আবার সরব হচ্ছে অডিও ইন্ডাস্ট্রি

বিনোদন

ফয়সাল রাব্বিকীন | ৮ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার
চলছে ডিসেম্বর মাস। বছর শেষ হতে আর বাকি মাত্র ২৪ দিন। চলতি পুরো বছরে একেবারেই অল্পসংখ্যক গান প্রকাশ পেয়েছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অডিও ইন্ডাস্ট্রি ছিল বেশ নীরব। অনেকটাই আসিফ ও ইমরাননির্ভর ছিল চলতি বছরটা। কারণ, এ দুই শিল্পীর গানই বেশি প্রকাশ হয়েছে।
জনপ্রিয়তার তকমাও পেয়েছে এই দুই সংগীত তারকার গান। বছরের প্রথম ও বড় চমক ছিল আসিফের ‘আগুন’ গানটি। এরপর বছরজুড়েই আসিফের গান শ্রোতাদের প্রাণ জুড়িয়েছে। পাশাপাশি ইমরানের বেশকিছু গানও শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে বছরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। যদিও হাবিব ওয়াহিদ, ন্যান্‌সি, কাজী শুভ, কনা, পূজা, মিলন, মিনার, ঐশীদের গানও বিচ্ছিন্নভাবে সফলতা পেয়েছে। তবে সার্বিক দিক বিবেচনায় অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা ভালো ছিল না। গত বছর যেখানে রেকর্ড সংখ্যক গান প্রকাশ পেয়েছে ও সফলতা পেয়েছে। সেখানে এ বছর রেকর্ডসংখ্যক কম গান প্রকাশ হয়েছে। বেশির ভাগ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানই বড় উৎসবগুলোতেও একেবারে হাতেগোনা গান প্রকাশ হয়েছে। আর উৎসবের বাইরে গান প্রকাশ হয়নি বললেই চলে। সব মিলিয়ে বেশ হতাশাজনক পরিস্থিতি গেছে এ বছরটা। তবে বছরের শেষ মাসে এসে নতুন মোড় নিয়েছে অডিও ইন্ডাস্ট্রি। আশার আলো দেখছেন সংগীতসংশ্লিষ্টরা। কারণ, ওয়েলকাম টিউন থেকে আয় একেবারেই কমে গিয়েছিল এ বছর। বছরের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানদের সংগঠন এমআইবি দফায় দফায় আলোচনায় বসেছে বিভিন্ন সেলফোন কোম্পানির সঙ্গে। যার ফলে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন অডিও সংশ্লিষ্টরা। আর তারই রেশ ধরে চলতি ডিসেম্বরে নতুন গানের কাজও বেড়েছে। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গানের রেকর্ডিং হচ্ছে এখন। ১৬ই ডিসেম্বর উপলক্ষে এরই মধ্যে নতুন গান প্রকাশ শুরু হয়েছে। ইংরেজি নববর্ষ
উপলক্ষেও প্রকাশ হবে বেশকিছু গান। আর আসছে ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে অডিও ইন্ডাস্ট্রি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছে। কারণ, এ উৎসবটিকে ঘিরে এরই মধ্যে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন নতুন গান তৈরির পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে এমআইবি সভাপতি ও লেজারভিশনের চেয়ারম্যান একেএম আরিফুর রহমান বলেন, আসলে চলতি বছরটা আমাদের জন্য খুব একটা ভালো ছিল না। পরিস্থিতিটা মিউজিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয়ই। আসলে ওয়েলকামটিউন থেকে শুরু করে সব দিক থেকেই একটা খরা চলছিল বলা চলে। তবে আমরা বিভিন্ন সেলফোন কোম্পানির সঙ্গে দফায় দফায় বসেছি। আলোচনা করেছি এ সমস্যা নিরসনে। আমার মনে হয়, নতুন বছর থেকে আমরা এর সুফল পেতে শুরু করবো। কারণ, এরকম নিথর অবস্থা কারোরই কাম্য নয়। এরই মধ্যে সরব হওয়া শুরু করেছে ইন্ডাস্ট্রি। এ বিষয়ে এমআইবির সাধারণ সম্পাদক ও সিএমভির কর্ণধার সাহেদ আলি পাপ্পু বলেন, খুব বাজে একটা সময় পার করেছি আমরা। এ বছরটা সুখকর ছিল না। যদিও আমরা ধৈর্য ধারণ করেছি। পাশাপাশি আলোচনা চালিয়ে গেছি এ সমস্যা নিরসনে। এর সুফলও আমরা পাবো। আমরা বছরের শেষে এসে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, নতুন বছরে অডিও ইন্ডাস্ট্রি আবার ঘুড়ে দাঁড়াবে। এদিকে অডিও ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা নিয়ে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী বলেন, আসলে অডিও ইন্ডাস্টির নিথর অবস্থা তো কারোরই কাম্য নয়। আমিও জেনেছি বিষয়টি। গত বছরটা বেশ ভালো ছিল অবস্থা। কিন্তু এ বছর খুব খারাপ গেছে। কোম্পানিগুলোও বিষয়টি জানিয়েছে। তবে তারাও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এ অবস্থা থেকে উত্তরণের। কারণ, ইন্ডাস্ট্রিটা আমাদের সবার। সুতরাং সবাইকেই ভাবতে হবে এ নিয়ে। আমার বিশ্বাস, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে। আর সচল হবে অডিও ইন্ডাস্ট্রির চাকা।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন