২৩ বছরেও চলাচলের উপযোগী হয়নি তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়ক

বাংলারজমিন

এম এ রাজ্জাক তাহিরপুর, (সুনামগঞ্জ) থেকে | ৮ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বাণিজ্যকেন্দ্র বাদাঘাট বাজার থেকে তাহিরপুর সদর পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়ক গত ২৩ বছরেও যানচলাচলের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ একাধিকবার সড়কটি যানচলাচলে উপযোগী করার লক্ষ্যে টেন্ডার দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বছরের পর বছর গচ্ছা যাচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা। তাহিরপুর উপজেলা সদরের সঙ্গে তিনটি ইউনিয়ন ও ৩টি শুল্ক বন্দরের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘ ২৩ বছরেও যান চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় এলাকার দেড় লাখ মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে। জানা যায়, তাহিরপুর উপজেলা সদর থেকে বাদাঘাট বাজারের সড়কের দূরত্ব ৮ কিলোমিটার। এই সড়ক দিয়ে বাদাঘাট, উত্তর বড়দল, উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রতিদিন একমাত্র সড়কটি দিয়ে উপজেলা সদরের সঙ্গে যাতায়াত করে থাকে। তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৩ সালে প্রথম এলজিইডি তাহিরপুর বাদাঘটা সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১-১২ অর্থ বছর পর্যন্ত সড়কে ৬ কিলোমিটার পাকাকরণ করা হয়। ৬ কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণ করা হলেও এখন পর্যন্ত সদর ইউনিয়নের বৌলাই নদীর ব্রিজ থেকে পূর্ব দিকে সূর্যেরগাঁও গ্রাম পর্যন্ত আধা কিলোমিটার, টাকাটুকিয়া ব্রিজের দু’দিকের এপ্রোচে আরও আধা কিলোমিটার এবং বাদাঘাট ইউনিয়নে হোস্নার ঘাট থেকে পাতারগাঁও এলাকা পর্যন্ত এক
কিলোমিটার সড়ক এখনো পাকাকরণ করা হয়নি। ফলে কাঁচা সড়ক দিয়েই মানুষকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। সমপ্রতি সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বৌলাই নদীর ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক থেকে পূর্ব দিকে আধা কিলোমিটার সড়ক বিভিন্ন স্থানে ভাঙা। এই ভাঙা সড়ক পথ পেরিয়ে একট উত্তর দিকে এগুলে চোখে পড়ে কাকাতোয়া সেতু। সেতুর উত্তর পাশে এপ্রোচে মাটি নেই, বাঁশের ছোট একটি ছাটাই দিয়ে কোনোরকম সংযোগ স্থাপন করে পথচারীরা চলাচলা করছেন। একই সড়কের একটু উত্তর দিক থেকে আবারো ভাঙা শুরু পাতারগাঁও পর্যন্ত এক কিলোমিটার। কোথাও সামান্য ভাঙা, আবার কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। হেমন্তে কোনো রকম জোড়াতালি দিয়ে সড়কটি মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করা হলেও বর্ষায় সড়ক পথটি একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ভোগান্তিতে পরতে হয় তিন ইউনিয়নের দেড় লাখ মানুষের। তাহিরপুর জয়নাল আবেদীন কলেজের অধ্যক্ষ ফনীভূষণ সরকার জানান, সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় কলেজের শিক্ষার্থীসহ শতাধিক গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন।
উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, সড়কটি
চলাচলের উপযোগী না থাকায় বিশেষ করে বর্ষাকালে আমাদের এলাকার লোকজন মারাত্মক কষ্ট করে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকে। তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল বলেন, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা না থাকায় সড়কটি এখনো চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব হয়নি। তবে, তারা চেষ্টা করছেন সড়কটি চলাচলের উপযোগী করার জন্য। তাহিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. আলমগীর হোসেন জানান, পাহাড়ি ঢলের পানির স্র্রোতে পাতারগাঁও অংশটি বছরে বছরে ভেঙে যায়। এখানে একাধিক ব্রিজ দিয়েও এ সমস্যা সমাধান করা যাচ্ছে না। তিনি আশা করেন, চলতি বছর এ সড়কটি যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ এক সপ্তাহ স্থগিত

বাকেরগঞ্জে সাবেক এমপি মাসুদ রেজার ভাই গুলিবিদ্ধ

বিরাট-আনুশকার বিয়ে সম্পন্ন

কংগ্রেসের নতুন প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী

কলকাতায় ডিয়াগো ম্যারাডোনা, খেলবেন ফুটবল

আওয়ামী লীগকে হারানোর মতো দল নেই: জয়

কুমিল্লাকে হারিয়ে রংপুর ফাইনালে

স্বর্ণের দাম কমেছে

‘আওয়ামী লীগ নেতার নির্দেশে ছাত্রলীগ নেতাকে গুলি করি’

১৫টি পদের ১৪টিতেই আওয়ামীপন্থীদের জয়

ফি বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্দোলনে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন

নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধির গেজেট প্রকাশ

রাজধানীতে গলাকাটা লাশ উদ্ধার

অতিরিক্ত সচিব হলেন ১২৮ জন

ভুয়া ডাক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

এবি ব্যাংক চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে দুদকে তলব