মোমিন হত্যা মামলা

বিচারিক আদালতের রায় হাইকোর্টে বহাল

শেষের পাতা

স্টাফ রিপোর্টার | ৮ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার
রাজধানীর কাফরুলে কলেজছাত্র কামরুল ইসলাম মোমিন হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), কারাগারে থাকা আসামিদের আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে গতকাল বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি  মোস্তফা জামান ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। ২০১১ সালের ২০শে জুলাই ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এ মামলার রায়ে মতিঝিল থানার সাবেক ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) একেএম রফিকুল ইসলামসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছিল। বিচারিক আদালতের ওই রায়ের পর ওসি রফিক কারাবন্দি অবস্থায় ২০১৫ সালের ২২শে ডিসেম্বর মারা যান। বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য দুজন হলেন সাখাওয়াত হোসেন জুয়েল ও তারেক ওরফে জিয়া। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- হাবিবুর রহমান তাজ, ঠোঁট উঁচা বাবু, মনির হাওলাদার, হাসিবুল হক জনি, জাফর আহমেদ ও শরিফ উদ্দিন। গতকাল হাইকোর্টের রায়ে সাখাওয়াত হোসেন  জুয়েল ও তারেক ওরফে জিয়ার মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রয়েছে। এছাড়া ৬    জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়ও বহাল রয়েছে হাইকোর্টের রায়ে। আর ওসি রফিক মৃত্যুবরণ করায় তার সাজা অকার্যকর হয়ে গেছে বলে জানান এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেয়া সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। তিনি বলেন, এই মামলায় আসামিদের বিচারিক আদালতের দেয়া সাজার রায় বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। তবে, মৃত ব্যক্তি যেহেতু সাজা ভোগ করে না তাই ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩১ ধারায় ওসি রফিকের সাজা অকার্যকর হয়ে গেছে। গতকাল রায়ের প্রতিক্রিয়ায় মোমিনের ভাই সামছুল ইসলাম সুমন বলেন, আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। আশা করি আপিল বিভাগে এ রায় বহাল থাকবে। তিনি বলেন, কয়েকজন আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। পলাতকদের গ্রেপ্তার করে দণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা দ্রুত কার্যকর করা হোক। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে কারাগারে থাকা হাবিবুর রহমান তাজ ও ঠোঁট উঁচা বাবু হাইকোর্টে আপিল করেছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজনসহ বাকি ছয় আসামি এখনো পলাতক বলে জানান তারা। এ মামলায় গত ১২ই নভেম্বর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, একেএম তৌহিদুর এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী শফিকুর রহমান কাজল।
ঢাকা কমার্স কলেজের শিক্ষার্থী কামরুল ইসলাম মোমিন জাসদ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর শাখার সহ-সভাপতি ছিলেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, বাড়ির সীমানা বিরোধের জের ধরে ২০০৫ সালের ১৩ই সেপ্টেম্বর রাজধানীর উত্তর ইব্রাহিমপুরে বাসার সামনে খুন করা হন কলেজছাত্র মোমিনকে। এ ঘটনায় মোমিনের বাবা আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ওসি রফিকসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বশির আহমেদ জানান, এ মামলায় দুইবার তদন্ত শেষে ওসি রফিককে বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়া হলে বাদী এর বিরুদ্ধে নারাজি পিটিশন দাখিল করেন। পরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের নির্দেশে একজন মহানগর হাকিম এ হত্যা মামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করেন। পরে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওসি রফিককে অন্তর্ভুক্ত করে ২০০৮ সালে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
২০০৯ সালের ৫ই অক্টোবর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এ অভিযোগ গঠনের পর আসামিদের বিচার শুরু হয়। পরবর্তীতে মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ এ স্থানান্তর করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২০১১ সালের ২০শে জুলাই রায় ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে ওসি রফিকসহ তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। পরে বিচারিক আদালতের দেয়া রায়ের ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ এক সপ্তাহ স্থগিত

বাকেরগঞ্জে সাবেক এমপি মাসুদ রেজার ভাই গুলিবিদ্ধ

বিরাট-আনুশকার বিয়ে সম্পন্ন

কংগ্রেসের নতুন প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী

কলকাতায় ডিয়াগো ম্যারাডোনা, খেলবেন ফুটবল

আওয়ামী লীগকে হারানোর মতো দল নেই: জয়

কুমিল্লাকে হারিয়ে রংপুর ফাইনালে

স্বর্ণের দাম কমেছে

‘আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি করি’

১৫টি পদের ১৪টিতেই আওয়ামীপন্থীদের জয়

ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশ

রাজধানীতে গলাকাটা লাশ উদ্ধার

অতিরিক্ত সচিব হলেন ১২৮ জন

ভুয়া ডাক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

এবি ব্যাংক চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে দুদকে তলব