবাড়িয়া নিয়ে যায়। বাজারে ঘোরাফেরার পর  রাত সাড়ে নয়টার দিকে বড় মাছুয়া এলাকায় বলেশ্বর নদীর পাড়ে নিয়ে সাদিয়াকে ৩ জন মিলে ধর্ষণ করে। চিৎকার দিলে সাদিয়ার গলা টিপে হত্যা করে লাশ বলেশ্বর নদীতে ফেলে দেয়। তবে এখন পর্যন্ত সাদিয়ার লাশের সন্ধান মেলেনি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

অভিযোগের পাহাড়, অসহায় ইউজিসি

প্রত্যাবাসন শুরু হচ্ছে না আজ

মৈত্রী এক্সপ্রেসে শ্লীলতাহানির শিকার বাংলাদেশি নারী

‘২০৬ নম্বর কক্ষে আছি, আমরা আত্মহত্যা করছি’

ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারালেন ঢাবি ছাত্র

পুলে যাচ্ছে সেই সব বিলাসবহুল গাড়ি

নীলক্ষেত মোড়ে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, এমপির আশ্বাসে স্থগিত

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সফর সফল করতে নির্দেশনা

নেতাকর্মীরা জেলে থাকলে নির্বাচন হবে না: ফখরুল

তিন দিনের ধর্মঘটে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা

ইডিয়ট বললেন মারডক

সহায়ক সরকারের রূপরেখা প্রণয়নের কাজ শেষ পর্যায়ে

২৩শে ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন

বাসায় ফিরছেন মেয়র আইভী

‘আমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে’

জনগণ রাস্তায় নেমে ভোটাধিকার আদায় করবে: মোশাররফ