রোহিঙ্গা সংকট: দ্বিপক্ষীয় সংলাপ ও আলোচনার তাগিদ চীনের

দেশ বিদেশ

কূটনৈতিক রিপোর্টার | ৮ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সংলাপ ও আলাপ-আলোচনাতেই জোর দিলেন ঢাকা সফরকারী চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সিনিয়র নেতা (সহকারী মন্ত্রী) ওয়াং ইয়াজুন। এ ইস্যুতে বেইজিংয়ের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করলেন তিনি। যদিও বাংলাদেশের তরফে বরাবরই রোহিঙ্গা সংকট দ্রুত সমাধানে চীনের সহায়তা বিশেষ করে মিয়ানমারের ওপর চীনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। কিন্তু চীন তার অবস্থান থেকে এক চুলও নড়েনি। তারা এ ইস্যুর দ্বিপক্ষীয় সমাধান চায়। এ নিয়ে বিশ্বাঙ্গনে যে আলোচনা বা সমালোচনা চলছে তার ঘোর বিরোধী বেইজিং।
সংকট সমাধানে মিয়ানমারের ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগেরও বিরুদ্ধে চীনের অবস্থান। সদ্য সমাপ্ত চীনের জাতীয় কংগ্রেস নিয়ে ঢাকায় এক ব্রিফিংয়ের আয়োজন করে দেশটির দূতাবাস। সোনারগাঁও হোটেলে গতকালের ওই ব্রিফিংয়ে সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ব্রিফিং অনুষ্ঠানে চীনের সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুন ছাড়াও সফরকারী চীনা কংগ্রেসের সদস্যরা কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ফারুক খান এমপি। তিনি তার বক্তৃতায় রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে চীনের সহায়তা কামনা করেন। বলেন, চীন এ অঞ্চলের শান্তির পক্ষে কথা বলেন। রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশের জন্যই নয়, গোটা এশিয়ার শান্তির জন্য দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। অতিথিদের বক্তৃতা শেষে উন্মুক্ত সেশনের এক প্রশ্নের জবাবে চীনা সহকারী মন্ত্রী বলেন, শান্তির জন্য রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান চায় চীন। আর এ জন্যই বেইজিং বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে দ্বিপক্ষীয় সংলাপ ও আলোচনাতে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছে। এর আগে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন চীনের সহকারী মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার ইকোনমিক করিডোর নির্মাণের জন্য মিয়ানমারকে সহযোগিতা করতে রাজি করানোর জন্য চীনের সহযোগিতা চান। হোটেল সোনারগাঁওয়ের সুরমা হলের ওই বৈঠকে দেশটির সহকারী মন্ত্রী ওয়াং ইয়াজুন ছাড়াও দেশটির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মহাপরিচালক জাং সুয়ে, পরিচালক হু জিয়াওদং, তান উই ও মি এবং ফু উইরাং উপস্থিত ছিলেন। ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অ্যাম্বাসেডর মোহাম্মদ জমির, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওছার উপস্থিত ছিলেন।
জাসদ ও বাম নেতাদের সঙ্গে বৈঠক: এদিকে চীনের সহকারী মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, বাংলাদেশ এক চীন নীতি ও চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ নতুন উদ্যোগের দৃঢ় সমর্থক। সেই সঙ্গে সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত শান্তিপূর্ণ বিশ্বায়ন এবং গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক পথে উন্নয়নশীল দেশগুলোর উন্নতি ও বৈষম্যমুক্ত সমৃদ্ধিতে বিশ্বাসী বাংলাদেশ।
জাসদ ও বাম নেতাদের সঙ্গে চীনা প্রতিনিধি দলের ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী ছাড়াও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার, জাসদ প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন