অয়ার অ্যান্ড টিয়ার সিরিজ

যে নারীরা আমাদের পোশাক বানায়

এক্সক্লুসিভ

মানবজমিন ডেস্ক | ৮ ডিসেম্বর ২০১৭, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৩৯
আরতি বালা দাস একজন ২০ বছর বয়সী বাংলাদেশি পোশাক শ্রমিক। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ধসে তিনি তার মা ও নিজের ডান পা হারান। অন্যদিকে একরি বেল ল্যাসিটার নর্থ ক্যারোলিনার একজন ৮৯ বছর বয়সী বাসিন্দা। তিনি সেখানকার রোয়ানোক র‌্যাপিডস কারখানায় খালি হয়ে যাওয়া সুতার গুটি পাল্টানোর কাজ করেন। সমপ্রতি তিনি নিজের প্রথম ব্যক্তিগত গাড়ি কিনেছেন। নিজের জন্য ভাড়া নিয়েছেন একটি রুম।
এরা বিশ্বের লাখ লাখ পোশাক শ্রমিকদের দু’জন। যারা প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষের কাপড় তৈরি করে চলেছেন।
বর্তমানে বৈশ্বিক পোশাক শিল্পের মোট মূল্য ৩ লাখ কোটি ডলার, যা বৈশ্বিক জিডিপি’র প্রায় ২ শতাংশ। আর বাংলাদেশের মতন কিছু দেশের জন্য পোশাক শিল্পই হচ্ছে তাদের প্রধান রপ্তানি খাত। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে এই শিল্প। কম মজুরি ও সবচেয়ে কম দামে ফ্যাব্রিক (বুনন) তৈরি করার প্রতিযোগিতা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই শিল্পের সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মচারীই নারী। কিছু নারীর জন্য পোশাক শিল্প হচ্ছে একটি সুযোগ, স্বাধীনতা। নর্থ ক্যারোলিনায় দরিদ্রতার মধ্যে দিয়ে বড় হওয়া ল্যাসিটার বলেন, ‘আমার বাবা আমাদের কখনোই কিছু দেননি। আমরা মেয়েরা তার কাছ থেকে কখনোই কোনো অর্থ পাইনি।’ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তিনি রোয়ানক র‌্যাপিডস পোশাক কারখানায় যোগ দেন। তিনি বলেন, এটা বেশ পরিশ্রমের কাজ ছিল। কিন্তু অর্থ উপার্জন করা আর নিজের দায়িত্ব নিতে পারায় ভালো লাগতো।’ তবে সবার ভাগ্য আর দৃষ্টিভঙ্গি ল্যাসিটারের মতো নয়। অনেককে এই কাজ কোর্টে গিয়ে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। উপরে বর্ণিত আরতি তেমন একজন। এমন আর একজন হচ্ছেন রচানা সাসম্যান। লস এঞ্জেলসের একটি গোপন কারখানায় কাজ করতেন তিনি। সেখানে তাকে, নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে আটকে রাখা হয়। কখনো কখনো তিনি নিজের বান্ধবীদের কাছে ফিসফিস করে বলতেন, ‘আমাদের একদিন এখান থেকে পালাতে হবে।’ তবে পালানোর দরকার পড়েনি তার। সেখানে দেড় বছর কাটানোর পর কর্তৃপক্ষ তাকে ও তার সহকর্মীদের উদ্ধার করে। পাবলিক রেডিও ইন্টারন্যাশনালের ওয়ার এন্ড টিয়ার সিরিজে এমন নারীদের কথাই ওঠে এসেছে।
দরিদ্র ও গ্রামীণ এলাকা থেকে নারী নিয়োগ দেয়ার ইতিহাস
বহু দেশের জন্য পোশাক শিল্প হচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যোগ দেয়ার একটি সহজ রাস্তা। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ডেলওয়ারের ফ্যাশন ও পোশাক প্রোগ্রাম বিষয়ক সহকারী অধ্যাপক সেং লু বলেন, ‘বিশ্বের ইতিহাসে এই প্যাটার্ন আমরা বহুবার দেখেছি। যেমন, ১৯৫০ সালে চীন নয়, জাপান পোশাক রপ্তানিতে রাজত্ব করতো। এরপর ধীরে ধীরে তারা পোশাক ও তন্তু তৈরির দিকে ঝুঁকতে থাকে। পাশাপাশি টিভি ও ইলেকট্রনিক অন্যান্য অত্যাধুনিক পণ্য তৈরি করা শুরু করে।’ পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে শুধু কাপড় কাটা ও সেলাই করাই বেশ পরিশ্রমসাধ্য কাজ। কিন্তু এর জন্যে খুব বেশি পুঁজির দরকার পড়ে না- অন্যান্য শিল্পের যন্ত্রপাতির তুলনায় একটি সেলাই মেশিনের দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম। যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক কারখানা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ টিমোথি মিনকিন বলেন, ‘এই কাজ বহু নারীর জন্যে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এই শিল্প প্রথম যাত্রা শুরু করে নিউ ইংল্যান্ডে, আঠারো ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে। তখন এতে কাজ করার জন্য মূলত তরুণ নারীদের নিয়োগ দেয়া হয়। তারা খামারের কাজ বাদ দিয়ে পোশাক তৈরি করা শুরু করে। নিয়োগ প্রদানকারীরা তাদের বেশি মজুরি দেয়ার লোভ দেখিয়ে নিয়ে আসে। তারা নিজেদের জন্য মজুরি হিসেবে নগদ অর্থ পেত। তা নিজেদের বাড়িতে পাঠাতো আর নিজেরা থাকতো বোর্ডিং হাউজে। এক সময় নিউ ইয়র্কে এর উৎপাদন শুরু হয়। তখন অভিবাসী পরিবারের তরুণীরা সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ১৯৫০ সালের দিকে পোশাক শিল্প, বিশেষ করে নিউ ইয়র্কে বেশ সংগঠিত শিল্প হয়ে দাঁড়ায় বলে জানান ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার সমাজবিজ্ঞানী জেনিফার বেইর। তিনি বলেন, যদিও সাধারণত পোশাককর্মীরা নারী ছিল আর তাদের বেশিরভাগই কোনো অভিবাসী পরিবার থেকে আগত ছিল- মজুরি আসলে অনেক বেশিই ছিল।
চাকরি নেই
১৯৭৩ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক শিল্প জমজমাট হয়ে ওঠে। মিনকিনের গবেষণা অনুসারে, তৎকালীন সময়ে এই শিল্পের করমচারির সংখ্যা ছিল ২৪ লাখ। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, ১৯৯৬ সালে এসে সেই সংখ্যা কমে হয় ১৫ লাখ। আর ২০১২ সালে এসে পোশাক শিল্পের কর্মচারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮৩ হাজারে। ৪০ বছরে হারিয়ে যায় ২০ লাখ চাকরি। এর পেছনে বেশ কিছু কারণ রয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে কিছু কোমপানি বিদেশে কম মজুরির শ্রমিক খোঁজা শুরু করে ও সেখানে বিনিয়োগ করে। তবে সবচেয়ে বড় কারণ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু নতুন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তিতে স্বাক্ষর ও পুরনোগুলোর সময়সীমা শেষ হওয়া। লু বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক শিল্প সংশ্লিষ্ট চুক্তির সংখ্যা হচ্ছে ১৪টি। কিন্তু বেশিরভাগ কোম্পানিই ওই চুক্তিগুলো নিজেদের লাভের জন্য ব্যবহার করতে পারে না।
অতিরিক্ত সরবরাহ
সেং লু জানান, গত ১৫ বছরে বিশ্বের জনসংখ্যা ২১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, বৈশ্বিক রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১২৩.৪ শতাংশ। তিনি বলেন, ‘আপনি কল্পনা করতে পারবেন না এই প্রতিযোগিতা কতটা তীব্র। বাজারে আমাদের সরবরাহকারীর সংখ্যা প্রচুর। অনেক বেশি দেশ পোশাক তৈরি করতে চায় ও রপ্তানি করতে চায়। এই অতিরিক্ত সরবরাহ একটি বিশাল সমস্যা। আর এটি ধীরে ধীরে আরো খারাপ পরিস্থিতির দিকে এগুচ্ছে।’ লু পোশাক শিল্পকে উড়োজাহাজের সঙ্গে তুলনা করে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘কতগুলো দেশের উড়োজাহাজ রয়েছে? মাত্র গুটিকয়েক কোম্পানির- বোয়িং, এয়ারবাস ইত্যাদি। কিন্তু এমন একটি দেশের নাম বলুন তো যেটি পোশাক বানায় না? এরকম কোনো দেশ নেই।
প্রাণঘাতী রানা প্লাজা ধস
২০১৩ সালের ২৩শে এপ্রিল আরতি বালা দাস একটি সেলাই মেশিনে কাজ করছিলেন। আচমকা তিনি বড় ধরনের জোরালো আওয়াজ শোনেন। তিনি বলেন, পুরো ভবনটি কেঁপে ওঠে। তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা (সুপারভাইজর) সবাইকে পালাতে বলে। ভবনের ভেতর আরতি’র পা ফসকে পড়ে যাওয়ার অভ্যাস ছিল। তাই তাকে যখন পালাতে বলা হলো, তিনি তখন তার জুতোজোড়া খুঁজছিলেন। কিন্তু তার সুপারভাইজার আবার বললো- সব ছেড়ে শুধু পালাও। আরতি সব ছেড়ে দৌড় দেন। কিছুদূর গিয়েই পা ফসকে উল্টে পড়েন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিন দিনের জন্য চাপা পড়েন রানা প্লাজার ধ্বংসাবশেষের নিচে। তারপরেও আরতি ভাগ্যবতী। কারণ ওই ঘটনায় ১ হাজার ১০০’র বেশি কর্মচারী প্রাণ হারান। কিন্তু তিনি বেঁচে যান। রানা প্লাজায় কয়েকটি কারখানা চালু ছিল। পাশাপাশি কিছু দোকান ও একটি ব্যাংক কার্যরত ছিল। নিউ ইয়র্ক টাইমস অনুযায়ী, নকশার চেয়ে ভবনে চারটি তোলা বেশি ছিল। ধসে পড়ার আগের দিনই ভবনে ফাটল দেখতে পাওয়া যায়। দোকানপাট ও ব্যাংক বন্ধ ছিল। কিন্তু পোশাক কারখানার মালিকরা তাদের শ্রমিকদের কাজে আসতে বাধ্য করে। বিশ্বের ইতিহাসে, সবচেয়ে প্রাণঘাতী পোশাক তৈরি কারখানা বিপর্যয়ের ঘটনা এটি। যে ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১২৯ জন মানুষ। আহত হয়েছেন ২ হাজার ৫০০’র বেশি।
এরই ঘটনা বাংলাদেশের আমেরিকান ও ইউরোপিয়ান ক্রেতাদেরও অবাক করে তোলে। রানা প্লাজা ইউনাইটেড কালারস বেনেট্টন, বনমার্চে, দ্য চিলড্রেনস প্লেস, এল কর্তে ইঙ্গলেস, মুনসুন এক্সেসরিজ, ম্যাঙ্গো, মাতালান, প্রিমার্ক ও ওয়েইমার্টের জন্য কাপড় তৈরি করতো। এই মর্মান্তিক ঘটনার চারদিন পর ভবনের মালিক সোহেল রানা’কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয় তাকে। তবে সে সাজা তিনি পান শুধু দুর্নীতি দমন কমিশনকে তার ব্যক্তিগত সমপদের হিসাব দিতে না পারায়। ভবন ধস নিয়ে তার বিরুদ্ধে আনীত খুনের মামলার বিচারকার্য পিছিয়ে দেয়া হয়েছে ও উচ্চ আদালতের কাছে আপিলও করা হয়েছে। এই বিপর্যয় শেষে বাংলাদেশের কারখানার মান ভালো করে তুলতে দুটি নতুন পদক্ষেপ নেয়া হয়। বাংলাদেশের ভবন নিরাপত্তা ও আগুন সম্বন্ধীয় চুক্তি এবং বাংলাদেশের শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য গঠিত জোট। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০০ ব্র্যান্ড এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে যাদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি সেই আমেরিকান ব্র্যান্ডের অনেকগুলোই স্বাক্ষর করেনি। এখন পর্যন্ত জোটে যোগ দেয়া আমেরিকান ব্র্যান্ডের সংখ্যা মোট ২৯টি। কিন্তু চুক্তি হচ্ছে আইনিভাবে বাধ্যতামূলক সমঝোতা আর জোট হচ্ছে শুধুই একটি কর্পোরেট পদক্ষেপ। উভয় পদক্ষেপই বাংলাদেশি কারখানাগুলোতে অগ্নি নির্বাপক, বাইরে যাওয়ার রাস্তা, কাঠামোগত সত্যতা ইত্যাদি বিষয় খতিয়ে দেখার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে কিছু শিক্ষাবিদের মতে, বাংলাদেশে এমন কারখানার সংখ্যা ৭ হাজার আর এই নিরাপত্তা পরিদর্শনের আওতায় রয়েছে মাত্র ১ হাজার ৯০০ কারখানা। এছাড়া এই বিষয়েও প্রশ্ন তোলা যায় যে, এমন পরিদর্শন আসলে কতটা প্রভাব ফেলেছে? ২০১৪ সালে নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
আরতি বালা দাস রানা প্লাজা ধসের একজন শিকার হিসেবে সরকার থেকে কিছু ভাতা পান। তার পা নেই। এই অবস্থায় তার পক্ষে কাজ করা কঠিন। আর তিনি কাজ করতেও চান না। তিনি বিশ্বাস করেন, এখনো কিছুই পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, আমার শিশুকে আমি কখনোই কোন পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করতে দেব না।
বৈশ্বিক বাজারে পরিবর্তন
অধ্যাপক সেং লু বিশ্বাস করেন পরিবর্তন সম্ভব। এই পরিবর্তনের কিছুটা আসবে ভোক্তাদের মাধ্যমে আর কিছুটা আসবে নীতিমালার মাধ্যমে। তিনি বলেন, ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপে একটি ধারা ছিল যেটি ভিয়েতনামে পোশাক শ্রমিকদের কাজ করার পরিবেশের উন্নতি ঘটানোর দিকে জোর দিতো। বাংলাদেশ, আমেরিকান ও ইউরোপিয়ান বাজারের জন্যও এরকম পদ্ধতি ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি ভোক্তাদের চাপও থাকতে হবে। এতে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসবে।
(পাবলিক রেডিও ইন্টারন্যাশনালে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্ত অনুবাদ।)

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

তাবিথ আউয়ালই ডিএনসিসির উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী

ফের টেস্ট অধিনায়ক সাকিব

দুই বছর ওএসডি ছিলেন মারুফ জামান

সারা দেশ গুম-খুনে জর্জরিত

শেখ হাসিনা সফটওয়্যার পার্কের যাত্রা শুরু

চালের দাম ফের বাড়ছে

কুড়িগ্রামে মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা

আওয়ামী লীগে প্রার্থীর ছড়াছড়ি নির্ভার বিএনপি

সিলেটে শামীমের বিরুদ্ধে রুমার মামলা, তোলপাড়

আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাপা প্রার্থীর ভাবনা

এবি ব্যাংক চেয়ারম্যানসহ ৪ জনকে দুদকে তলব

আড়াইহাজারের এমপির সঙ্গে মাওলানা হাবিবুরের বাগবিতণ্ডার ভিডিও ভাইরাল

রাবি চারুকলা অনুষদের সেই ডিনের পদত্যাগ

সাভারে জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধসহ আহত ৯

সাকিব ফের বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক

এমপি মুক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইসিকে দুদকের চিঠি