৪ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই: সিইসি

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর থেকে | ৮ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার
প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিরাপত্তার জন্য থাকবে ৪ স্তরের ব্যবস্থা। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, নির্বাচনে কালো টাকা বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে এ ব্যাপারে প্রার্থী ও জনগণকে সচেতন হতে হবে। নির্বাচনে সব প্রার্থী সমান সুযোগ পাবে। রংপুর সিটি নির্বাচন হবে সব নির্বাচনের পথিকৃৎ। সিটি নির্বাচন উপলক্ষে গতকাল আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভা ও প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় যোগ দেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় মিলনায়তনে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত  ছিলেন নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ, বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ, ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ। জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহেদুজ্জামান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন র‌্যাব, বিজিবি, পুলিশ, আনসার, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনে সেনাবাহিনীর কোন প্রয়োজন নেই। কারণ নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো। এজন্য ৪ স্তরের নিরাপত্ত ব্যবস্থা থাকবে। তিনি বলেন, ২১শে ডিসেম্বর রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি প্রায় শেষ। নির্বাচন, সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে আমরা সব প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রতিটি কেন্দ্রে ২২ থেকে ২৩ জন সশস্ত্র অস্ত্রধারী নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।
 প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা নিরপেক্ষ বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করবেন। তিনি বলেন,  নির্বাচনে সকল দলের প্রার্থী সমান সুযোগ পাবে।  অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ৩৩ জন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন মাঠে। কালো টাকা দিয়ে ভোট কেনা বেচা বন্ধে গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে। বিএনপি  নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালানো হচ্ছে এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিএনপি নেতাকর্মী নয়, কারো বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে পুলিশ অবশ্যই তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাবে। এটা কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়।  তিনি বলেন, ভোটাররা চাইলে একটি কেন্দ্রে ডিভিএম ব্যবহার করা হবে। এছাড়া একটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরাও বসানো হবে।
পরে বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা রংপুর জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে সিটি করপোরেশন  নির্বাচনে মেয়র, কাউন্সিলর ও মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার। প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কাউন্সিলর, মহিলা কাউন্সিলর ও মেয়ররা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে।
বিএনপি প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা বলেন, এ সরকারের আমলে যত নির্বাচন হয়েছে তার কোনটি সুষ্ঠু হয়নি। তারা কেন্দ্র দখল করে নিয়েছে। তাই তিনি রংপুর সিটি নির্বাচনেও সে আশংকা করছেন। এজন্য নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবি জানাই। তিনি  বলেন, সব প্রার্থীর জন্য সমান আচরণবিধি হতে হবে।  
জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, নির্বাচনে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই মন্তব্য করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তারা যদি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি সিটি এলাকায় ৬টি নির্বাচনী অফিস দিতে হবে। ভোটের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোট গণনা ও ফলাফল দিতে হবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন নেই বলে তিনি জানান।
রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ বলেন, নির্বাচন কমিশন আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন সিটি নির্বাচন যাতে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। তার নির্দেশ মতো আমরা তাই করবো। এজন্য যা যা প্রয়োজন আমরা তাই করব। তিনি বলেন, ৪ হাজার পুলিশ মোতায়েন থাকবে নির্বাচনে।  
বিভাগীয় কমিশনার কাজী হাসান আহমেদ বলেন, রংপুর সিটি নির্বাচন হবে একটি মডেল নির্বাচন। এখানে পক্ষপাতিত্যের কোন প্রশ্নই আসে না। তিনি বলেন, সিটি নির্বাচন শতভাগ অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে।
নির্বাচন কমিশনের সচিব হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজারে নানা গুজব টেনশন দূর করতে আমরা এসেছি। তিনি বলেন, রংপুরের মাটি ভালো মানুষের ঘাঁটি। তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমরা শক্ত অবস্থানে রয়েছি। তিনি বলেন, ১৯৩টি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং ও সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে যদি কারো বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব ও কাজে গাফিলতির অভিযোগ আসে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, রংপুর সিটি নির্বাচন হবে অন্যান্য সিটির জন্য পথিকৃৎ নির্বাচন। তিনি সকল  প্রার্থীদের প্রতি নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। রংপুর নির্বাচন হবে উৎসবমুখর নির্বাচন। আমরা সকলে মিলে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দেবো। তিনি প্রার্থীদের দাবির বিষয়ে বলেন, সিটি এলাকায় মেয়র প্রার্থীরা ৬টি নির্বাচনী অফিস করতে পারবেন। তিনি কেন্দ্রে ভোট গণনা এবং ফলাফল দেয়ার কথাও জানান। তিনি বলেন, কেউ যদি নির্বাচনী আইন না মানেন তাহলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  তিনি নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, কারো বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিটি নির্বাচন নিয়ে রংপুর উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে বলেও তিনি জানান।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

ম্যানহাটন হামলায় আটক ব্যক্তি বাংলাদেশি?

২৯ রোহিঙ্গা নারীর মুখে ধর্ষণযজ্ঞের বর্ণনা

বাংলাদেশের দুই নেত্রীর লড়াইয়ের ইতি

বাড়ির পাশে ম্যারাডোনা

আওয়ামী লীগকে হারানোর মতো কোনো দলই নেই

৩ দিনের সফরে ফ্রান্স গেলেন প্রধানমন্ত্রী

৫০ শতাংশের বেশি মানুষ মানসম্পন্ন সেবা পায় না

বিএনপি’র পিন্টু না টুকু নতুন প্রার্থীর খোঁজে আওয়ামী লীগ

তন্নতন্ন করে খুঁজেও বিদেশে সম্পদের অস্তিত্ব মেলেনি

ঢাকা-রংপুর ফাইনাল আজ

জনগণের মুখোমুখি রসিক মেয়র প্রার্থীরা

‘যাদেরকে টিফিন খাওয়ালো তারাই হত্যা করলো’

ওয়াসা আর ফ্লাইওভারে লণ্ডভণ্ড চট্টগ্রামের সব সড়ক

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ এক সপ্তাহ স্থগিত

বাকেরগঞ্জে সাবেক এমপি মাসুদ রেজার ভাই গুলিবিদ্ধ

কংগ্রেসের নতুন প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী