রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় সকল গুম সংঘটিত হচ্ছে: বিএনপি

দেশ বিদেশ

স্টাফ রিপোর্টার | ৮ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার
রাষ্ট্রের সহায়তায় সকল গুম সংঘটিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, সারা দেশে নিখোঁজ বা বেআইনি গুম আতঙ্ক থামছেই না। সমাজের সকল স্তরের মানুষ আজ কেউই নিরাপদ নয়। দেশ যেন এখন হালছাড়া জাহাজের মতোই লক্ষ্যভ্রষ্ট। ক্ষমতা বিকৃতি যখন কদর্য হয়ে ওঠে তখন জনসমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে সইতে হয় বিভীষিকাময় নির্মমতা।
এবার রাজধানী থেকে নিখোঁজ হয়েছেন ভিয়েতনামে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। এ ঘটনায় তার মেয়ে ধানমন্ডি থানায় ডায়েরি করলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। রিজভী বলেন, পরিবারের সদস্যরা মারুফ জামানকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে মঙ্গলবার সকালে ধানমণ্ডি থানায় জিডি করেন। সারা দেশে সামপ্রতিক সময়ের আলোচিত নিখোঁজের সর্বশেষ গুররুত্বপূর্ণ ঘটনা এটি। একজন ব্যক্তি অপরাধী হলে তার আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হতে পারে, যেটি হবে প্রকাশ্য নিয়মমাফিক পদ্ধতিতে। কিন্তু সেই ব্যক্তিকে অদৃশ্য করে দেয়া হলে তা হবে ভয়ঙ্কর অপরাধ। বর্তমানে রাষ্ট্রের ছত্রছায়ায় এ সকল গুম সংঘটিত হচ্ছে। যা ক্ষমাহীন ও মানবতাবিরোধী ঘৃণ্য অপরাধ। রিজভী বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ছাত্র ও সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অনেক মানুষের আর খোঁজ মিলছে না। সামপ্রতিক সময়ে এমন ঘটনার প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে গেছে। তাই এ নিয়ে দেশব্যাপী বিরাজ করছে এখন চরম এক আতঙ্ক। পরিস্থিতি এমন যে, কেউ এখন ঘর থেকে বের হলেই গুম হয়ে যাওয়ার ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত্র থাকেন। তিনি বলেন, নিখোঁজের এসব ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জড়িত বলে অভিযোগ করছেন নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দিকে আঙুল তুলে ভুক্তভোগী এসব পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, তারা তাদের পরিচয় পত্র না দেখিয়েই জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যান। কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, কেন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তার উত্তরও তারা দেন না। তুলে নিয়ে যাওয়ার পরেই পরিবারের ওই সদস্যের সন্ধানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারস্থ হলেও আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় না। এমন অভিযোগ তুলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন আচরণের কারণেই বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া নিখোঁজের এসব ঘটনাগুলোর শিকার ব্যক্তিরা সহসা ফিরে আসতে পারেন না। রিজভী বলেন, সামপ্রতিক সময়ে প্রতি মাসেই রাজধানী থেকে কোনো না কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিখোঁজ হয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে গণমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলছেন, ‘অনেকে ইচ্ছা করেই আত্মগোপনে গিয়ে সরকারকে বিব্রত করছেন।’ রিজভী বলেন, গুমকে বৈধতা দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য স্বীকারোক্তিমূলক। অতএব তার বক্তব্যেই প্রমাণিত হয়- এবারের আওয়ামী সরকারের আমলে সকল গুমের জন্য সরকারই দায়ী।
সরকারবিরোধীদের প্রতি অন্ধ হিংস্রতা থেকেই সরকারের বিকৃত রুচির পশুপ্রবৃত্তির বহি:প্রকাশ হচ্ছে বেআইনি গুম।

বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বেসিক ব্যাংকে দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারির বিষয়টি জনসম্মুখে স্পষ্ট হয়ে উঠলেও ক্ষমতাসীন দলের লোকেরা জড়িত থাকায় দুদক বরাবরই সেটি এড়িয়ে গেছে। বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারী নিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৭টি মামলা হলেও মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার ব্যাংক লুটপাটে জনগণের অর্থ আত্মসাতের কথা জাতির সামনে তুলে ধরলেও সরকার বরাবরই তাতে কর্ণপাত করেনি। রিজভী বলেন, উচ্চ আদালতের নির্দেশে এখন নতুন করে দুদক বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করায় প্রমাণ হয় আমরা বারবার যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছিলাম তা ছিল তথ্যমূলক। সর্বমহলে একটি কথা রটনা আছে- সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের লোকদের আত্মীয়স্বজনরা এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত। শুধু বেসিক ব্যাংক নয়, রাজকোষ কেলেঙ্কারিসহ সমস্ত আর্থিকখাতে যে লুটপাট হয়েছে তার পিছনে সরকারের রাঘববোয়ালরা জড়িত। ব্যাংক লুটের লাখ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়ে গেলেও দুদক এসব বিষয়ে নির্বিকার। কিন্তু জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। লুটেরাদের একদিন জনতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতেই হবে।
বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়েরের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, দলের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি নবীউল্লাহ নবী, আরিফুল ইসলাম আরিফ, সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, যুগ্ম সম্পাদক রবিউল আলম রবি, এমএ হান্নান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির প্রচার সম্পাদক ভিপি হানিফ ও ২০ ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি জাহিদ হোসেন নোয়াবের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এছাড়া বুধবার নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে ঢাকা মহানগর বিএনপি নেতা নাদিম ও জাহাঙ্গীর আলম সনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেপ্তারদের মুক্তির দাবি করেন তিনি।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন